ব্রেকিং নিউজ
বাংলা

আপডেট ১৯ সেকেন্ড

ঢাকা সোমবার, ৫ ফাল্গুন, ১৪২৬ , বসন্তকাল, ২২ জমাদিউস-সানি, ১৪৪১

রংপুর, সড়ক সংবাদ ঠাকুরগাঁও টাঙ্গন ব্রিজের নির্মাণ কাজে ধীরগতি: এলাকাবাসীসহ হাজারো শিক্ষার্থীর দুর্ভোগ যেন চরমে

ঠাকুরগাঁও টাঙ্গন ব্রিজের নির্মাণ কাজে ধীরগতি: এলাকাবাসীসহ হাজারো শিক্ষার্থীর দুর্ভোগ যেন চরমে

মাহমুদ হাসান নাঈম,নিরাপদ নিউজ : ঠাকুরগাঁও পৌর শহরের টাঙ্গন ব্রিজের নির্মাণকাজ অনেকটাই কচ্ছপ গতিতে চলছে বলে অভিযোগ এলাকাবাসীর। কাজের এমন অগ্রগতি দেখে হতাশ এলাকাবাসী। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নির্মাণকাজ শেষ হবে কি না তা নিয়ে রয়েছে শংশয়। তবে খুব দ্রুত ব্রিজের নির্মাণকাজ শেষ করতে আশাবাদী কর্তৃপক্ষ। জনবল বাড়িয়ে আসন্ন রমজানের আগেই ব্রিজের নির্মাণকাজ শেষ করা ব্রিজের দুপারের মানুষের প্রাণের দাবি। এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায় ঠাকুরগাঁও শহরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত এই ব্রিজের উপর দিয়ে পৌর শহরের কলেজ পাড়াসহ বেশ কয়েকটি এলাকার হাজারো মানুষ যাতায়াত করে। শহরের কলেজপাড়ার বাসিন্দা রয়েল জানান টাংগন নদীর উপরে এই ব্রিজটি বৃটিশ আমলে নির্মান করা হয়েছিল। কয়েকযুগ আগে নির্মিত এই লোহার ব্রিজটি কয়েকবছর থেকেই ঝুকিপূর্ন ছিল। সম্প্রতি প্রবল বন্যায় লোহার এই ব্রিজটি চলাফেরার জন্য একদম অনুপোযোগী হয়ে পরে। এ অবস্থায় ব্রিজটি ভেঙে নতুন ব্রিজ নির্মানের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে কর্তৃপক্ষ। পরবর্তীতে ব্রিজটি সম্পূর্ন ভেঙে ফেলে নতুন ব্রিজ নির্মানের কাজ শুরু করে কর্তৃপক্ষ। পাশাপাশি ব্রিজের দুই পাড়ে রয়েছে সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান যার মধ্যে ব্রিজের কলেজপাড়া সংলগ্ন সরকারি কলেজ, ডায়াবেটিকস হাসপাতাল, জেলা শিল্পকলা একাডেমি, জেলা সার্ভার স্টেশন, বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন (বিএডিসি), হার্টকালচার সেন্টারসহ ছোট বড় অসংখ্য প্রতিষ্ঠান।

প্রতিদিন এসব প্রতিষ্ঠানে সেবা নিতে আসা হাজারো মানুষের আসা যাওয়া ছিলো এই ব্রিজ দিয়েই। কিন্তু বর্তমানে ব্রিজের নির্মানকাজ চলার কারনে বিকল্প হিসেবে টাংগন ব্রিজের উপর দিয়ে ২-৩ কিলোমিটার পথ ঘুরে যাতায়াত করতে হয়। ফলে দুই পাড়ের মানুষের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে বিশেষ করে শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগ যেন চরমে উঠেছে। ডাইবেটিকস মোড়ের বিভিন্ন ব্যবসায়ী ও এলাকাবাসীর সাথে কথা হলে তারা জানান যে, আমাদের ধারনা নির্মানকাজে প্রয়োজনের থেকে তুলনামূলক কম সংখ্যক শ্রমিক দিয়ে কাজ করানোয় নির্মানকাজ ধীরগতিতে চলছে। এ অবস্থায় কাজ চলতে থাকলে দীর্ঘদিন লাগবে সেতুর কাজ সম্পন্ন করতে। কলেজপাড়ার বাসিন্দা ইয়াসিন আলী জানান, কলেজপাড়াসহ আশেপাশের এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে দুই তৃতীয়াংশ মানুষই শহরে ব্যবসা বানিজ্য করেন। তারা প্রতিদিন দুই তিনবার বাড়ি থেকে শহরের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে যাতায়াত করে থাকেন। ব্রিজটির নির্মানকাজ চলায় তাদের মন্দিরপাড়া হয়ে ২ থেকে ৩ কিলোমিটার পথ ঘুরে যাতায়াত করতে হয়, ফলে সময়ের পাশাপাশি আর্থিক অপচয়ও হচ্ছে। সরকারি কলেজের ফয়সাল নামের এক শিক্ষার্থী বলেন, ব্রিজের নির্মানকাজ চলার কারনে কলেজের দিকে কোন রিক্সা বা অটোরিক্সা যেতে চায় না। বাধ্য হয়ে অনেকটা পথ পায়ে হেটে কলেজে যাতায়াত করতে হয়। কলেজপড়ুয়া সকল শিক্ষার্থীদের যাতায়াতে প্রতিনিয়ত দুর্ভোগে পড়তে হয়।

নির্মানকাজের ঠিকাদার পার্থ সারথি দাশের নিকট এলাকাবাসীর অভিযোগ অবহিত করে ও নির্মানকাজের অগ্রগতির ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, নির্মানকাজ স্বাভাবিকভাবেই চলছে। নদী কমিশনের অভিযোগের ভিত্তিতে পরপর ২ বার নকশা পরিবর্তনের কারনে কাজ শুরু করতে একটু বিলম্ব হয়েছে। আগামী ২/১ মাসের মধ্যেই নির্মানকাজ সম্পন্ন হবে বলে আশাবাদী তিনি।

সাধারন মানুষের এসব দুর্ভোগের বিষয়টি মানবিক দিক দিয়ে বিবেচনা দ্রুত নির্মান কাজ শেষ করবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এমনটাই প্রত্যাশা করছেন কলেজপাড়াসহ আশেপাশের এলাকার সচেতন মহল।

পাঠকের মন্তব্য: (পাঠকের কোন মন্তব্যের জন্য কর্তৃপক্ষ কোন ক্রমে দায়ী নয়)