ব্রেকিং নিউজ
বাংলা

আপডেট নভেম্বর ২১, ২০১৯

ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৭ অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ , হেমন্তকাল, ১৪ রবিউস-সানি, ১৪৪১

সম্পাদকীয় কাটা ঘায়ে নুনের ছিটা!

কাটা ঘায়ে নুনের ছিটা!

নিরাপদ নিউজ : নুন আমাদের খাবারকে যতোই সুস্বাদু করুক না কেনো, তা যখন কাটা ঘায়ে লাগে, তখন তার জ্বালা সেই বুঝে, যার লেগে থাকে! পেঁয়াজের দামবৃদ্ধিতে সরকার যখন নাকানি-চুবানি খেয়ে ক্ষতবিক্ষত। ঠিক এই মুহূর্তে সেই ক্ষতে লবণ ছিটা পড়লো! পেঁয়াজ, চালের পর এবার দাম বৃদ্ধির ভেলকি দেখালো লবণ! একদিনের ব্যবধানে লবণের দাম কেজিতে বেড়ে যায় ১০০ টাকা পর্যন্ত। কিন্তু বিষয় হলো, মধ্যমশ্রেণির একটি পরিবারে মাসে সর্বোচ্চ ১ থেকে দেড় কেজি লবণ লাগতে পারে। সেখানে দাম বৃদ্ধির গুজব শুনেই একেকজন ১০ থেকে ২০ কেজি করে লবণ কেনার কথা সংবাদ মাধ্যমে জানা যায়। হুজুগে এসব লবণ ক্রেতারা কী ভাতের সাথে লবণ, নাকী লবণের সাথে ভাত খাবেন?

এটা নেহায়েত বোকামি বলেই আমরা মনে করি। প্রয়োজনের অতিরিক্ত কিছু করলেই অস্বাভাবিক পরিস্থিতি তৈরি হবে। বিভিন্ন সময়ে নানা ঘটন-অঘটনে প্রমাণ হয়েছে, দেশের কতিপয় মানুষের হুজুগের কোনো সীমা নেই। নীতি-নৈতিকতা, দয়া-মায়া, বুঝ-ব্যবস্থা, ন্যায়-অন্যায় সব কিছুকেই ছাড়িয়ে যাওয়া হয়। হুজুগে ঝাপিয়ে পড়ার কারণে নিজেতো সমস্যায় পরে, অন্যদেরও সমস্যায় ফেলে দেয়া হয়। সামগ্রিক পরিস্থিতিতে দেশে লবণ বিপণনকারী শীর্ষ ৪ কোম্পানির প্রতিনিধিগণ সংবাদ মাধ্যমকে জানিয়েছেন, ‘দেশে লবণের কোনো ঘাটতি নেই; বরং বাড়তি লবণ নিয়ে লবণচাষি ও কোম্পানিগুলো বিপাকে আছেন। দাম বাড়ার আশঙ্কা পুরোটাই গুজব।’

বর্তমানে ফেসবুক হচ্ছে গুজব তৈরির কারখানা! যারা এটা ব্যবহার করে দেশে শান্তি ও স্থীতিশলীতা নষ্ট করতে চায়, তাদের বিরদ্ধে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে। জানা গেছে, গত সোমবার সিলেটে প্রথম লবণ সংকটের গুজব ছড়ানো হয় ফেসবুকের মাধ্যমে। ফলে সন্ধ্যার পর থেকেই শহরের বিভিন্ন দোকানে লবণ কেনার হিড়িক পড়ে যায়। এরপর থেকেই দেশের বিভিন্ন জায়গায় লবণের দাম বৃদ্ধির গুজব ছড়ানোর অভিযোগ পাওয়া গেছে। এই সুযোগে অসাধু ব্যবসায়ীরা অধিক মুনাফা লাভের চেষ্টা করছে। খোদ রাজধানী ঢাকাতেও লবণ সঙ্কটের গুজব ছড়িয়ে পড়ে। ফলে বিভিন্ন বাজার ও মহল্লার দোকানে লবণ কেনায় হিড়িক পড়ে যায়। এই সুযোগে অনেক দোকানি দাম বাড়িয়ে দেয় বলে অভিযোগ পাওয়া যায়। ৩০ থেকে ৩৫ টাকা কেজির লবণ কোথাও কোথাও ১০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়।

আমরা দেখেছি, পেঁয়াজ এবং চাল নিয়ে যেটা হয়েছে, সেটা অনেকটাই সিন্ডিকেটের কারসাজি। তবে লবণের দাম বৃদ্ধি হয়েছে পুরোই গুজবে ভর করে। মানুষ কতটা গুজব ছড়াতে পারে? আর কতিপয় মানুষ যে কতটা গুজবে বিশ্বাসী লবণের দাম বৃদ্ধিতেই তা প্রমাণ হয়েছে। নানা পণ্যের মূল্যবৃদ্ধিতে বরাবরই সর্বমহল থেকে সরকারকে দায়ী করা হয়। কিন্তু এক্ষেত্রে ক্রেতারও অন্যায় আছে, কোনো কোনো ক্ষেত্রে ক্রেতাও দায় এড়াতে পারে না বলে আমরা মনে করি।

পাঠকের মন্তব্য: (পাঠকের কোন মন্তব্যের জন্য কর্তৃপক্ষ কোন ক্রমে দায়ী নয়)