ব্রেকিং নিউজ
বাংলা

আপডেট ২০ মিনিট ০ সেকেন্ড

ঢাকা সোমবার, ৫ ফাল্গুন, ১৪২৬ , বসন্তকাল, ২২ জমাদিউস-সানি, ১৪৪১

চট্টগ্রাম চিকিৎসাসেবায় চট্টগ্রাম চক্ষু হাসপাতাল ও ইম্পেরিয়াল দেশের বড়: জাতীয় অধ্যাপক

চিকিৎসাসেবায় চট্টগ্রাম চক্ষু হাসপাতাল ও ইম্পেরিয়াল দেশের বড়: জাতীয় অধ্যাপক

শফিক আহমেদ সাজীব,নিরাপদ নিউজ: বর্ণাঢ্য আয়োজনে ৪৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন করেছে চট্টগ্রাম চক্ষু হাসপাতাল ও বাংলাদেশ জাতীয় অন্ধ কল্যাণ সমিতি। এ উপলক্ষে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ দেশি-বিদেশি ৮ জন বিশিষ্ট ব্যক্তি ও এক প্রতিষ্ঠানকে সম্মাননা দেয়া হয়েছে। গতকাল রোববার সন্ধ্যায় চট্টগ্রাম চক্ষু হাসপাতাল প্রাঙ্গণে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

সিইআইটিসি (চিটাগং আই ইনফারমারি এন্ড ট্রেনিং কমপ্লেক্স)’র ট্রাস্টির চেয়ারম্যান ও দৈনিক আজাদী সম্পাদক এম এ মালেকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন জাতীয় অধ্যাপক প্রফেসর ড. জামিলুর রেজা চৌধুরী। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ জাতীয় অন্ধ কল্যাণ সমিতির প্রতিষ্ঠাতা সেক্রেটারি ও সিইআইটিসি’র ম্যানেজিং ট্রাস্টি প্রফেসর ডা. রবিউল হোসাইন।

অনুষ্ঠানে সম্মাননা প্রাপ্ত বিশিষ্টজনদের মধ্যে রয়েছেন- জার্মানের রোজি গুলম্যান, সিডনি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ফ্রাঙ্ক বিলসন, শ্রীলঙ্কার ডা. আর পারারাজা সেগ্রাম, ভারতের তুলসীরাজ রাভিল্লা, বাংলাদেশের গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী, জাতীয় অধ্যাপক ব্রিগেডিয়ার (অব:) ডা. এম এ মালেক, সাবেক মন্ত্রী ডা. এম এ মতিন (মরণোত্তর) এবং সাবেক মন্ত্রী জহুর আহমদ চৌধুরী (মরণোত্তর)। আর প্রতিষ্ঠান হিসেবে সম্মাননা পেয়েছে অরবিস ইন্টারন্যাশনাল।


প্রধান অতিথি প্রফেসর ড. জামিলুর রেজা চৌধুরী সম্মাননা প্রাপ্তদের হাতে গোল্ড মেডেল ও সম্মাননা ক্রেস্ট তুলে দেন। সম্মাননা প্রদান উপলক্ষে যেন বিশিষ্টজনদের মিলনমেলায় রূপ নিয়েছিল প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর এ আয়োজন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সাবেক মন্ত্রী ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, প্রধানমন্ত্রীর সাবেক তথ্য উপদেষ্টা ইকবাল সোবহান চৌধুরী, একুশে পদকপ্রাপ্ত পিএইচপি ফ্যামিলির চেয়ারম্যান সুফি মিজানুর রহমান, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ডা. কনক কান্তি বড়ুয়া, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. শিরীণ আখতার, সাবেক উপাচার্য প্রফেসর ড. ইফতেখার উদ্দিন চৌধুরী, চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ীমী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাহাতাব উদ্দিন চৌধুরী, লায়ন গভর্নর কামরুন মালেক, প্রাক্তন লায়ন গভর্নর রূপম কিশোর বড়ুয়া, প্রাক্তন রোটারি গভর্নর অধ্যাপক তৈয়ব চৌধুরী ও অধ্যাপক ডা. তাহমিনা বানু প্রমুখ।
এর আগে সকালে ইমপেরিয়াল হাসপাতাল ঘুরে দেখেন ডেইলি স্টারের সম্পাদক ও প্রকাশক মাহফুজ আনাম, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য প্রফেসর ডা. প্রাণ গোপাল দত্ত, বিএফইউজের সাবেক সভাপতি মনজুরুল আহসান বুলবুল, ভোরের কাগজের সম্পাদক শ্যামল দত্ত, আমাদের নতুন সময়ের সম্পাদক নাঈমুল ইসলাম খান, সমকালের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মুস্তাফিজ শফি প্রমুখ। সম্পাদকদের অনেকেই রাতের অনুষ্ঠানেও অংশ নেন।

সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানের শুরুতে প্রায় দশ/পনের মিনিটের একটি ভিডিও ডকুমেন্টারির মাধ্যমে চক্ষু হাসপাতাল ও বিএনএসবি’র কার্যক্রম দেখানো হয়। পরে প্রধান অতিথির বক্তব্যে জাতীয় অধ্যাপক ড. জামিলুর রেজা চৌধুরী বলেন, ‘চিকিৎসা সেবায় চট্টগ্রাম চক্ষু হাসপাতাল ও নবনির্মিত অত্যাধুনিক ইম্পেরিয়াল হাসপাতাল চট্টগ্রাম তথা দেশের জন্য অনেক বড় অর্জন। চক্ষু হাসপাতালের ট্রাস্টি ও অন্ধকল্যাণ সমিতির অনেক অর্জন সম্পর্কে বিদেশের মানুষ জানলেও এদেশের মানুষ হয়তো অবগত নয়। চক্ষু হাসপাতাল ও অন্ধকল্যাণ সমিতি প্রতিষ্ঠার সাথে যারা জড়িত ছিলেন তাদের সবাইকে আমি অন্তর থেকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি। বিশেষ করে ডা. রবিউল হোসাইনের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।

এই প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে দেশের কয়েক লাখ মানুষ প্রতিবছর সেবা নিতে সক্ষম হচ্ছে। এছাড়াও কয়েক হাজার কর্মী এখান থেকে প্রশিক্ষণ গ্রহণের সুযোগ পাচ্ছেন। অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ অনুষ্ঠানে সম্মাননা প্রাপ্তদের অভিনন্দনও জানান তিনি। স্বাগত বক্তব্যে ডা. রবিউল হোসাইন বলেন, নিরাময়যোগ্য অন্ধত্ব প্রতিকারের লক্ষ্যে ১৯৭২ সালের এক বিকেলে বিএনএসবি (বাংলাদেশ জাতীয় অন্ধ কল্যাণ সমিতি)’র যাত্রা শুরু হয়। যাত্রাকালে এর তহবিল ছিল মাত্র ৩ হাজার ৬০০ টাকা। একশ ডলারের সমপরিমাণ। এখন এত বড় হাসপাতাল হয়েছে। পাশে ট্রাস্টের মাধ্যমে ৭০০ কোটি টাকার অত্যাধুনিক ইম্পেরিয়াল হাসপাতাল নির্মাণ করতে সক্ষম হয়েছি। আমাকে একদিন পৃথিবী থেকে বিদায় নিতে হবে, কিন্তু এসব প্রতিষ্ঠান রয়ে যাবে। সেবা দিয়ে যাবে। এটাই আমার পাওয়া।

সভাপতির বক্তব্যে ট্রাস্টির চেয়ারম্যান ও দৈনিক আজাদী সম্পাদক এম এ মালেক বলেন, এটি একটি ট্রাস্ট। আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে সেবা। যাদের হাত ধরে এই ট্রাস্টের যাত্রা শুরু হয়েছিল এবং যারা সার্বিক সহযোগিতা দিয়েছিলেন, তাদের সকলকে স্মরণের মাধ্যমে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে এম এ মালেক বলেন, যাত্রা লগ্নের অনেকেই আবার এখানেও উপস্থিত আছেন। তাদের উপস্থিতিতে আমরা সম্মানিত বোধ করছি।

তিনি বলেন, বর্তমানে এই প্রতিষ্ঠানের যে রূপ দেখা যাচ্ছে, তা যেন ডা. রবিউল হোসাইনের সন্তান। তিনি এখনো এই প্রতিষ্ঠানের জন্য ২৪ ঘন্টা শ্রম দেন। চক্ষু চিকিৎসা সেবা দিয়ে শুরু হলেও ট্রাস্টির মাধ্যমে সমপ্রতি আমরা অন্যান্য মেডিকেল সেবাও (ইমপেরিয়াল হাসপাতাল) চালু করতে সক্ষম হয়েছি। এর জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও ভারতের প্রখ্যাত চিকিৎসক দেবী শেঠীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন দৈনিক আজাদী সম্পাদক।

অনুষ্ঠানে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন ডা. নুরুল আমিন চৌধুরী। উপস্থিত ছিলেন প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন পরিষদের আহ্বায়ক প্রফেসর ডা. মনিরুজ্জামান ওসমানী, সদস্য সচিব ডাক্তার শামস মোহাম্মদ নোমান ও রাজিব হোসেন প্রমুখ। শেষে মনোমুগ্ধকর সাংস্কৃতিক পরিবেশনা উপভোগ করেন আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ।

পাঠকের মন্তব্য: (পাঠকের কোন মন্তব্যের জন্য কর্তৃপক্ষ কোন ক্রমে দায়ী নয়)