ব্রেকিং নিউজ
বাংলা

আপডেট ১ মিনিট ৫৩ সেকেন্ড

ঢাকা রবিবার, ৬ মাঘ, ১৪২৬ , শীতকাল, ২৩ জমাদিউল-আউয়াল, ১৪৪১

কৃষি, খুলনা খেজুর রস সংগ্রহে ব্যস্ত যশোরের শার্শার গাছিরা

খেজুর রস সংগ্রহে ব্যস্ত যশোরের শার্শার গাছিরা

জাহিরুল মিলন, নিরাপদ নিউজ: খেজুর রস কার না ভালো লাগে। শীতকাল আসলেই খেজুরের রসে চারিদিক মৌ মৌ করে। শীতে ছেলে কিংবা বুড়ো সকলের প্রিয় পছন্দের তালিকায় থাকে খেজুরের রস। তারই ধারাবাহিকতায় যশোরের শার্শা উপজেলায় শুরু হয়েছে খেজুরের রস সংগ্রহের কাজ। ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছে অত্র এলাকার গাছিরা।
যশোরের লোকের মুখে প্রবাদ আছে ‘যশোরের যশ খেজুরের রস’। বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চল বিভিন্ন কারনে বিখ্যাত। যশোর খেজুর রস ও গুড়ের জন্য বিখ্যাত। এমনকি যশোরের খেজুরের গুড় বিদেশেও রপ্তানি করা হচ্ছে।
আমরা দেখেছি একসময় দিগন্তজুড়ে মাঠ কিংবা সড়কের দুপাশে সারি সারি অসংখ্য খেজুর গাছ চোখে পড়ত। কালের বিবর্তনে হারিয়ে যেতে বসেছে খেজুর গাছ। শীত মৌসুমের আগমনী বার্তার সঙ্গে সঙ্গে গ্রামবাংলার ঐতিহ্য খেজুর গাছের রস সংগ্রহে ব্যস্ত সময় পার করছেন সারাদেশের ন্যায় শার্শা উপজেলার গাছিরা।
বাংলাদেশ বৈচিত্র্যপূর্ণ ছয় ঋতুর দেশ। প্রতিটি ঋতুরই রয়েছে নিজস্ব বৈশিষ্ট্য ও রং। শীতের আগমনে প্রকৃতি সাজে এক নতুন সাজে। এই ঋতুতেই দেখা মেলে শীতের কুয়াশা ঘেরা সকাল। এই শীতের সময়ই পাওয়া যায় সুস্বাদু পানীয় খেজুর গাছের রস। শীতের সকালে মিষ্টি রোদে বসে এই সুস্বাদু খেজুর গাছের রস পানের মজাই যেন আলাদা। শীতের ভরা মৌসুমে রস সংগ্রহের জন্য শীতের আগমনের শুরু থেকেই রস সংগ্রহের প্রতিযোগিতায় মাতে গাছিরা।
শীতের শুরু হয়েছে কিন্তু তেমন শীত পড়া এখনো শুরু হয়নি। শীতের দেখা না মিললেও এরই মধ্যে খেজুর রস সংগ্রহের কাজ শুরু করে দিয়েছেন অনেকেই। গাছ সংকটের কারণে প্রতিবছরের মতো এ বছরও চাহিদা অনুযায়ী রস পাওয়া যাবে না বলে আশঙ্কা করেছে গাছিরা। একসময় এলাকার প্রতিটি বাড়িতে, ক্ষেতের আইলের পাশে ও রাস্তার দুই ধার দিয়ে ছিল অসংখ্য খেজুর গাছ দেখা যেতো। খেজুর গাছ সচারাচর উপযোগী আবহাওয়ায় জন্মে। সারা বছরে এই একটি ঋতুতেই শুধুমাত্র খেজুর গাছের কদর বাড়ে।
শীতের পুরো মৌসুমে চলে রস, গুড়, পিঠা, পুলি ও পায়েস খাওয়ার পালা। এ ছাড়া খেজুর পাতা দিয়ে আর্কষণীয় ও মজবুত পাটি তৈরি হয়। এমনকি জ্বালানি কাজেও ব্যাপক ব্যবহার হয়। কিন্তু জলবায়ু পরিবর্তন, কালের বির্বতনসহ বন বিভাগের নজরদারি না থাকায় গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী পরিবেশবান্ধব খেজুর গাছ এখন বিলুপ্তির পথে।
শার্শা উপজেলার বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শনে দেখা যায় যে, শার্শার প্রায় সব খেজুর গাছে পাতিল পাতা হয়েছে। আর এই দেখে বোঝা যায় যে শীতের সব থেকে মজাদার পানীয় খেজুর রসের আগমন ঘটেছে।
শার্শা উপজেলার শ্যামলাগাছি গ্রামের তাহাজ্জদ হোসেনের সাথে কথা বললে তিনি বলেন, শীত মৌসুমের প্রথম দিকে আমি খেজুর গাছের রস সংগ্রহের কাজ করে থাকি। এজন্য গাছ পরিস্কারসহ অনেক কাজ করতে হয় যা খুবই কষ্টসাধ্য। তবুও কিছু বাড়তি আয়ের উদ্দেশ্যে খেজুর গাছের রস সংগ্রহ করে থাকি। তারপর কাঁচা রস বিক্রির পাশাপাশি এই রস থেকে পাটালি ও ঝোলা গুড় তৈরি করে বাজারে বিক্রি করি। যদিও কাচা রসের কদর একটু বেশি এখানে।
বেনাপোলের খেজুর রস সংগ্রহকারী গাছি জাহিদুল ইসলাম বলেন, বেনাপোলে শীত মৌসুমে গাছিরা খেজুরের রস সংগ্রহে ব্যস্ত হয়ে পড়ে। এসময় তাদের একমাত্র আয়ের উৎস থাকে খেজুরের রস, গুড় বিক্রি। বেনাপোলে একসময় প্রচুর পরিমানে খেজুর গাছ দেখা গেলেও বর্তমানে খেজুর গাছ হারিয়ে যেতে বসেছে, হয়তো-বা একসময় আমাদের এলাকা থেকে খেজুর গাছ নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে। এই ঐতিহ্যকে ধরে রাখতে চাইলে আমাদের সবার বেশি করে খেজুর গাছ লাগানো এবং তা যত্ন সহকারে বড় করা। যদি আমরা আমাদের এই হাজার বছরের ঐতিহ্যকে আগামী প্রজন্মের জন্য ধরে রাখতে চাই তাহলে এই কাজে আমাদের সবার এগিয়ে আসা উচিত।
শার্শা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সৌতম কুমার শীল বলেন, আমরা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ থেকে বেনাপোল-শার্শা উপজেলার বিভিন্ন সড়কের দুই ধার দিয়ে খেজুরের গাছ লাগানোর জন্য কৃষকদের পরামর্শ দিচ্ছি। খেজুর গাছ ফসলের কোনো ক্ষতি করে না। এই গাছের জন্য বাড়তি কোনো খরচ করতে হয় না। যা সকলের রস ও গুড়ের চাহিদা মেটাবে। এ বছর সঠিক সময়ে শীতের আগমণ হওয়াতে শার্শা উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে আগাম খেজুর গাছ পরিস্কার শুরু হয়েছে। শার্শা উপজেলাতে যে পরিমান রস আহরণকারী খেজুর গাছ রয়েছে সেখান থেকে কৃষকরা খেজুরের রস সংগ্রহ করবে এবং তা থেকে বিভিন্ন ধরনের মিষ্টি পণ্য তৈরি করবে এবং যা নিকটস্থ বাজারে বিক্রি করে তারা ব্যাপকভাবে লাভবান হবেন বলে তিনি আশাবাদী।
শীতে খেজুর রস সংগ্রহের জন্য গাছিদের উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিস থেকে কোন সাহায্য সহযোগীতার প্রয়োজন হলে আমরা তাদের জন্য সব ধরনের সার্বিক সহযোগীতা করবো বলে শার্শা কৃষি সম্প্রসারণ অফিসের সহকারি কৃষি কর্মকতা তরুন কুমার বালা বলেন।

পাঠকের মন্তব্য: (পাঠকের কোন মন্তব্যের জন্য কর্তৃপক্ষ কোন ক্রমে দায়ী নয়)