ব্রেকিং নিউজ
বাংলা

আপডেট ১২ মিনিট ১০ সেকেন্ড

ঢাকা মঙ্গলবার, ৮ মাঘ, ১৪২৬ , শীতকাল, ২৫ জমাদিউল-আউয়াল, ১৪৪১

সম্পাদকীয় পরিবহন মালিক-শ্রমিকদের ঔদ্ধত্য গ্রাহ্য করা যায় না

পরিবহন মালিক-শ্রমিকদের ঔদ্ধত্য গ্রাহ্য করা যায় না

নিরাপদ নিউজ:  নতুন সড়ক পরিবহন আইন কার্যকর হবার পর এর প্রতিবাদে গতমাসে সারাদেশে বাস চলাচল বন্ধ করে দিয়েছিল পরিবহন শ্রমিকরা। নতুন আইনের কয়েকটি শর্ত নিয়ে তাদের আপত্তি ছিল। তাদের ধর্মঘটে দেশের বিভিন্ন জেলায় যাতায়াত ব্যাবস্থা স্থবির হয়ে পড়ে। এতে ভোগান্তিতে পড়েন সাধারণ মানুষ। পরে আলোচনা সাপেক্ষে তারা ধর্মঘট তুলে নেয়। কিন্তু ততদিনে জনসাধারণের দুর্ভোগ মাত্রাতিরিক্ত পর্যায়ে পৌঁছে যায়। এর আগেও অনেকবার বাস চলাচল বন্ধ করা হয়েছিল। কিছুতে কিছু হলে মালিক-শ্রমিকদের ধর্মধটের নামে বাস চলাচল বন্ধ করে দিয়ে মানুষকে জিম্মি করা একধরণের রীতিতে পরিণত হয়েছে।

সম্প্রতি বিআরটিসির বাস বন্ধ করা নিয়ে জেলা প্রশাসনের সাথে আলোচনার সফল না হওয়ায় ময়মনসিংহ থেকে সব রুটে বাস চলাচল বন্ধ করে রাখে বাস মালিকরা। অন্যদিকে বিআরটিসির ১০টি দ্বিতল বাস চালু করার প্রতিবাদে নেত্রকোণায় সব রুটে বাস চলাচল বন্ধ করে দেয় বাস মালিক শ্রমিক ঐক্য পরিষদ। এতে দুই জেলার মানুষকে পড়তে হয় চরম দুর্ভোগে। কোনো ধরনের পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই সব রুটে বাস চলাচল বন্ধ করে দেওয়ায় স্বভাবতই চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয় যাত্রীদের। রেলস্টেশনে চাপ বেড়ে যায়। কয়েকগুণ ভাড়া দিয়ে অটোরিকশাতেও সড়ক পথে যাতায়াত করতে হয় তাদের। এতে দুর্ভোগের পাশাপাশি আর্থিক ক্ষতিরও সম্মুখীন হতে হয় যাত্রীদের।

মালিকরা বলছেন, বিআরটিসি বাস চালুর পর থেকে তাদের যাত্রী সংখ্যা অনেক কমে গেছে তাই ক্ষতির আশঙ্কায় বাস বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। অন্যদিকে শ্রমিকরা বলছে ভিন্ন কথা। তাদের মতে, বিআরটিসির বাসের ভাড়া কম হওয়ায় যাত্রীরা বিআরটিসির বাসের প্রতি বেশি আগ্রহী। আবার বিআরটিসির বাসগুলো বেশি বড় হওয়ায় তারা একবারে অনেক যাত্রী নিয়ে যায়। বিআরটিসি বাস চালুর পর থেকে বেসরকারি বাসের যাত্রীসংখ্যা অনেক কমে গেছে। এছাড়া বিআরটিসির বাসের কারণে বেসরকারি বাসমালিকদের যেমন খুশি ভাড়া নেওয়ার সুযোগ নষ্ট হয়েছে। তাই মালিকরা লোকসানের আশঙ্কায় বাস বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। অন্যদিকে মালিকদের অভিযোগ, বিআরটিসির বাস কোন জায়গায় কীভাবে চলাচল করবে তার নিয়মকানুন উপেক্ষা করা হচ্ছে। তাদের আশঙ্কা সারাদেশে বিআরটিসি ছাড়িয়ে পড়তে পারে। অর্থাৎ এখানে যাত্রীসেবা নয়, তাদের ব্যক্তিগত স্বার্থচিন্তাই মুখ্য।

মূলত দেশের সড়ক পরিবহন ব্যাবস্থা এই বাস-ট্রাক মালিক ও শ্রমিকদের হাতে জিম্মি হয়ে আছে। এই দশা চিরকাল চলতে পারে না। সরকার জনকল্যাণের কথা চিন্তা করে বিআরটিসির মাধ্যমে বাস নামাতেই পারে। বেসরকারি পরিবহনের সঙ্গে সরকারি পরিবহনও চলবে, এটাই স্বাভাবিক। এজন্য প্রতিযোগিতা থাকতে পারে। সেবার মান বৃদ্ধি করে যাত্রীদের আকৃষ্ট করতে হবে। কিন্তু সরকারি বাস চলাচলের প্রতিবাদে সব ধরণের গণপরিবহন বন্ধ করে দিয়ে মানুষকে বিপদে ফেলার কোনও মানে হয় না। এটি সম্পূর্ণ অনৈতিক এবং অপরাধমূলক কাজ। সরকারের সঙ্গে সমঝোতায় ব্যর্থ হয়ে পরিবহন মালিক ও শ্রমিকদের এভাবে কথায় কথায় বাস বন্ধ করে সাধারণ মানুষকে জিম্মি করার ঔদ্ধত্য কোনভাবেই গ্রাহ্য করা যায় না। আমরা আশা করি তারা দ্রুত এই অপসংষ্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসবে।

পাঠকের মন্তব্য: (পাঠকের কোন মন্তব্যের জন্য কর্তৃপক্ষ কোন ক্রমে দায়ী নয়)