ব্রেকিং নিউজ
বাংলা

আপডেট জুন ১৩, ২০১৯

ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৭ অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ , হেমন্তকাল, ১৪ রবিউস-সানি, ১৪৪১

বিনোদন তরুণ কণ্ঠশিল্পীদের সিডিউল ঘাপলা

তরুণ কণ্ঠশিল্পীদের সিডিউল ঘাপলা

নিরাপদ নিউজ: গানের জগতে এই সময়ের অন্যতম তরুণ তারকা মাহতিম সাকিব। যে কিনা কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের এক শিশুর কণ্ঠে ‘মধু হই হই বিষ খাওয়াইলা’ গানটি তুলে এনে প্রচুর প্রশংসা কুড়িয়েছেন। আজ তার বিরুদ্ধেই অভিযোগের তীর। তিনি নাগরিক টিভির লাইভ প্রোগ্রাম করার চয়ড়ান্ত কথা দিয়েও টাকার কাছে বিক্রি হয়ে ফাঁসিয়ে দিয়েছেন টিভি কর্তৃপক্ষকে। আর এ নিয়ে এখন মিডিয়ায় সমালোচনার ঝড় বইছে। প্রসঙ্গত সম্প্রতি আরেক তরুণ জনপ্রিয় শিল্পী আরমান আলিফের বিরুদ্ধেও সিডিউল ফাঁসানোর অভিযোগ উঠেছিল। বেসরকারি টিভি চ্যানেল বাংলা ভিশনের একটি সরাসরি অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার কথা থাকলেও শেষ মুহূর্তে আসেননি। এতে করে অনেকেই বলছেন নতুন প্রজন্মের শিল্পীদের মধ্যে এখনও পেশাদারিত্ব মনোভাব তৈরি হয়নি। অর্থটাকেই তারা মুখ্য ভেবে ভুল করছেন নিয়মিত।
নাগরিক টিভির অনুষ্ঠান প্রধান কামরুজ্জামান বাবু সূত্রে জানা যায়- গত এক মাস ধরে নাগরিক টিভির পর্দায় প্রচারণা চলেছে, ঈদের পঞ্চম দিন মাহতিম সাকিব ও ইমরান হোসেন যৌথভাবে ‘গানের মেলা’ নামে একটি লাইভে অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন। কিন্তু শো-এর ঠিক একদিন আগে মাহতিম সাকিব নাগরিক টিভিকে নাকি জানিয়েছেন, তিনি শোতে অংশ নিতে পারবেন না। কারণ ওইদিন বগুড়ার একটি শো তিনি হাতে নিয়েছেন এবং সেখানে অনেক টাকাও নিয়েছেন তিনি। প্রতিউত্তরে মাহতিম সাকিব জানান কামরুজ্জামান বাবু ভাই নামে একজনের সঙ্গে আমার মৌখিক কথা হয়েছিল। কয়েকবারই কথা হয়েছে। কিন্তু প্রতিবারই আমার সাথে ঈদের ষষ্ঠদিনের আলাপ হয়েছে। তারপরেও যদি ভুল হয় আমি ক্ষমাপ্রার্থী। ওনার কাছে ফোন করে আমি ক্ষমা চেয়েছিও।
কিন্তু ভুল বোঝাবুঝির কারণে তারা যেভাবে আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ করছেন তাতে আমি মর্মাহত। এমন তো না যে তাদের সাথে আমার লিগ্যালি কোনো চুক্তি হয়েছে। কিংবা নৈতিকভাবে কথা ভঙ্গ করেছি। প্রসঙ্গত ওই টিভিতে আব্দুন নুর তুষার স্যার আছেন। তিনি আমার একটা অনুষ্ঠানের জাজ ছিলেন। ওনার প্রতি শ্রদ্ধা রেখে বরং আমিবলেছিলাম যেহেতু তুষার স্যার আছেন তাই আমি ওই অনুষ্ঠানে কোনো পারিশ্রমিক নেবো না। শুধু আমার সঙ্গে মিউজিশিয়ান যাবে তাদের বিলটা দিতে। আমার মোবাইল ক্যালেন্ডারেও নাগরিক টিভির ষষ্ঠ দিনের হিসেবে সেট করা আছে। ভুল বুঝাবুঝি এখানেই হয়েছে। ওনারা বলছেন ঈদের পঞ্চম দিন আর আমি বুঝেছি ষষ্ঠ দিন।
তবে মাহতিম সাকিবের এই কথায় একটু অবাক হতে হয়। কারণ ঈদ অনুষ্ঠানমালার প্রোমো নিত্য চলেছে। তাহলে কি তিনি টেলিভিশনে প্রোমো দেখেননি? সেখানে তো ছিল কোনদিন অনুষ্ঠানটি প্রচারিত হবে? এ প্রশ্নের জবাবে মাহতিম সাকিব বলেন, সত্যি বলতে সেটা আমি দেখিনি। আর যদি আমি জেনেও থাকতাম যে আমাকে নাগরিক টিভিতে ঈদের পঞ্চম দিন প্রোগ্রাম করতে হবে তাহলে নিশ্চয় প্রোগ্রাম করতাম আর বগুড়ার প্রোগ্রাম হাতে নিতাম না। মাহতিম আরও বলেন, আসলে বগুড়া আর নাগরিক- দুটো শোয়ের বিষয়েই কথা হয়েছে একেবারে কাছাকাছি সময়ে। আমি ভেবেছিলাম একদিন আগে পরে হবে। আবার এটাও ঠিক, আমি বগুড়ার শো থেকে অ্যাডভান্স নিয়েছি, চুক্তি করেছি। অন্যদিকে নাগরিকের সঙ্গে এমন কিছুই করিনি। এখানে আমার দোষের কিছু দেখি না। মাহতিমের এই কথাটি একেবারেই অপেশাদারী মনোভাবের পরিচয় তুলে ধরে। কারণ যে কোন উৎসবে সবার একটি পরিকল্পনা থাকে। সিডিউল চার্ট থাকে। এর বাইরে কোন কিছু করা সম্ভব না। কারণ আয়োজনটা থাকে বিশাল। মাহতিমের কথায়ই ধরা পড়েছে সে টাকার কাছে তার শিল্পী সত্ত্বাকে বিকিয়ে দিয়েছে। নাগরিক টিভিতে প্রোগ্রাম করলে টাকা কতটুকু পেত সেটা বিবেচ্য না, বিবেচ্য সে বলেছে টাকা নিবে না। কিন্তু লোভ তো বেঁধে রাখেনি। তাই বেশি টাকার লোভে বগুড়ার শোতে অংশ নেয়।
মাহতিম সাকিবের এমন কাণ্ডে ক্ষুব্ধ নাগরিক কর্তৃপক্ষ। প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে অনুষ্ঠান প্রধান কামরুজ্জামান বাবু বলেন, যে মানুষ মাত্র গান শুরু করেছেন, শুরুতেই যদি এভাবে বেশি টাকার কারণে একটি শিডিউলড টিভি শো ফাঁসিয়ে দেয়, তবে তার কাছে ভবিষ্যতে আমরা আর কী আশা করতে পারি! তিনি আমাদের সঙ্গে চূড়ান্ত অপেশাদারি আচরণ করলেন। একজন নতুন শিল্পীর কাছ থেকে এমন অপেশাদারি আচরণ মেনে নেওয়া যায় না। এদিকে মাহতিমের কারণে কপাল পুড়েছে ইমরান হোসাইনের। তার সকল প্রস্তুতি ভেস্তে গেল। কারণ, অনুষ্ঠানের প্রস্তুতিটাই ছিল মাহতিম ও ইমরানকে ঘিরে। উল্লেখ্য বর্তমান সময়ের তিনজন জনপ্রিয় তরুণ কণ্ঠশিল্পী আরমান আলিফ, মাহতিম সাকিব ও ইমরান হোসাইন। এই তিনজনই জনপ্রিয়তা পেয়েছেন ইউটিউবের বদৌলতে।
জনপ্রিয়তা এমন একটা জিনিস ধরে রাখা বা চর্চা করা বড়ই কঠিন। অর্জনে অনেক ত্যাগ স্বীকার করতে হয়। এই তিন তরুণের দুইজন আরমান আলিফ ও মাহতিম সাকিবের বিরুদ্ধে অল্প সময়ের ব্যবধানে সিডিউল ফাঁসিয়ে দেয়া, অপেশাদারী কথাবার্তা বলা এখন মিডিয়ার আলোচিত বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কেউ কেউ বলতে চাইছেন অল্পতে অনেক বেশি পেয়ে তারা ভার সইতে পারছে না। তাই বেসামাল হয়ে পড়েছে। অথচ মেধা রয়েছে তাদের। সঙ্গীতে সার্ভিস দেয়ার যথেষ্ট যোগ্যতাও আছে। এই তারাই যদি নিজ প্রফেশসের প্রতি দায়িত্বশীল না হন তাহলে তাদের কাছে আর ভাল কিছু আশা করা যায় কি?

পাঠকের মন্তব্য: (পাঠকের কোন মন্তব্যের জন্য কর্তৃপক্ষ কোন ক্রমে দায়ী নয়)