ব্রেকিং নিউজ
বাংলা

আপডেট ডিসেম্বর ১৪, ২০১৪

ঢাকা রবিবার, ৬ মাঘ, ১৪২৬ , শীতকাল, ২২ জমাদিউল-আউয়াল, ১৪৪১

বাণিজ্যিক রাজধানী সংবাদ, শিক্ষা চবিতে ছাত্রলীগের সংঘর্ষে নিহত ১, আটক ২৭

চবিতে ছাত্রলীগের সংঘর্ষে নিহত ১, আটক ২৭

chittagong_university_

চবি, ডিসেম্বর ১৪ ২০১৪, নিরাপদনিউজ : চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের মধ্যে কথাকাটাকাটিকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। উভয় গ্রুপের গোলাগুলির সময় গুলির আঘাতে তাপস সরকার নামে এক ছাত্রলীগ কর্মী নিহত হয়েছেন। আজ রবিবার বেলা ১২টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় চমেকে তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় আরো ৩জন আহত হয়। সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়া উভয় গ্রুপই নগর আওয়ামীলীগ সভাপতি এবিএম মহিউদ্দিনের অনুসারী।
জানা যায়, বুদ্ধিজীবি দিবসের ফুল দিয়ে আসার সময় ছাত্রলীগের ভিএক্স গ্রুপ ও সিএফসির কর্মীদের মাঝে বাকবিতন্ডা হয়। এ সময় উভয় গ্রুপের কর্মীদের মাঝে উত্তেজনা দেখা দেয়। দলীয় নেতাদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। পরবর্র্তীতে সকাল ১১টায় শাহ আমানত হলের সামনে ভিএক্সের কর্মীরা সিএফসির কর্মীদেরকে লক্ষ্য করে ইট, পাটকেল ছুড়তে থাকে। এতে উভয় পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এসময় সিএফসি শাহ আমানত হলের সামনে অবস্থান নেয় ভিএক্স শাহজালালের সামনে অবস্থান নেয়। এক পর্যায়ে উভয় গ্রুপের মাঝে গোলাগুলি হয়। এতে সিএফসি কর্র্মী তাপস সরকার পিঠে গুলিবিদ্ধ হয়। এছাড়া আরো ৩ জন আহত হয়। আহতরা হলেন চবি ছাত্রলীগের বিলুপ্ত কমিটির মানবসম্পদ বিষয়ক সম্পাদক আলাউদ্দিন আলম, উদ্ভিদ বিদ্যা বিভাগের ২০০৮-০৯ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী আল আমিন রিমন ও মৃত্তিকা বিজ্ঞান বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী সাব্বির হোসেন।
এদিকে ছাত্রলীগ কর্মীর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে ক্যাম্পসে উত্তেজনা দেখা দেয়।   উভয় গ্রুপ দেশীয় অস্ত্র সহ হলের সামনে অবস্থান নেই। এসময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ১০ রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছোড়ে পুলিশ।হাটহাজারী থানার অফিসার ইনচার্জ মো.ইসমাইল জানান, কথাকাটাকাটিকে কেন্দ্র করে ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষে হয়েছে। এতে একজন গুলিবিদ্দ হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
আটক : দুই গ্রুপের সংঘর্ষে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের এক কর্মীর মৃত্যুর পর শাহ জালাল ও শাহ আমানত হলে তল্লাশি  চালিয়েছে পুলিশ। তল্লাশি শেষে শাহজালাল হল থেকে পুলিশ ২৭ ভিএক্স কর্মীকে আটক করেছে।
সিন্ডিকেট সভা : এদিকে ক্যাম্পাসের উদ্ভুত পরিস্থিতিতে সন্ধা ৬টায় সিন্ডিকেট সভা ডেকেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এ ব্যাপারে নগর আওয়ামীলীগ সভাপতি এবি এম মহিউদ্দিন সাংবাদিকদের বলেন, অবিলম্বে সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে হত্যাকারীদের চিহ্নিত করে শাস্তির আওতায় আনতে হবে। নইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো পবিত্র জায়গায় হত্যাযজ্ঞ থামানো যাবে না।
বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের বিলুপ্ত কমিটির সহ সভাপতি অমিত কুমার বসুর অভিযোগ করে বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের প্রত্যক্ষ মদদে ছাত্রলীগ থেকে বহিস্কৃতি কিছু কর্মী আশরাফুজ্জামান আশা, জালাল, আরিফ, রুবেল, শফিক ও শুভ’র নের্তৃত্বে হামলা হয়। তিনি আরো বলেন যারা অবিলম্বে এ ঘটনার সাথে জড়িত তাদেরকে অবিলম্বে বিচারের আওতায় আনতে হবে।
তাপস সরকার : নিহত চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের তাপস সংস্কৃত বিভাগের প্রথম বর্ষের (২০১৩-২০১৪) ছাত্র। তাপস সরকারের বাড়ি সুনামগঞ্জ জেলার জামালগঞ্জ থানার বিষ্ণুপুর এলাকায়। তার বাবার নাম বাবুল সরকার। পাঁচ ভাইয়ের মধ্যে তাপস তৃতীয়। বড় ভাইয়ের কর্মসূত্রে তাপসের পরিবারের সকলেই নেত্রকোনা সদরের সাতপাই এলাকায় থাকেন বলে জানিয়েছে পরিবার সূত্র।
প্রসঙ্গত সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়া চবি ছাত্রলীগের বগিভিত্তিক সংগঠন দু’টিই ভার্সিটি এক্সপ্রেস ভিএক্স ও চুজ ফ্রেন্ড উইথ কেয়ার (সিএফসি) নগর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক মেয়র এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীর অনুসারী। গত কয়েকদিন হতে আমানত হলে সিএফসি কর্মীরা উঠাকে কেন্দ্র করে ভিএক্স ও সিএফসির কর্মীদের মাঝে কয়েকবার উত্তেজনা দেখা দেয়।-সংগৃহীত

পাঠকের মন্তব্য: (পাঠকের কোন মন্তব্যের জন্য কর্তৃপক্ষ কোন ক্রমে দায়ী নয়)