ব্রেকিং নিউজ
বাংলা

আপডেট ২৪ সেকেন্ড

ঢাকা রবিবার, ৩০ অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ , হেমন্তকাল, ১৭ রবিউস-সানি, ১৪৪১

লিড নিউজ, সড়ক সংবাদ ঢাকা-কক্সবাজার রুটে ৭০% চালক মাদকসেবী: বাস মালিকদের অসহায়ত্ব প্রকাশ

ঢাকা-কক্সবাজার রুটে ৭০% চালক মাদকসেবী: বাস মালিকদের অসহায়ত্ব প্রকাশ

নিরাপদ নিউজ: সড়কপথে ঢাকা-কক্সবাজার-চট্টগ্রাম রুটে দূরপাল্লার বাসের মাধ্যমে ইয়াবা বাণিজ্য ভয়াবহ পর্যায়ে পৌঁছেছে। গত এক বছরের র‌্যাবের জরিপ ও পর্যবেক্ষণে জানা গেছে, এ রুটের অন্তত ৭০ শতাংশ বাসচালক ও তাদের সহযোগী (হেলপার) ইয়াবাসেবী, যাদের বেশির ভাগই ইয়াবা বাণিজ্যে জড়িয়ে গেছে। বিপুল অর্থের লোভে পড়ে এভাবে ইয়াবা পাচারে বাসের চালক ও সহকারীদের জড়িয়ে পড়া ঠেকাতে পারছেন না বাস মালিকরা। এ ছাড়া সারা দেশেই বেশির ভাগ পরিবহন শ্রমিক মাদকসেবী। এ নিয়ে বাস মালিকদের প্রভাবশালী নেতারাও অসহায়ত্ব প্রকাশ করেছেন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মাদক সেবন করে গাড়ি চালানোর জন্য গাড়ির চালকদের বিরুদ্ধে আইন প্রয়োগে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে আরো কঠোর হতে হবে।

সম্প্রতি র‌্যাবের হাতে গ্রেপ্তার শ্যামলী পরিবহনের এক চালক জানিয়েছে কিভাবে কমিশন বাণিজ্যের মাধ্যমে ইয়াবা পাচারে লিপ্ত হয়ে পড়েছে বাসের চালক ও সহকারীরা। নূর আলম নামের ওই চালককে ধরতে গিয়ে র‌্যাব একটি চক্রকেই ধরতে সক্ষম হয়েছে।

র‌্যাবের জিজ্ঞাসাবাদে নূর আলম বলে, “আমি ইয়াবা সেবন ছাড়া গাড়ি চালাতে পারি না। আর প্রতি পিস ইয়াবা বহন করলেই কমিশন পাই ১০ টাকা। অর্থাৎ কক্সবাজার থেকে ঢাকায় এক হাজার পিস ট্যাবলেট ‘বাবা’ পৌঁছে দিলেই ১০ হাজার টাকা পাই। এভাবে এক লাখ টাকা বাড়তি আয় হয়।”

চালক নূর আলমকে জিজ্ঞাসাবাদকারী র‌্যাব-২-এর পুলিশ সুপার (এসপি) মহিউদ্দিন ফারুকী বলেন, গত ১৩ জুন কক্সবাজারের রামু থানাধীন চকরিয়া বাসস্ট্যান্ড থেকে ইয়াবা সেবন করে চালকের আসনে বসে নূর আলম। এরপর তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানাধীন মহাখালী রেলগেট এলাকায় আসার পর ‘ঢাকা মেট্রো ব-১৫-১২৯৬’ গাড়িটি আটক করে ১০ হাজার পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি জানান, এই রুটের অন্তত ৭০ শতাংশ দূরপাল্লার বাসচালক এভাবে ইয়াবা কারবারে সম্পৃক্ত বলে র‌্যাবের এক জরিপে উঠে এসেছে।

এই তথ্যের যথার্থতা নিয়ে প্রশ্ন করলে র‌্যাব কর্মকর্তা পুলিশ সুপার মহিউদ্দিন ফারুকী বলেন, এক বছর ধরে মাদকবিরোধী অভিযান জোরদার করার পর পরিবহন খাতেও নজর দেওয়া হয়। বিশেষ করে ঢাকা-কক্সবাজার রুটে। এই সময়ে যেসব চালক ও সহকারীকে গ্রেপ্তার করা হয় তাদের সংখ্যা এবং মালিকদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য পর্যালোচনা করে র‌্যাব এই সিদ্ধান্তে পৌঁছে।

র‌্যাবের তথ্য মতে, কক্সবাজার-ঢাকা রুটের বেশির ভাগ দূরপাল্লার বাসের চালক ইয়াবা সেবন করে গাড়ি চালায়। মাদক পাচারকারী চক্রের সদস্যরাও তাদের গাড়ির নিয়মিত যাত্রী। তাকেসহ আটক শ্যামলী পরিবহনের বাসটির যাত্রীদের মধ্যে তিনজন শীর্ষ মাদক কারবারি চক্রের সদস্য ছিল। তাদের মধ্যে দুজন মহিলা ও একজন পুরুষ পাঁচ হাজার ইয়াবা ট্যাবলেট বহন করে পথে বাস থেকে নেমে গাজীপুর জেলার মাওনায় চলে যায়। পরে তার তথ্যের ভিত্তিতে গাজীপুর জেলার শ্রীপুর থানাধীন মওনা চৌরাস্তার একটি চারতলা বাড়ির চার চারতলায় তল্লাশি চালিয়ে পারুল, তাসলিমা ও সিরাজ নামের ওই তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে এই তিনজনের তথ্যের ভিত্তিতে মাওনা গাজীপুর এলাকার মাদকসম্রাট মমতাজ ওরফে বোম্বে মমতাজ ও তার অন্য সহযোগী রুবেলকে আরো পাঁচ হাজার পিস ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার করা হয়।

জানতে চাইলে শ্যামলী পরিবহনের (এনআর ট্রাভেলস) জি এম জীবন চক্রবর্তী বলেন, ‘চালক নূর আলম গ্রেপ্তার হওয়ার পর আমরা জরুরি ভিত্তিতে সব চালক, হেলপারসহ তাদের স্টাফদের নিয়ে বৈঠক করে সবাইকে সতর্ক করে দিয়েছি।’

শ্যামলী পরিবহনের মালিক রমেশ চন্দ্র ঘোষ  বলেন, এ কারণে শ্যামলী পরিবহনের চালকদের কাউন্সেলিং করানো হচ্ছে, তারা যেন অপরাধে না জড়ায়।

র‌্যাবের ওই কর্মকর্তা বলেন, শ্যামলী ছাড়াও ঢাকা-কক্সবাজার-টেকনাফ রুটে চলাচলকারী হানিফ, গ্রিনল্যান্ডসহ হাই প্রফাইলের বাসের বেশির ভাগ ইয়াবার চালান বহন করে।

বাসের চালক ও সহকারীদের ইয়াবা বাণিজ্যে জড়িয়ে পড়া বন্ধে নিজেদের অসহায়ত্ব প্রকাশ করে ঢাকা সড়ক পরিবহন সমিতির সাধারণ সম্পাদক কে এনায়েত উল্লাহ গত রবিবার বলেন, ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে দেড় শতাধিক পরিবহনের দূরপাল্লার বাস চলাচল করে। এসব বাসের বেশির ভাগ চালক ও হেলপারই মাদকাসক্ত। তবে এটা নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না।

পাঠকের মন্তব্য: (পাঠকের কোন মন্তব্যের জন্য কর্তৃপক্ষ কোন ক্রমে দায়ী নয়)