ব্রেকিং নিউজ
বাংলা

আপডেট ১৯ মিনিট ১৪ সেকেন্ড

ঢাকা সোমবার, ১ পৌষ, ১৪২৬ , শীতকাল, ১৮ রবিউস-সানি, ১৪৪১

রংপুর, সড়ক সংবাদ পাটগ্রামে বন্যায় বিধ্বস্ত সেতু: সংস্কার হয়নি তিন বছরেও, ভোগান্তিতে ২০ হাজার মানুষ

পাটগ্রামে বন্যায় বিধ্বস্ত সেতু: সংস্কার হয়নি তিন বছরেও, ভোগান্তিতে ২০ হাজার মানুষ

আজিজুল ইসলাম বারী, নিরাপদ নিউজ: বন্যায় বিধ্বস্ত হওয়ার ৩ বছর পেরিয়ে গেলেও লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার জগতবের ইউনিয়নের আঞ্চলিক সড়কের  দেওদাপাড়া গ্রামে খালের উপর সেতুটি নির্মাণ করা হয়নি। বর্তমানে ভেঙে যাওয়ার কারণে  বাঁশের সাঁকো ওপর দিয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে অর্ন্তত ২০ হাজার  মানুষ চলাচল করছেন। এতে  ওই নরবড়ে ভাঙা সাঁকো দিয়ে যাতায়ত  করতে গিয়ে ২৫ ব্যক্তি আহত হয়েছে।
স্থানীয় উপজেলা প্রকৌশলীর কার্যালয় ও এলাকাবাসী সূত্রে জানায়, জগতবের ইউনিয়নের  দেওদাপাড়া গ্রামের ১৯৯২ সালের  দিকে ৫০ ফুটের দৈর্ঘ্যরে সেতুটি নির্মান করা হয়। ২০১৭ সালের আগষ্ট মাসের বন্যায় সেতুটি বিধ্বস্ত হয়। দুই পাশের সংযোগ সড়কের মাটি সরে যায়।  ফলে বিধ্বস্ত সেতুটির দুই মুখে  বাঁশের সাঁকো তৈরি করে এলাকাবাসী চলাচলের  জন্য তৈরি করেন। কিন্তু সেটিও এখন ভাঙা ও নরবড়ে। এতে পারাপার হতে গিয়ে মোটরসাকেল, পথচারী, বাইসাইকেলসহ খালের পানিতে পড়ে ২৫ ব্যক্তি আহত হয়েছেন।
স্থানীয় বাসিন্ধারা আরও জানান, জগতবের ইউনিয়নের দেওতাপাড়া গ্রাম  নামক স্থানে বিধ্বস্ত সেতুটির উত্তর দিকে দেওতাপাড়া গ্রামসহ ১৩টি গ্রাম দুই ভাগে ভাগ করেছে।  ওই ইউনিয়নের  দেওদাপাড়া, পশ্চিম জগতবের, সুধিরটারী,হেল্লাপাড়া, মেছপাড়া, ইছারটারী, মাচের্ন্ট টারী, কোম্মানিরটারী, এবাদত গণিরটারী, জলিলেরটারী, খাতাপাড়া, ২নম্বর ভোটহাটখাতা, সফিউদ্দিনেরটারী, মন্তাহাজীর টারী, দুটি প্রাথমিক বিদ্যালয়, দুইটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাসহ  পাটগ্রাম ইউনিয়নের আংশিক গ্রামের লোকজন  ওই বিধ্বস্ত সেতু ওপর দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে  পারাপার হয়ে দক্ষিন দিকে উপজেলা সদরের পাকা সড়কসহ ওই জগতবের ইউনিয়ন পরিষদের কার্যালয়, তিনটি প্রাথমিক বিদ্যালয়, দুইটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়সহ উপজেলা সদরের হাটবাজারের কৃষকেরা তাদের  কৃষিপণ্যসহ স্কুল-কলেজর শিক্ষার্থীরা  যাতায়াত  করেন।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, সেখানে খালে উপর বিধ্বস্ত সেতুটি কাত হয়ে আছে। এতে দুই মুখের সংযোগের  মাটি সরে খালে পরিণত হয়েছে। এই খালে নড়বড়ে খুটির উপর এক দক্ষিণ পাশে কিছু বাঁশ দিয়ে সাঁকে রয়েছে ও অপর উত্তর পাশে বাঁশের সাঁকোটি একটু কাত হয়ে আছে। কাত ও ভাঙা হওয়া সাঁকোটিকে  বাঁশ দিয়ে আটকিয়ে রাখা হয়েছে যাতে সেটি  পড়ে না যায়। ওই সাঁকো দিয়ে চলাচল করছে  এলাকাবাসীসহ ওই পথের দুর দুরান্তের পথচারীরাসহ প্রায় ২০ হাজার মানুষ হন।
তাছাড়াও এই পথটি দিয়ে গেলে ছয় কিলোমিটারের পাটগ্রাম উপজেলা সদরের যাওয়া যায়। তা’নাহলে পাঁচ কিলোমিটার মেঠোপথসহ ১৬ কিলোলোটার পথ ঘুরে উপজেলা সদরের যেথে হয়। যানবহনের চালকরা বেশি টাকা নিয়ে অন্য পথ ঘুরে যায়। এ সময় জগতবের ইউনিয়ন পরিষদের ২ নং ওয়ার্ড সদস্য  আব্দুর রাজ্জাক (৬০) বলেন, ‘ওই ভাঙা সাকোঁ দিয়ে পারাপার হতে গিয়ে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী ও পথচারী ২৫ পানিতে পড়ে আহত  হয়েছেন । ফলে সেতুটি নির্মান না হওয়ায় এ গ্রামের মানুষজনের কৃষিপণ্য বিক্রয়ের জন্য  উপজেলার রসুলগঞ্জ হাটে নিয়ে যেতে অতিরিক্ত খরচ করতে হচ্ছে।   সেতু উপর দিয়ে কোন পন্য বোঝাই গাড়ি পারাপার হয় না। এপাশ থেকে ওপারে নিতে হলে মাথায় করে নিয়ে যেথে হয় এতে সময় ও পরিশ্রম বেশি করতে।
কলেজ ছাত্র আব্দুর রহিম বলেন,‘ গ্রামের অনেক ছেলে মেয়ে এই ইউনিয়নের দুটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়সহ উপজেলা সদরে স্কুল কলেজে লেখাপড়া করে। সেতুটি নির্মাণ না করায় অনেকে পথ ঘুরে স্কুল ও  কলেজে যেথে হচ্ছে ফলে সময় লাগে বেশি। কারণ অটোরিকশা বা ভ্যানগাড়ি সরাসরি চলাচল করতে পারে না। অনেকেই ঝুঁকি নিয়ে এই ভাঙা সেতু দিয়ে যায়। তবে প্রথম দিকে সাঁকোটি ভালোই ছিল। পরে সাকোঁটি নড়বড়ে ও ভেঙে কয়েক জন ছাত্র ছাত্রী পরেও গেছে। এতে ভয়ে ও ছেলে মেয়েরা স্কুলে যেথে চায়না।
পশ্চিম জগতবের গ্রামের কৃষক  মো. নুর ইসলাম ডোডা (৬২) ও দেওদাপাড়া গ্রামের কৃষক  আবুল মিয়া (৬৫) বলেন ,‘গত ২০১৭ সালে বাইশা (বর্ষা) পানিত পুল ভাঙি  গেইল( গেল)। তার পর থাকি  বাইশা (বর্ষা) পানিত যায়ছেন। পুল আর ভালো হইল না।  ফির বাইশা ( চলতি বছর)  আসি গেইল তাও এই ভাঙা আর বাঁশের পুলও ভাঙায় থাকিল (আছে) তাই হামাক (আমাক) কষ্ট করি অনেক ঘাটা (পথ) চলাচল করি বাহে। এই ভাঙা বাঁশের পুল দিয়া  গ্রামের মানুষজনের কষ্ট করে  কৃষিপণ্য বিক্রয়ের জন্য  উপজেলার  সদরের হাটে নিয়ে যেতে হচ্ছে । তাই সেতুটি হলে এ অঞ্চলে ফসল সরাসরি যানবাহনে করে কৃষকেরা নির্ধারিত দিন হাটবাজারোত নিয়া যেতে পাইলে  হামার লাভ হইল হায়।
জগতবের ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান  নবিবর রহমান বলেন,‘ সেতুটি হওয়া খুবই জরুরী।   বিষয়টি স্থানীয় উপজেলা চেয়ারম্যান ও প্রকৌশলী সাথে কথা বলেছি।  তারা বলেছেন  এটি  নির্মাণে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিডি) পাটগ্রাম উপজেলা প্রকৌশলী আবু তৈয়ব মোঃ শামসুজ্জামান জানান,‘ সেতুটি তৈরির জন্য একটি প্রকল্পের প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে উধ্বর্তন কর্তৃপক্ষের নিকট । এটি প্রকল্প গ্রহনের  অনুমতি আসলেই। সেতুটির নির্মান কাজ শীঘ্রই শুরু করা যাবে।

পাঠকের মন্তব্য: (পাঠকের কোন মন্তব্যের জন্য কর্তৃপক্ষ কোন ক্রমে দায়ী নয়)