ব্রেকিং নিউজ
বাংলা

আপডেট ফেব্রুয়ারী ১২, ২০২০

ঢাকা সোমবার, ৫ ফাল্গুন, ১৪২৬ , বসন্তকাল, ২১ জমাদিউস-সানি, ১৪৪১

রাজনীতি, লিড নিউজ খালেদা জিয়াকে সরকার পরিকল্পিত মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিচ্ছে: মির্জা ফখরুল

খালেদা জিয়াকে সরকার পরিকল্পিত মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিচ্ছে: মির্জা ফখরুল

শফিক আহমেদ সাজীব,নিরাপদ নিউজ: বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, যখনই বিএনপিকে ধ্বংস করতে চেয়েছে বিএনপি ফিনিক্স পাখির মতো আবারও জেগে উঠেছে। কারণ জনগণ বিএনপিন সঙ্গে আছে। বিএনপি ইজ দ্যা পার্টি অব পিউপল।বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে সরকার পরিকল্পিতভাবে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিচ্ছে বলে মন্তব্য করে বলেন, সারাদেশে ৩৫ লাখ বিএনপির নেতাকর্মীকে আসামি করা হয়েছে। যখন যেভাবে পারছে হত্যা করছে, গুম করছে জুডিসিয়াল কিলিং করছে।বিএনপি গণতন্ত্রের অধিকার আদায় থেকে দূরে থেকে যায়নি।নিবাচনে অংশ নেওয়াকে আমরা এই মুহুতে সবচেয়ে বড় গণতান্ত্রিক আন্দোলন বলে মনে করি।

তিনি বলেন, এ সরকার জুলুম নির্যাতন, লুটপাট, অব্যবস্থা পাকিস্তানী হানাদার বাহিনীকে হার মানিয়েছে। জনগণের ভোটাধিকার ও বাকস্বাধীনতা কেড়ে নিয়ে তারা ৭৫ এর মত আবার দেশে বাকশাল কায়েম করতে চায়। বেগম খালেদা জিয়াকে পরিকল্পিত মৃত্যুর দিকে সরকার ঠেলে দিচ্ছে দাবি করে।

ফখরুল বলেন, বেগম খালেদা জিয়া খুবই অসুস্থ। বিছানা থেকে তিনি উঠতে পারেন না, দাঁড়াতেও পারেন না। ডায়াবেটিস বেড়ে গিয়েছে। তাকে সরকার পরিকল্পতভাবে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

তিনি বলেন,বিএনপির কোনও দল নয়, বিএনপির জনসমর্থন নেই এরকম বলে বেড়ানো মন্ত্রীরা প্রতিদিনই বিএনপির কথা বলেন। আচ্ছা আমরা জনপ্রিয় না হলে, আপনারা প্রতিদিন আমাদের কথা বলেন কেন। আমাদের নিয়ে এত টেনশন কেন।

বিএনপির মহাসচিব গতকাল মঙ্গলবার বিকেল চারটায় নগরীর কাজীর দেউড়িস্থ নাসিমন ভবনের দলীয় কার্যালয় চত্বরে নগর বিএনপির অঙ্গসংগঠন ও সহযোগী সংগঠনের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির নেতৃবৃন্দের সাথে মতবিনিময় হওয়ার কথা থাকলেও দলীয় নেতাকর্মীদের ব্যাপক অংশগ্রহণে এ সভা জনসভাতে রূপ নেয়। দুপুরের পর বিভিন্ন এলাকা থেকে নেতা কর্মীরা মিছিল নিয়ে সমাবেশ আসতে থাকে। নেতা কর্মীদের মুখে মুখে ছিল দেশনেত্রীর মুক্তির শ্লোগান।

চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সভাপতি ডা. শাহাদাত হোসেনের সভাপতিত্বে মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবুল হাসেম বক্কর এর পরিচালনায় অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান বক্তা ছিলেন কেন্দ্রিয় বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক (চট্টগ্রাম বিভাগ) মাহবুবের রহমান শামীম। বক্তব্যা রাখেন কেন্দ্রীয় শ্রমবিষয়ক সম্পাদক এ এম নাজিম উদ্দিন, দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি জাফরুল ইসলাম চৌধুরী, বিএনপির সদস্য ব্যারিস্টার মীর হেলাল, নগর বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি ও দক্ষিণ জেলার আহ্বায়ক আবু সুফিয়ান প্রমুখ।

অনেক হাইব্রিড নেতা, মন্ত্রী-এমপি আছে। এই চট্টগ্রামে ও একজন গুরুত্বপূণ মন্ত্রী আছেন, যিনি অনেক বড় বড় কথা বলেন, খুব কথা বলেন। মুক্তিযুদ্ধ নিয়েও কথা বলেন। আরে, মুক্তিযুদ্ধের সময় কি আপনার জন্ম হয়েছিল ?
সরকার ক্ষমতায় টিকে আছে বন্দুকের জোরে।

তিনি বলেন,বেগম খালেদা জিয়াকে বেআইনিভাবে সাজা দেওয়া হয়েছে। এই রায় চূড়ান্ত হয়নি, তিনি এখনও জামিন পাবার যোগ্য। এদেশে অনেক মন্ত্রী-এমপির সাজা হয়েছিল, কিন্তু মন্ত্রীত্ব টিকে ছিল।

মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, মহিউদ্দিন খান আলমগীরেরও সাজা হয়েছিল। এমনকি ইয়াবা সম্রাট বদিরও সাজা হয়েছিল। তারা জামিন পেয়েছেন অথচ বেগম খালেদা জিয়াকে জামিন দেওয়া হচ্ছে না। সরকারের একটাই ভয়, যদি খালেদা জিয়া মুক্তি পান, তাহলে এই অন্যায়ভাবে হত্যা-নিযাতন করে ক্ষমতা আঁকড়ে আছে, লুটপাট করছে সেটা করতে পারবে না। কিন্তু এদেশের জনগণ কখনোই এই অন্যায় মেনে নেবে না।

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়ে ফখরুল বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশগ্রহণের বিষয়ে আমাদের একটা সিদ্ধান্ত আছে। সেই সিদ্ধান্তের কোনো পরিবর্তন হয়নি। নির্বাচনে অংশ নেওয়াকে আমরা এই মুহূর্তে সবচেয়ে বড় গণতান্ত্রিক আন্দোলন বলে মনে করি।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ধারাবাহিকভাবে আমরা নির্বাচনে অংশ নিচ্ছি। অনেকে আমাদের প্রশ্ন করেন, সাংবাদিকরাও বলেন, আপনারা নির্বাচনে যাচ্ছেন কেন? আমরা বলি, বিএনপি একটি উদারপন্থী গণতান্ত্রিক দল। আমরা নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতার পরিবর্তনে বিশ্বাস করি। আমরা মনে করি, নির্বাচন ছাড়া ক্ষমতা পরিবর্তনের অন্য কোনো পথ নেই, হওয়া উচিত নয়। সে কারণেই আমরা সব নির্বাচনে অংশ নিই।

আমরা আমাদের দলকে জনগণের সঙ্গে আরও বেশি করে সম্পৃক্ত করতে চাই। আমরা মনে করি, জনগণকে ঐক্যবদ্ধ করেই এই ফ্যাসিস্ট সরকারের পতন ঘটাতে হবে।

তিনি বলেন এই আওয়ামী লীগ কিন্তু কেয়ারটেকার সরকারের দাবি নিয়ে এসেছিল। তারা আন্দোলন-সংগ্রাম করেছিল, হরতাল করেছিল। জনগণের দাবি আমরা মেনে নিয়েছিলাম, কেয়ারটেকার সরকার ক্ষমতায় এসেছিল। কিন্তু তারা ২০০৮ সালে ক্ষমতায় আসার পর থেকে তাদের গদি রক্ষার জন্য কেয়ারটেকার সরকারের বিধান তুলে দিয়েছে। পর্যায়ক্রমে স্বৈরাচারকে সহযোগিতা করে সংবিধানে এমন সব আইন সংযোজন করে।

যারা বিএনপি করেন, অঙ্গসংগঠন করেন, কখনোই হতাশ হবেন না। আপনাদের ওপর নির্যাতন হচ্ছে, প্রতিনিয়ত নির্যাতন হচ্ছে, প্রচণ্ড নির্যাতন হচ্ছে, খুন করছে, গুম করছে, তারপরও আপনারা কিন্তু মাথা নোয়াননি। হার স্বীকার করেননি। সেজন্য বলছি, হতাশা কখনো আপনাদের আসল জায়গায় পৌঁছে দেননি। বিএনপির দিকে মানুষ আশা নিয়ে তাকিয়ে আছে। বিএনপি আন্দোলন শুরু করবে, সেই আন্দোলনের মধ্য দিয়ে তাদের নেত্রীকে মুক্ত করবে এবং বাংলাদেশে গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনবে।
বেগম খালেদা জিয়াকে জেলে রেখে, আমাদের নেতাকমীদের হত্যা করে, মামলা দিয়ে জেলে পুরে, গুম করে এই দেশের দেশপ্রেমিক মানুষকে দাবিয়ে রাখতে পারবেন না। আজ সরকারের অবস্থা কি হয়েছে ? একটা নতজানু সরকারে পরিণত হয়েছে। সরকার নিজের গদি টিকিয়ে রাখার জন্য যখন যে যা-ই হুকুম দিচ্ছে, সেটাই মেনে নিচ্ছে। আমাদের সীমান্তে ভারত প্রতিদিন মানুষ হত্যা করে, সরকারের প্রতিবাদ করার সাহস হয় না। আমরা নদীতে পানি পায় না, সরকার ভারতের কাছ থেকে পানি আনতে পারে না। প্রতিবছর ২৬ হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচার হয়ে যাচ্ছে আর এই সরকার ভ্যাটের জন্য ব্যবসায়ীদের ওপর নির্যাতন করছে।

পাঠকের মন্তব্য: (পাঠকের কোন মন্তব্যের জন্য কর্তৃপক্ষ কোন ক্রমে দায়ী নয়)