ব্রেকিং নিউজ
বাংলা

আপডেট ফেব্রুয়ারী ২৩, ২০১৭

ঢাকা সোমবার, ১ পৌষ, ১৪২৬ , শীতকাল, ১৮ রবিউস-সানি, ১৪৪১

জাতীয়, লিড নিউজ নার্স প্রশিক্ষণের নামে অনিয়মের অভিযোগ

নার্স প্রশিক্ষণের নামে অনিয়মের অভিযোগ

নার্স প্রশিক্ষণের নামে অনিয়মের অভিযোগ – প্রতীকি ফটো

২৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৭, নিরাপদনিউজ : সাবেক সেবা পরিদপ্তর ৮০ জন নার্সকে ইউনিভার্সিটি অব মালয়েশিয়ায় প্রশিক্ষণের জন্য চূড়ান্ত করে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। গত বছরের ডিসেম্বরে তাদের যাওয়ার কথা ছিল। থাকা, খাওয়া এবং আবাসন খরচ বাবদ ৮০ জনের জন্য ২ লাখ ৮০ হাজার ডলার বরাদ্দ হয়। এটা টাকার অঙ্কে দাঁড়ায় প্রায় ২ কোটি ২৪ লাখ টাকা।

সাবেক সেবা পরিদপ্তরের একটি প্রকল্পের অধীনে এই প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়। এটির অর্থায়ন করেছিল বিশ্বব্যাংক। প্রশিক্ষণরত নার্সদের থ্রি স্টার হোটেলে রাখার কথা ছিল। এছাড়া প্রশিক্ষণের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের টিউশন ফি দেওয়াসহ যাবতীয় টাকা খরচের জন্য একজনকে নিযুক্ত করা হয়।

নিয়ম অনুযায়ী টিউশন ফি’র টাকা বাংলাদেশ ব্যাংকের মাধ্যমে সরাসরি মালয়েশিয়াতে ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাংক হিসাবে জমা হবে। তবে সেই নিয়ম অগ্রাহ্য করে টাকা পাঠানো হয় একজনের ব্যক্তিগত ব্যাংক হিসাবে। এই ঘটনার সঙ্গে মন্ত্রণালয় ও সাবেক সেবা পরিদপ্তরের একটি অসাধু চক্র জড়িত।

ইতোমধ্যে ওই বিশ্ববিদ্যালয় ঘটনাটি জানিয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. সিরাজুল ইসলামের কাছে একটি চিঠি পাঠিয়েছে। চিঠিতে বলা হয়েছে, ৮০ জন নার্সের প্রশিক্ষণের খরচ বাবদ নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাংক হিসাবে জমা হয়নি।

এই চিঠি হাতে পেয়ে স্বাস্থ্য সচিব প্রশিক্ষণ সংক্রান্ত সকল কার্যক্রম স্থগিত করেছে। এই ঘটনা তদন্তের জন্য তিন সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির প্রধান করা হয়েছে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (হাসপাতাল) মো. হাবিবুর রহমান খানকে। কমিটির অন্য দুই সদস্য হলেন- একই মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম-সচিব (প্রশাসন) মো. গাফফার খান ও উপসচিব (কাউন্সিল অধিশাখা) মনোজ কুমার রায়। গতকাল বুধবার থেকে তদন্ত কমিটি তাদের কার্যক্রম শুরু করেছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠানো চিঠিতে ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে টাকা জমা না হলে প্রকল্প বাতিল করা হবে বলে জানানো হয়। পরে টাকা ফেরত নিয়েছে বিশ্বব্যাংক। এতে সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে। তবে এই ঘটনা জানতে বিলম্ব হওয়ার কারণ, ওই চক্রটি তদবির করেছে বিষয়টি ধামাচাপা দিতে। সেবা অধিদপ্তরের বর্তমান মহাপরিচালককে সরিয়ে দেওয়ার জন্য তারা চেষ্টাও করেছে।

অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসছে, এই ঘটনার আগেও বিভিন্ন দেশে নার্স প্রশিক্ষণের নামে কোটি কোটি টাকা আত্মসাত্ করেছে ওই চক্রটি। প্রশিক্ষণের সময় নার্সদের থ্রি স্টার হোটেলে রাখার কথা থাকলেও বিভিন্ন দেশে মেস ভাড়া করে তাদের রাখা হয়েছে। একই কক্ষে ৮ থেকে ১০ জন করে রাখা হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।

প্রকল্পের লাইন ডিরেক্টর ছিলেন সাবেক সেবা পরিদপ্তরের পরিচালক নাসিমা পারভীন। এ ছাড়া সাবেক ডিপিএম আব্দুল বারী ও প্রশাসনিক কর্মকর্তা আনোয়ারের জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। ইতোমধ্যে তারা স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিমের স্বাক্ষর জাল করে অনেক নার্সকে প্রশিক্ষণের জন্য বিদেশে পাঠিয়েছে বলে জানা গেছে।

অভিযুক্ত এক কর্মকর্তা ঢাকা নার্সিং কলেজের ছাত্রী হোস্টেলে দুইজন ছাত্রীকে বের করে দিয়ে নিজেদের বাসস্থান হিসেবে ব্যবহার করেছে। এটা সংস্কার করতে তিনি ১০ লাখ টাকা ব্যয় করেছেন। এদের দিয়ে যেকোনো অনিয়ম সম্ভব বলে তাদের পরিচিত একাধিক কর্মকর্তা জানিয়েছে। এই ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের একজন জেলা পাবলিক হেলথ নার্স। এদের পোস্টিং জেলা পর্যায়ে হওয়ার কথা থাকলেও খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, অধিকাংশ জেলায় পাবলিক হেলথ নার্স নেই। এতে করে সঠিক সেবা ব্যাহত হচ্ছে।

অভিযুক্ত ওই কর্মকর্তা একদিনে ১২৫টি অনুষ্ঠানের অনারিয়াম নিয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। সেবা পরিদপ্তরকে সেবা অধিদপ্তর করার পর একের পর এক অনিয়মের খবর বেরিয়ে আসছে। এই প্রসঙ্গে জানতে প্রকল্পের লাইন ডিরেক্টর সাবেক সেবা পরিদপ্তরের পরিচালক নাসিমা পারভীনকে একাধিকবার ফোন করেও পাওয়া যায়নি।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম এ প্রসঙ্গে বলেন, বিষয়টি ইতোমধ্যে আমরা জেনেছি। তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত কমিটি কাজও শুরু করে দিয়েছে। চূড়ান্ত তদন্ত প্রতিবেদন দেখে অনিয়মের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। – ইত্তেফাক

পাঠকের মন্তব্য: (পাঠকের কোন মন্তব্যের জন্য কর্তৃপক্ষ কোন ক্রমে দায়ী নয়)