ব্রেকিং নিউজ
বাংলা

আপডেট ১৫ সেকেন্ড

ঢাকা বুধবার, ২৬ অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ , হেমন্তকাল, ১৩ রবিউস-সানি, ১৪৪১

কৃষি, রাজশাহী ন্যায্যমূল্য নিয়ে শংকায় কৃষকরা: নওগাঁয় প্রতিবছর কমছে সোনালী আশেঁর যৌবন

ন্যায্যমূল্য নিয়ে শংকায় কৃষকরা: নওগাঁয় প্রতিবছর কমছে সোনালী আশেঁর যৌবন

নওগাঁ প্রতিনিধি,নিরাপদ নিউজ:  কৃষি নির্ভরশীল উত্তরাঞ্চল নওগাঁ জেলা ধান ও সবজি এলাকা হিসেবে খ্যাত। জেলার চাহিদা মিটিয়ে ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করা হয়ে থাকে। ধান ও সবজির পাশপাশি আবাদ হয়ে থাকে পাটেরও। তবে উৎপাদনে খরচ ও পরিশ্রম বেশি এবং জাগ (ভিজানো/পঁচানো) দেয়ার জায়গা না থাকায় প্রতি বছর কমছে পাটের আবাদ। পাট চাষে আগ্রহ কমে এখন সবজির দিকে ঝুঁকছেন চাষিরা। তবে পাটজাত দ্রব্যের ব্যবহার বাড়ানো সম্ভব হলে পাটের আবাদ বৃদ্ধি পাবে। কৃষকরা পাটের দাম পেলে আগামীতে পাটের আবাদ বৃদ্ধি পাবে বলে মনে করছেন সচেতনরা।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, ২০১৯-২০ অর্থবছরে জেলায় পাটের আবাদ করা হয়েছে ৬ হাজর ১৫০ হেক্টর উচ্চ ফলনশীল ও-৪,৭২,৯৮,৯৭ এবং কিছু দেশী, মেছতা ও ভারতীয় জাত।

উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারন করা হয়েছে ৭০ হাজার ২৩৫ বেল (১বেল সমান ৫মণ) পাট। এছাড়া ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ৬ হাজার ৯৩০ হেক্টর এবং ২০১৭-১৮ অর্থবছরে ৮ হাজার ২৫ হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ করা হয়েছিল। এক সময় পাটকে সোনালী আঁশ বলা হতো। তবে সেই প্রবাদ এখন বিলিন হওয়ার পথে। উৎপাদনে খরচ ও পরিশ্রম বেশি এবং জাগ দেয়ার জায়গা না থাকায় পাট চাষে আগ্রহ কমেছে চাষীদের। ফলে প্রতি বছর কমছে পাটের আবাদ। আগাম বৃষ্টি ও বৈরী আবহাওয়ায় ফলন যেমন কম হয়েছে, পাটের মানও হতাশাজনক। খরচের তুলনায় দামে তেমন পোশায়না। এতে লোকসানের দুশ্চিন্তা ভর করে চাষীদের মনে। তাই পাটের আবাদ ছেড়ে সবজির দিকে ঝুঁকছেন কৃষকরা।

রাণীনগর উপজেলার কৃষকরা সাইফুল ইসলাম জানান , প্রতি বিঘাতে পাটের আবাদ করতে হাল চাষ ৬শ টাকা, বীজ ২শ টাকা, সার, ওষধ, নীড়ানি, সেচ ৪ হাজার টাকা, শ্রমিকের খাবার ২ হাজার টাকা, কাটা ও ধোয়া ৮ হাজার টাকা সহ প্রায় ১৪-১৫ হাজার টাকা খরচ হয়ে থাকে। বিঘা প্রতি পাট উৎপাদন হয়ে থাকে ১০-১৪ মণ। দাম তুলনা মূলক কম। তাই পুশে ওঠে না।

আত্রাই উপজেলার শাহাগোলা গ্রামের কৃষক আরিফুর বলেন, পাটের আবাদে সবচেয়ে বড় সমস্যা জাগ দেয়ার জায়গা না থাকা এবং পানি। পাট কাটার পর ভিজানোর জন্য যে সময় পানির দরকার তা পাওয়া যায়না। গত বছর এক বিঘা জমিতে আবাদ করেছিলাম। এ সমস্যার কারণে এ বছর আবাদ করিনি। সে জমিমে এখন পটল করেছি। প্রতিদিন পটল তুলে বাজারে বিক্রি করছি। ভাল দাম পাচ্ছি। পাটের মতো ঝামেলা পোহাতে হয়না।
নাজিরপুর গ্রামের কৃষক শফিকুল ইসলাম বলেন, গতবছর দুই বিঘাতে পাটের আবাদ করেছিলাম। এবছর ১ বিঘা জমিতে পাট লাগিয়েছি। আলু আবাদের পর জমি ফেলে না রেখে ওই জমিতে পাট লাগানো হয়। পাট লাগানো থেকে শুরু করে ঘরে উঠানো পর্যন্ত প্রচুর কষ্ট করতে হয়। কিন্তু সে তুলনায় আমরা মূল্য পাই না। এক দিকে পাটের দাম না পাওয়া, অপরদিকে পাট জাগ দেয়ার জায়গা এবং পানি না থাকায় বিপাকে পড়তে হয়। তাই পাট চাষে কৃষকদের আগ্রহ কমছে। অনেকে জ্বালানির কাজে পাট কাঠী ব্যবহার করতে স্বল্প পরিমাণ পাটের আবাদ করছে।

নওগাঁর এবিএম রফিকুল ইসলাম বলেন, পাটকে সোনালী আঁশ বলা হয়। কিন্তু সেই সোনালী আঁশের আবাদ কমে যাচ্ছে। পাট পচনশীল ও জমির উর্বরতা বৃদ্ধি করে। এছাড়া পাটের পাতাকে শাক হিসেবেও খাওয়া হয়। পলেথিনের ব্যবহারে দিন দিন পরিবেশ হুমকির মুখে পড়ছে। অপরদিকে পাটের জিনিসপত্র পরিবেশ বান্ধব। পাটজাত দ্রব্যের ব্যবহার এবং প্রচারনা বাড়াতে হবে। কৃষি প্রধান জেলা নওগাঁ অনেকেই কৃষির উপর নির্ভরশীল এক সময় আমি নিজেও আমার জমি গুলোতে পাটের চাষ করতাম কিন্তু সময়ের ব্যবধানে নায্য দাম না পাওয়ার জন্য অন্য আবাদ করি জমিতে। এছাড়া কৃষকরা যদি পাটের ন্যায্য দাম পাই তাহলে আগামীতে পাটের আবাদ বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করছি।

নওগাঁ জেলা কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপ-পরিচালক (শষ্য) আ: জা: মু: আহসান শহীদ সরকার, শস্য ভান্ডার হিসেবে খ্যাত এ জেলা। এক সময় প্রচুর পাটের আবাদ করা হতো। বৈরী আবহাওয়ার কারণে প্রতি বছর কমছে পাটের আবাদ। পাটের আবাদ ছেড়ে কৃষকরা সবজির আবাদের দিকে ঝুঁকছে। আঁশ ছাড়ানোর (পঁচানো) সময় পানি না পাওয়া পাট নিয়ে বিপাকে পড়তে কৃষকদের। ফলে ভূগর্ভস্থ পানির চাপ কমাতে এবং স্বল্প পানিতে আবাদে উৎসাহিত করার ফলে পাটের আবাদ ছেড়ে কৃষকদের এখন সবজি চাষের দিকে আগ্রহ বাড়ানো হচ্ছে। এছাড়া আউশ ধান চাষেও কৃষকদের পরামর্শ দেয়া হয়েছে।

পাঠকের মন্তব্য: (পাঠকের কোন মন্তব্যের জন্য কর্তৃপক্ষ কোন ক্রমে দায়ী নয়)