ব্রেকিং নিউজ
বাংলা

আপডেট ১৩ মিনিট ২০ সেকেন্ড

ঢাকা বুধবার, ৯ মাঘ, ১৪২৬ , শীতকাল, ২৫ জমাদিউল-আউয়াল, ১৪৪১

সম্পাদকীয় পাটকল শ্রমিকদের সমস্যা সমাধানে উদ্যোগী হোন

পাটকল শ্রমিকদের সমস্যা সমাধানে উদ্যোগী হোন

নিরাপদ নিউজ: বকেয়া বেতন ভাতা পরিশোধ ও মজুরি কমিশন বাস্তবায়নসহ এগারো দফা দাবিতে রাস্তায় নেমে এসেছেন খুলনাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকার পাটকল শ্রমিকরা। বাংলাদেশ জুট করপোরেশন রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকলগুলোর শ্রমিক সংখ্যা এখন প্রায় ৫৭ হাজার। আর বিভিন্ন স্থানে অনশন করছেন প্রায় ৩০ হাজার পাটকল শ্রমিক। তবে দাবিগুলোর ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এখনো কোনো উদ্যোগ নিচ্ছে না এমন অভিযোগ শ্রমিকদের। অনশনের কারণে শত শত শ্রমিক অসুস্থ হয়ে পড়েছেন এবং এরমধ্যে খুলনায় একজন শ্রমিক মারাও গেছেন।

জানা গেছে, রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকলের শ্রমিকরা মজুরি পায় ২০১০ সালের মজুরি কমিশনের রিপোর্টের ভিত্তিতে। কিন্তু গত ১০ বছরে নিত্যপণ্যের মূল্য বেড়ে যাওয়ায় জীবন নির্বাহের খরচ বেড়েছে প্রায় তিন গুণ। সেই সঙ্গে দুই মাসের মজুরি বাকি। এ বৈষম্য, বঞ্চনা ও অবহেলার বিরুদ্ধে আন্দোলন করলেও সমাধান মিলছে না। খুলনা অঞ্চলে চলা এ আন্দোলন ইতোমধ্যে দেশের রাষ্ট্রায়ত্ত অন্য পাটকলগুলোতেও ছড়িয়ে পড়েছে। দেশের ২৬টি রাষ্ট্রায়াত্ত পাটকলের মধ্যে ১২টি পাটকলের শ্রমিকরা এই আমরণ অনশন কর্মসূচিতে অংশ নিচ্ছেন। এর মধ্যে রয়েছে খুলনা অঞ্চলের নয়টি, রাজশাহীর একটি নরসিংদীর একটি এবং চট্টগ্রামের একটি পাটকলের শ্রমিকরা রয়েছেন বলে শ্রমিক নেতারা জানিয়েছেন।

শ্রমিকদের ১১ দফার দাবির মধ্যে ২০১৫ সালের মজুরি কমিশনের রিপোর্টের ভিত্তিতে মজুরি প্রদান ও বকেয়া ৯ থেকে ১০ সপ্তাহের মজুরি পরিশোধ প্রধান দাবি। শ্রমিকদের মজুরি দেওয়া হয় ২০১০ সালের মজুরি কমিশনের ভিত্তিতে। ২০১০ সালের পর নিত্যপণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ার কারণে গত ১০ বছরে জীবনযাপনের ব্যয় বেড়েছে প্রায় তিনগুণ। এব সব কথা চিন্তা করে সরকার মজুরি কমিশন গঠন করে। এবং প্রায় ৮১ শতাংশ বৃদ্ধি করে মজুরি পুনর্নির্ধারণ হয়। যা ২০১৫ সাল থেকে কার্যকর হওয়া কথা। রাষ্ট্রায়ত্ত অন্যান্য খাতের শ্রমিক, সরকারী কর্মচারীরা ঠিকই বর্ধিত হারে বেতন পাচ্ছে। কিন্তু পাটকল শ্রমিকরা পাচ্ছেন ২০১০ সালের মজুরি কমিশনের রিপোর্ট অনুযায়ী।

শ্রমিকরা জানান, তাদের দুই থেকে তিন মাসের মজুরি বকেয়া পড়ে আছে। এছাড়া সপ্তাহ ভিত্তিতে মজুরি দেওয়ায় সংসারের হিসাব নিকাশ ও অন্যান্য খরচ তারা সেভাবেই করে থাকেন। কিন্তু ৯ থেকে ১০ সপ্তাহ পর্যন্ত মজুরি বাকি। দোকানে বাকি আর সন্তান-সন্ততিদের খরচ চালাতে না পেরে তারা দিশাহারা। তারা বলেন, চাকরি করার পরও না খেয়ে থাকার চেয়ে অনশন করে মরে যাওয়া ভালো। খালি হাতে ঘরে ফিরবেন না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন আন্দোলনকারীরা।

শ্রমিকদের আন্দোলন যৌক্তিক। এ ব্যাপারে বিজেএমসিকে যথাযথ উদ্যোগ নিতে হবে। জানা গেছে, সর্বশেষ শ্রমিকদের বকেয়া মজুরি বাবদ ১০০ কোটি টাকা দেয়া হলেও পুরো বকেয়া পরিশোধ করা যায়নি। তারপরও এই মজুরি দেওয়া হয়েছে ২০১০ সালের মজুরি কমিশনের ভিত্তিতে। ২০১৫ সালের মজুরি কমিশনের ভিত্তিতে বয়েকা পরিশোধ করতে গেলে আরও বেশি লাগতো।

কিন্তু পুরনো মজুরি কমিশনের ভিত্তিতে বকেয়া পরিশোধ করতে গিয়েই যদি কর্তৃপক্ষের ঘাম ছুটে যায় তাহলে পাট খাতকে টিকিয়ে রাখতে তাদের কী অবস্থা হবে? একসময়ের প্রধান অর্থকরী এই খাতকে যখন সরকার এগিয়ে নেয়ার চেষ্টা করতে তখন শ্রমিকদের ন্যায্য পাওনার জন্য অনশন-আন্দোলন অশনি সংকেত বহন করছে। আমরা আশা করি পাটকল শ্রমিকদের সমস্যা নিয়ে কর্তৃপক্ষের নীরবতার অবসান হবে এবং তা সমাধানের জন্য উদ্যোগী হবে।

পাঠকের মন্তব্য: (পাঠকের কোন মন্তব্যের জন্য কর্তৃপক্ষ কোন ক্রমে দায়ী নয়)