ব্রেকিং নিউজ
বাংলা

আপডেট ৩১ সেকেন্ড

ঢাকা সোমবার, ১২ ফাল্গুন, ১৪২৬ , বসন্তকাল, ২৯ জমাদিউস-সানি, ১৪৪১

চট্টগ্রাম, ব্যবসা-বাণিজ্য চট্টগ্রামে জেলে পল্লীতে আনন্দের বন্যা: ঝাঁকে ঝাঁকে ইলিশ ধরা পড়লেও দাম নাগালের বাইরে

চট্টগ্রামে জেলে পল্লীতে আনন্দের বন্যা: ঝাঁকে ঝাঁকে ইলিশ ধরা পড়লেও দাম নাগালের বাইরে

শফিক আহমেদ সাজীব,নিরাপদ নিউজ:  চট্টগ্রামের জেলে পল্লীতে ইলিশ আনন্দের বন্যা বইছে। গভীর সমুদ্রে জেলেদের জালে ঝাঁকে ঝাঁকে রূপালি ইলিশ ধরা পড়ায় চট্টগ্রামের ১০ হাজার জেলে পরিবারের মুখে এখন হাসি। তবে এত ইলিশ ধরা পড়লেও বাজারে ইলিশের দাম অনেকটা সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে। নগরীর কাট্টলী ও আনন্দবাজারের জেলেরা ১ কেজির উপরের প্রতিমণ ইলিশ বিক্রি করছেন ৩৩ হাজার (প্রতি কেজির দাম পড়ছে প্রায় সাড়ে ৮শ’ টাকার মত) টাকায়। আর ১ কেজির নিচের মাছ বিক্রি হচ্ছে প্রতিমণ ২৮-২৯ হাজার টাকায়। হালিশহর আর আনন্দবাজারের এসব ইলিশের দাম (১ কেজির উপরে) নগরীর বাজারগুলোতে এসে কেজি প্রতি আড়াইশ টাকা বেড়ে যাচ্ছে। গত দুইদিনে নগরীর পাথরঘাটা নতুন ফিশারীঘাট, হালিশহর আনন্দবাজার ও কাট্টলী সমুদ্র উপকূলে গিয়ে দেখা গেছে, জেলেদের চোখে মুখে আনন্দের ঝিলিক। ট্রলারে ট্রলারে নামছে ইলিশ। নগরীর ফিরিঙ্গী বাজার মৎস্য অবতর কেন্দ্রসহ পুরো ফিশারীঘাট এলাকা এখন রাতদিন সরগরম হয়ে উঠেছে। মৎস্য বিভাগ জানিয়েছে, এ মাসেই নদ-নদীতেও ইলিশ ধরা পড়বে। পাথরঘাটা নতুন ফিশারী ঘাট এলাকার দীর্ঘদিনের বনেদী মৎস্য ব্যবসায়ী আবদুল মোনাফ জানান, কোরবানের ঈদের পর থেকে সাগরে জেলেদের জালে প্রচুর ইলিশ পড়ছে। তবে দাম কম। ফিরিঙ্গী বাজারে আড়তে আজকে প্রতিমণ ইলিশ (১ কেজির উপরে) বিক্রি হয় ৩৭ থেকে ৩৮ হাজার টাকায়। ১ কেজির নিচের সাইজের প্রতিমণ ইলিশ বিক্রি হয়েছে ৩৪ হাজার টাকায়। একই সাইজের ইলিশ কাট্টলী এবং আনন্দ বাজারে বিক্রি ৩২ হাজার (১ কেজির উপরের ইলিশ) থেকে ২৮-২৯ হাজার (১ কেজির নিচে) টাকায়। কারণ হিসেবে আবদুল মোনাফ জানান, ফিরিঙ্গী বাজারের মাছ আড়তে তুলতে হয়। এখানে ভাড়া দিতে হয়। অপরদিকে আনন্দবাজার এবং কাট্টলীর মাছ আড়তে তুলতে হয়না। সাগর থেকে কূলে তুলার সাথে সাথে বাজারে নিয়ে যাওয়া যায়। চট্টগ্রামে বিশেষ করে নগরীর হালিশহর, আনন্দবাজার, জেলেপাড়া ও জেলার উপকূলীয় উপজেলা সীতাকুণ্ড, বাঁশখালী, আনোয়ারা, সন্দ্বীপ ও মিরসরাইয়ের প্রায় ১০ হাজারের বেশি জেলে পরিবারের জীবন-জীবিকা সাগরে মাছ ধরা ও বেচাবিক্রির উপরই নির্ভর করছে।

কাট্টলী উপকূলীয় জেলা পাড়ার সজল সর্দ্দার জানান, বিভিন্ন উপকূলীয় সীমানায় কিংবা নদীতে জাল ফেললেই জালে ধরা পরছে ঝাঁকে ঝাঁকে রুপালি ইলিশ। এভাবে যদি আশ্বিন মাস পর্যন্ত ইলিশ পাওয়া যায় তাহলে মহাজন ও বিভিন্ন উৎস থেকে জেলেরা যে ঋণ নিয়েছেন তা পরিশোধ করে ভালো ভাবেই চলতে পারবে জেলে পরিবার গুলো। সকালে ফিরিঙ্গী বাজার ঘাটে পাথরঘাটার হরিলাল জলদাস জানান, গত ১০ বছরের তুলনায় এবার সবচেয়ে বেশি ইলিশ পাওয়া যাচ্ছে। একই কথা জানালেন কাট্টলী উপকূলে ট্রলারে করে ইলিশ নিয়ে আসা মোহন বাশি জলদাসও। তিনি জানান, এবারের ইলিশ গুলো বেশ পরিপক্ষ (বড়সড়)। নদী ও সাগরের মোহনায় জাল ফেললেই একেকটি জালে ১০০-২০০ ইলিশ ধরা পড়ছে। নগরীর ফিশারি ঘাটে দেখা গেছে, ইলিশ ভর্তি নৌকা নিয়ে সাগর থেকে ফিরছে জেলেরা। ফিশারিঘাট থেকে ইলিশ পাঠানো হচ্ছে দেশের বিভিন্ন স্থানে। ছোট-বড় সব আকারের ইলিশ পাওয়া যাচ্ছে ঘাটে। তবে ফিশারী ঘাট এলাকায় ইলিশের দাম কাট্টলী ও আনন্দ বাজার থেকে বেশি। এখানে প্রতি কেজি ইলিশ ৯শ’ টাকার মতো। সাগরে বিগত কয়েক বছরের তুলনায় বেশি ইলিশ ধরা পড়ছে বলে জানান স্থানীয় জেলেরা। সোনালি মৎস্যযান সমবায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম বাবুল সরকার জানান, চট্টগ্রামে ১০ হাজারের অধিক নৌকা-বোট রয়েছে মাছ আহরনে। চট্টগ্রাম মহানগরসহ ৫ উপজেলায় ২৫ হাজার নিবন্ধিত জেলে রয়েছেন। এখন সব নৌযান সাগরে মাছ ধরার কাজে ব্যস্ত। কেউ মাছ ধরে আসছে আবার যাচ্ছে। এখন মৌসুম বলা যায়। এতো দিন অলস বসেছিল।

পাঠকের মন্তব্য: (পাঠকের কোন মন্তব্যের জন্য কর্তৃপক্ষ কোন ক্রমে দায়ী নয়)