ব্রেকিং নিউজ
বাংলা

আপডেট সেপ্টেম্বর ১২, ২০১৯

ঢাকা সোমবার, ২৪ অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ , হেমন্তকাল, ১০ রবিউস-সানি, ১৪৪১

জাতীয়, লিড নিউজ তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন: নির্বাচন ভবনে অগ্নিকাণ্ডে আর্থিক ক্ষতি ৩ কোটি ৭৭ লাখ টাকা

তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন: নির্বাচন ভবনে অগ্নিকাণ্ডে আর্থিক ক্ষতি ৩ কোটি ৭৭ লাখ টাকা

নিরাপদ নিউজ: নির্বাচন ভবনে অগ্নিকাণ্ডে নির্বাচন কমিশনের আর্থিক ক্ষতি হয়েছে ৩ কোটি ৭৭ লাখ টাকা। এ দুর্ঘটনায় ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন নষ্ট হয়েছে ৫৯টি। অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে এ তথ্য পাওয়া গেছে। বৈদ্যুতিক গোলযোগে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে বলে প্রতিবেদনে জানিয়েছে তদন্ত কমিটি।

বৃহস্পতিবার বিকালে নির্বাচন কমিশন সচিব মো. আলমগীরের কাছে তদন্ত কমিটির সভাপতি অতিরিক্ত সচিব মোখলেসুর রহমান তাদের প্রতিবেদন জমা দেন।

উল্লেখ্য, গত রবিবার রাতে ঢাকার আগারগাঁওয়ের ১২ তলা ভবনের বেইজমেন্টে অগ্নিকাণ্ডের পর ইসি চার সদস্যের এই কমিটি গঠন করে। তাদের তিন কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছিলো।

মোখলেসুর বলেন, ‘যেগুলো একেবারে ভস্মীভূত হয়েছে সেগুলো তো একেবারে নষ্ট হয়ে গেছে। যেগুলো ব্যবহার উপযোগী বা নষ্ট হয়নি কার্টনের ভিতরে ছিল সেগুলোকেও আলাদা করেছি। উপরের কাঁচ, দেওয়ালের ক্ষতি হয়েছে, কিন্তু বিল্ডিংয়ের তেমন ক্ষতি হয়নি।’

তদন্ত কমিটি তাদের প্রতিবেদনে ক্ষয়ক্ষতির আর্থিক হিসাব তুলে ধরেছে। তাতে দেখা গেছে অগ্নিকাণ্ডে ইভিএম কন্ট্রোল ইউনিট ৫৯টি, ব্যাটারি ৪৭টি, ব্যালট ৭৮৯, মনিটর এক হাজার ২৩৩ হাজারটি, তার ৫৫৭ সেট, মনিটরের ব্যাটারি ৬৪টি, ল্যাপটপ একটি ও বার কোড স্ক্যানার দুটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এসব সামগ্রীর আনুমানিক মূল্য ৩ কোটি ২১ লাখ ২৮ হাজার ৪৮৩ টাকা।

অন্য কিছু ইলেক্ট্রনিক সামগ্রীও ছিল তার মধ্যে এসি ছিল ৯টি, সিলিং লাইন ৪৮টি, একটি প্রজেক্টর, হুইল চেয়ার ও অটবি চেয়ার ১৬টি, টেবিল তিনটি, ঘড়ি একটি, সুইচ বোর্ড ১৪টি, বিভিন্ন রকমের ৯টি প্লাগ, ওয্যারিং চ্যানেল ২ হাজার ফিট, ফ্লোর টাইলস ৫০টি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মূল্য ৪০ লাখ ৪৫ হাজার ৭০০টাকা।

পূর্ত ক্ষতি ১৫ লাখ ৪৬ হাজার ৯৮৬ টাকা। সব মিলিয়ে ক্ষতি ৩ কোটি ৭৭ লাখ ২১ হাজার ১৬৯ টাকা।

ভবিষ্যতে যাতে এমন ঘটনা না ঘটে সেজন্য সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসাবে পাঁচটি সুপারিশ করেছে তদন্ত কমিটি।

১. কমিশন ভবনে ইভিএম কাস্টমাইজ কক্ষের মতো অন্যান্য হাইটেক কক্ষগুলোতে সার্বক্ষণিক সয়ংক্রিয় অগ্নি নির্বাপক ব্যবস্থা রাখতে হবে। তাতে অতিরিক্ত পোর্টেবল ফায়ার এস্টিংগুইশার স্থাপন করতে হবে। কাস্টমাইজসহ অন্য হাইটেক কক্ষগুলো সম্পূর্ণরুপে সার্বক্ষণিক সিসিটিভির আওতায় আনতে হবে। বিদ্যমান ফোর্স ভেন্টিশন ব্যবস্থার কার্যকারিতা এবং ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে।

২. নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতে নির্বাচন ভবনের যে কোনো পূর্ত এবং ইএম (বিদ্যুৎ) কাজ গণপূর্ত অধিদপ্তরের সঙ্গে অধিকতর সমন্বয়ের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করতে হবে।

৩. ইভিএম কাস্টমাইজেশন কক্ষটির অভ্যন্তরঅন বৈদ্যুতিক কাজের ক্ষেত্রে উন্নত তার ব্যবহার করতে হবে। উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন মাল্টিপ্লাগ, তার, সুইচ, সকেট ব্যবহার করতে হবে। নতুন বৈদ্যুতিক সংযোগ ও প্রাত্যহিক ব্যবহার ক্যালকুলেশন করে ঠিক করতে হবে।

৪. প্রতি ছয় মাস পর পর বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন (বিইসি), গণপূর্ত অধিদপ্তর, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের প্রতিনিধির সমন্বয় গঠিত কমিটি দ্বারা বৈদ্যুতিক লাইন ও ফায়ার সিস্টেম পরীক্ষা করে দেখতে হবে।

৫. নির্বাচন ভবনে অত্যাধুনিক ইন্টেগ্রেটেড বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমের ব্যবস্থা করতে হবে ও সার্বক্ষণিক তদারকি নিশ্চিত করতে হবে।

পাঠকের মন্তব্য: (পাঠকের কোন মন্তব্যের জন্য কর্তৃপক্ষ কোন ক্রমে দায়ী নয়)