আপডেট ২৫ মিনিট ১ সেকেন্ড

ঢাকা রবিবার, ২৩ অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ , হেমন্তকাল, ১০ রবিউস-সানি, ১৪৪১

খুলনা, সড়ক সংবাদ ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে কোলা রাস্তার কালভার্ট ভেঙ্গে মরণ ফাঁদ, ঝুকি নিয়ে চলাচল করছে যানবাহন

ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে কোলা রাস্তার কালভার্ট ভেঙ্গে মরণ ফাঁদ, ঝুকি নিয়ে চলাচল করছে যানবাহন

শিপলু জামান,নিরাপদ নিউজ: ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে কোলাবাজার সড়কের বেহালদশা। এরপর মরার উপর খাড়া হয়ে দাড়িয়েছে কোলা পশ্চিমপাড়া ব্রিজটি প্রায় ২ মাস ধরে ভেঙ্গে গেলেও আজও সংস্কার করা হয়নি কালভার্টটি ভেঙ্গে মরণ ফাঁদে পরিণত হলেও সংস্কারের নেই তেমন উদ্যোগ । ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় চলাচল করছে যানবাহন ও সাধারণ মানুষ। ফলে সৃষ্ট খাদে পড়ে প্রতিদিনই ঘটছে ছোট বড় দুর্ঘটনা ।

কালীগঞ্জ উপজেলার ব্যস্ততম সড়কের মধ্যে অন্যতম কালীগঞ্জ -কোলা সড়কটির কোলা বাজারের নিকটে ব্রীজটির প্রায় অর্ধেক ভেঙ্গে বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নাকের ডগায় থাকলেও কোন লাভ হচ্ছে না স্থানীয় ভুক্তভোগীদের। এই কালভার্টটি কালীগঞ্জ উপজেলার কোলা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আয়ুব হোসেনের বাড়ির নিকটে। তারপরও দীর্ঘদিন ধরে ব্রিজটি মরন ফাদে পরিনত হলেও মেরামতের জন্য নেওয়া হয়নি কোন উদ্যোগ। ভেঙ্গে যাবার পর থেকে নিজেদের উদ্যোগে ঐ স্থানে গাছের ডাল দিয়ে বিপদজনক সংকেতিক চিহ্ন দিলেও টনক নড়েনি কর্তৃপক্ষের।

 

উপজেলার বলরামপুর, গোপালপুর, কোলা, কাবিলপুর, ঘোষপাড়া, দুধরাজপুর, বারোপাখিয়া, চোকাউতলা, রামচন্দ্রপুর গ্রামসহ কয়েক হাজার লোক মারাত্মক ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করছেন। এ সব এলাকার স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ। স্থানীয়রা জানান সংশ্লিষ্ট অফিস ও জনপ্রতিনিধিদের কাছে বার বার ধর্না দিয়েও আজও ব্রীজটি সংস্কার করা হয়নি। এই ব্যস্ততম সড়কের কালভার্ট ভেঙ্গে খাদের সৃষ্টি হওয়ায় রাস্তায় চলাচলকৃত যাত্রীবাহি যানবাহন প্রায় দুর্ঘটনায় পতিত হয়ে অনেকেই আহত হচ্ছেন।

কালীগঞ্জ উপজেলার জনগুরুত্বপুর্ন কোলাবাজার সড়কের কালভার্টের অর্ধেকটা জুড়ে ভেঙে পড়ায় পথচারী সহ যানচলাচল হুমকির মুখে পড়েছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, স্থানীয় চেয়ারম্যান ও মেম্বর জানার পরেও গত দু-মাসেও ভাঙা কালভার্ট মেরামতের কোন উদ্যোগ গ্রহন করেননি।
সরেজমিনে দেখা গেছে, কালীগঞ্জ টু কোলাবাজার জনগুরুত্বপূর্ন এ সড়কের ঐ ইউনিয়নের চেয়ারম্যানের বাড়ির সন্নিকটে কালভার্টের অর্ধেকটা জুড়ে ভেঙ্গে পড়াছে । নিরাপত্তার জন্য গত দু’মাস ধরে এ স্থানে কিছু ডাল-পালা ছাড়া আর কিছুই জুটেনি। কোলা ইউপি চেয়ারম্যান ঘটনা জানার পরেও তাঁরা এ পর্যন্ত কোন ব্যবস্থা গ্রহন করেননি। কালীগঞ্জ ও ঝিনাইদহ যাওয়ার পথে প্রতিদিন চেয়ারম্যানের চোখের সামনে পড়ছে। কিন্তু এটি মেরামতের কোন নেকনজর নেই। স্থানীয় অনেকেই জানিয়েছেন, এ পর্যন্ত ৫ জন পথচারী নারী-পুরুষ ভাঙ্গা স্থানে পড়ে আহত হয়েছে। এ ছাড়া প্রতিদিন ছোটবড় দূর্ঘটনা ঘটছে কিন্তু বিষয়টি চেয়ারম্যানও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরে ও আমলে আসছেন না। সামনে কয়েকদিন পর আসছে মুসলমান ধর্মের বড় উৎসব ঈদুল ফেতর, এলাকাবাসি কোলাবাজার ও কালীগঞ্জ শহরে কেনাকাটার জন্য আসা যাওয়া করবে ব্যাস্ততম ভাবে। দুর-দুরান্তেরর মানুষের চলাচলের ব্যস্ততা ও বৃদ্ধি পাবে নারি পুরুষদের।

 

আবার কোলাবাজার একটি বড় বাজার এখানে রয়েছে বিশাল ধানের হাট, এ ধান দেশের বিভিন্ন স্থানে বিক্রি হয়ে থাকে। এলাকাবাসি বলছে, প্রায় ২ বছর হল কালভাটটি রাস্তা পাকা করনের সময় করা হয়েছিল। কিন্তু অতি নিম্নমানের রড, ইট, সিমেন্ট দিয়ে মোরামত করার কারনে সামান্য দু,বছরের মাথায় ভেংগে পড়ে সড়ক দিয়ে চলাচলের অনুপযোগি হয়ে পেড়েছে। এ সড়ক দিয়ে সর্বনিম্ন ২০ গ্রামের মানুষ চলাচল করে প্রতিনিয়ত। সবচেয়ে মজার বিষয় হল স্বয়ং ঐ ইউনিয়নের যিনি চেয়ারম্যান তার বাড়ির ৬,শ গজ দুরে কালভাটটি ভেংগে পড়ে রয়েছে প্রায় ২ মাস ধরে। কিন্তু চেয়ারম্যানের বাড়ির পাশে হলেও আজ পর্যন্ত মেরামত হয়নি ব্রিজটি। এ সড়ক টি প্রায় ১০ ফুট চওড়া রয়েছে কিন্তু রাস্তার ৫ ফুট জুড়ে কালভার্ট ভেংগে পড়ে রয়েছে। দিনরাত সর্ব সময় কোলা সড়ক দিয়ে মানুষ চলাচল করে থাকে, সড়কটি অত্যান্ত ব্যাস্ততম সড়ক। কিন্তু এভাবে কালভাটটি ভেংগে পড়ে থাকলে ও জনপ্রতিনিধিরা বিষয়টি আমলে গ্রহন করছে না।

 

চেয়ারম্যানের বাড়ির সামনে হলেও তিনি সর্ব সময় দেখে থাকলে ও মনে হয় তিনি না দেখার ভ্যান করে থাকেন। দ্রুত কালভার্টটি মেরামত না করলে যে কোন সময় বড় ধরনের দূর্ঘটনা ঘটতে পারে ও রাস্তা দিয়ে সব কিছু চলাচল বন্ধ হয়ে জেতে পাতে। এমনিতেই রাস্তাটি চওড়া ১০ ফুট হলে ও কালভার্টটি প্রায় ৫ ফুট ভেঙে গেছে। কোন রকম মটর সাইকেল, বাইসাইকেল বা জনসাধারন চলাচল করে, কিন্তু বড় কোন যানবাহন চলাচল করতে পারে না। কালীগঞ্জ কোলাবাজার সড়কটি অতিব্যস্ততম, এ বাজারে রয়েছে বড় ধরনের ধানের হাট, কাচা মালের হাট, কলেজ, হাইস্কুল, ব্যাংকসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান রয়েছে। সড়ক টি অতি ব্যস্ততম হলে ও এলাকার জনপ্রতিনিধিরা বিষয়টি তেমন কিছু মনে করছে না। এটি যে ভাবে ভেংগে রয়েছে তাতে করে ভাঙ্গার মধ্যে বড় ডাল পুতে রাখা হয়েছে, দূর্ঘটনার হাত থেকে রক্ষা পাবার জন্য। কিন্তু এ সড়ক দিয়ে যারা অপিরিচিত ব্যাক্তিরা মটর সাইকেল, বাইসাইকেল, ইঞ্জিন চালিত গাড়ি গুলোতে ঘটছে দূর্ঘটনা। এলাকার সচেতন মহল মনে করেন, জনসাধারনের চলাচলের স্বার্থে দ্রুত কালভার্টটি মেরামত করা দরকার।

পাঠকের মন্তব্য: (পাঠকের কোন মন্তব্যের জন্য কর্তৃপক্ষ কোন ক্রমে দায়ী নয়)