ব্রেকিং নিউজ
বাংলা

আপডেট ফেব্রুয়ারী ২৩, ২০১৭

ঢাকা বুধবার, ২৬ অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ , হেমন্তকাল, ১৩ রবিউস-সানি, ১৪৪১

সম্পাদকীয় নারী উদ্যোক্তাদের অর্থনৈতিক অঞ্চল ইতিবাচক

নারী উদ্যোক্তাদের অর্থনৈতিক অঞ্চল ইতিবাচক

সম্পাদকীয়

নিরাপদনিউজ :  নারী স্বাধীনতা অর্জনের একটি উল্লেখযোগ্য দিক হলো স্বাবলম্বিতা অর্জন বা নিজের পায়ে দাঁড়ানো। পুরুষশাসিত সমাজে নারীর স্বাবলম্বী বা আত্মনির্ভরশীল হওয়া মানে এক কঠিন সংগ্রাম ও সাধনার ব্যাপার। নারী এ পথে পা বাড়ালে পারিবারিক ও সামাজিকভাবে বাধাপ্রাপ্ত হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। নারীর স্বাবলম্বী হওয়ার দুটি প্রধান দিক রয়েছে। একটি হচ্ছে নিজ যোগ্যতাবলে চাকরি বা ব্যবসা করা। দ্বিতীয়টি হচ্ছে অন্যের সাহায্য নিয়ে নিজের পায়ে দাঁড়ানো। অন্যের সাহায্য বলতে ব্যাংক অথবা ব্যক্তিগত ঋণ নিয়ে কিংবা যে কোনো বেসরকারি সংস্থার ঋণ নিয়ে স্বাবলম্বী হওয়া।

এ কাজটি অত্যন্ত কঠিন ও ঝুঁকিপূর্ণ। নারী এতটাই পুরুষ কর্তৃক নিয়ন্ত্রিত ও নির্যাতিত যে, এ ভয়াবহ জীবন থেকে মুক্তি চায় সে প্রতিনিয়ত। এ মুক্তির প্রধান দিক হচ্ছে আত্মনির্ভরশীলতা অর্জন। আমরা জানি নারী উদ্যোক্তা তৈরির ব্যাপারে বর্তমান সরকার বেশ তৎপর ও মনোযোগী। এরই অংশ হিসেবে সারাদেশে পাঁচ হাজার ২৭৩টি ডিজিটাল সেন্টারে নারীদের কম্পিউটার হার্ডওয়্যার ও সফটওয়্যারের ওপর প্রশিক্ষণ দিয়ে উদ্যোক্তা তৈরি করছে সরকার। প্রশিক্ষণ শেষে ডিজিটাল সেন্টারগুলো সার্ভিস সেন্টারের সঙ্গে যুক্ত হয়ে সেবা প্রদান করতে পারবে।

প্রযুক্তিবিষয়ক ওই ট্রেনিং প্রোগ্রামের মাধ্যমে উদ্যোক্তারা ইউনিয়ন পর্যায়ে সেবা প্রদান করতে পারবে। আমরা মনে করি এটা সরকারের ভালো উদ্যোগ। কারণ নারীদের সাবলম্বী করার ক্ষেত্রে এটা ইতিবাচক। এর পাশাপাশি আরও একটি সুখবর হচ্ছে নারী উদ্যোক্তাদের অর্থনৈতিক অঞ্চল করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এক প্রতিবেদনে প্রকাশ, সফল নারী উদ্যোক্তারা বছরের পর বছর ধরে দাবি জানিয়ে আসছিলেন তাদের জন্য বড় পরিসরে একটি জায়গার ব্যবস্থা করে দেয়ার। নানা জটিলতায় বিসিকসহ অন্য কোথাও জায়গার ব্যবস্থা করা সম্ভব হয়নি।

প্রথমবারের মতো মিরসরাই অর্থনৈতিক অঞ্চলে অলাদাভাবে ১০০ একর জমি পেতে যাচ্ছেন নারী উদ্যোক্তারা। বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা) থেকে এমন নিশ্চয়তা পাওয়া গেছে। ঢাকা ও চট্টগ্রাম ইউমেন চেম্বারের প্রতিনিধিরা গত সোমবার বেজার নির্বাহী চেয়ারম্যান পবন চৌধুরীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে গেলে তিনি এই আশ্বাস দেন। নারী উদ্যোক্তাদের পক্ষ থেকে বেশ কয়েকটি দাবি জানানো হয়।

তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো, নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, অন্যান্য অবকাঠামো ও পরিষেবা সুবিধা নিশ্চিত করা। বেজবার পক্ষ থেকে এসব সুবিধা দেয়ার নিশ্চয়তা প্রদান করা হয়। এ খবর নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়। তবে এর পাশাপাশি সরকারের পক্ষ থেকে যদি ব্যাপকভাবে সুদবিহীন বা অল্প সুদে ঋণ দেয়ার ব্যবস্থা থাকে তবে গ্রামীণ নারীরা তাদের শ্রম ও সংগ্রাম দিয়ে ঘুরে দাঁড়াতে পারবে, হতে পারবে স্বনির্ভর।

আর সে জন্য সরকারকে উদ্যোগী হতে হবে। কেবল ব্যবসার ক্ষেত্রে নয়, কৃষি, ক্ষুদ্র কুটির শিল্প, গরু-ছাগল, হাঁস-মুরগি পালন, সামাজিক বনায়ন বা বৃক্ষরোপণের দিকে নারীকে উৎসাহিত করতে হবে। নারী নিজের পায়ে দাঁড়ানো মানে কেবল নারীর আত্মউন্নয়ন ঘটবে না, দেশও অর্থনৈতিকভাবে এগিয়ে যাবে।
বিগত ১০০ বছরে বাঙালি নারীরা শিল্প, সাহিত্য, সংস্কৃতি, শিক্ষা, সংগীত, ক্রীড়া, সাংবাদিকতা ও সমাজসেবায় অসামান্য অবদান রেখেছেন। বর্তমানে অবদান রাখছেন ব্যবসায়। হালে নারী উদ্যোক্তারা যদি অর্থনৈতিক অঞ্চলের জন্য অলাদাভাবে ১০০ একর জমি পায় তাহলে নারীর অর্থনৈতিক স্বাধীনতা আরও সুদৃঢ় হবে।

তাদের কাজের পরিধিও বেড়ে যাবে। এখন যে নারী জাগরণ বা নারী স্বাধীনতার কথা সর্বত্র উচ্চারিত হয়, নারীরা যে কোনো পেশায় অবাধে কাজ করতে পারছেন এ ক্ষেত্রে বর্তমান সরকারের ভূমিকাও কম নয়। নারীর আত্মবিকাশ ও প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে সরকারকে আরও এগিয়ে আসতে হবে। সৃষ্টি করতে হবে নতুন নতুন উদ্যোক্তা।

পাঠকের মন্তব্য: (পাঠকের কোন মন্তব্যের জন্য কর্তৃপক্ষ কোন ক্রমে দায়ী নয়)