ব্রেকিং নিউজ
বাংলা

আপডেট ফেব্রুয়ারি ২৭, ২০২০

ঢাকা শুক্রবার, ২৭ চৈত্র, ১৪২৬ , বসন্তকাল, ১৬ শাবান, ১৪৪১

বিনোদন পিবিআইয়ের প্রতিবেদন পুনঃতদন্তের দাবি: ভক্তদের মানববন্ধন আগামীকাল শুক্রবার

পিবিআইয়ের প্রতিবেদন পুনঃতদন্তের দাবি: ভক্তদের মানববন্ধন আগামীকাল শুক্রবার

নিরাপদ নিউজ: ঢাকাই চলচ্চিত্রে ৯০ দশকের সবচেয়ে জনপ্রিয় নায়ক সালমান শাহ। দর্শক ও সমালোচক মহলে এখনো তিনি সমান জনপ্রিয়। ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর তার অকাল মৃত্যু ঘটে। ২৪ বছর পরেও যে মৃত্যু নিয়ে রয়েছে নানা রহস্য। বিশেষ করে এটা কি ‘হত্যা’ না ‘আত্মহত্যা’ সে বিষয়ে রয়েছে নানা মুনির নানা মত।

যে মতামতে নতুন করে আগুন ধরে ২৪ জানুয়ারি পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) তদন্ত প্রতিবেদনে। যেখানে পিবিআই প্রধান বনজ কুমার মজুমদার স্পষ্ট করেই বলেন, ‘পিবিআই’র তদন্তে সালমান শাহকে হত্যার কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। পারিবারিক কলহ ও মানসিক যন্ত্রণায় তিনি আত্মহত্যা করেছেন।’

মূলত এমন অভিমত আর তদন্ত থেকে উঠে আসা কারণগুলো কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছেন না সালমান শাহ পরিবারের সদস্য ও তার ভক্তরা।

মূলত তারই প্রতিবাদ জানাতে এবং পুরো বিষয়টি পুনঃতদন্তের দাবিতে আগামীকাল শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৩টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধনের ডাক দিয়েছে সালমান ভক্তরা। এর আহ্বায়ক তথা সালমান শাহ’র শীর্ষ ভক্তদের মধ্যে অন্যতম মাসুদ রানা নকীব বলেন, ‘চিত্রনায়ক সালমান শাহকে নিজেদের প্রযোজিত, পরিচালিত সিনেমায় চুক্তিবদ্ধ করাতে না পেরে এবং তার ব্যাপক জনপ্রিয়তায় ঈর্ষান্বিত হয়ে সিনেমা ইন্ডাস্ট্রিকেন্দ্রিক প্রভাবশালী একটি মহল নানা ষড়যন্ত্র ও নোংরা রাজনীতিতে লিপ্ত ছিল তখন। সালমানকে জড়িয়ে মনগড়া, বানোয়াট, ভিত্তিহীন ও মিথ্যা খবর একের পর এক প্রকাশ করিয়ে তার সুন্দর এবং স্বাভাবিক জীবন অতিষ্ঠ করে তুলেছিল। শাবনূরের সঙ্গে প্রেম ও বিয়ের গুঞ্জন ছড়িয়ে তার সুখের সংসারে অশান্তি তৈরি করে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করেছিল। এমনকি জীবিত থাকতে সালমান শাহ্‌ ঢাকার তেজতুরী বাজার, ধানমন্ডি ঈদগাহ মাঠ ও চট্টগ্রামে শ্বশুরবাড়ি সংলগ্ন এলাকায় তিনবার সন্ত্রাসী হামলার শিকার হয়েছিলেন। অথচ গুরুত্বপূর্ণ এই বিষয়গুলো এড়িয়ে গিয়ে পিবিআই শুধুমাত্র ‘পারিবারিক কলহ’ নিয়েই দীর্ঘ সময় ধরে তদন্ত করে অবশেষে ‘আত্মহত্যা’ উল্লেখ করে মহামান্য আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করল! এই তদন্ত আমরা মানি না। সে জন্যই আমাদের এই মানববন্ধনের ডাক।’

নকীব আরও বলেন, ‘আমরা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নিকট বিনীত অনুরোধ জানাই, সালমান শাহ’র সঙ্গে ঘটে যাওয়া প্রত্যেকটি ঘটনা-দুর্ঘটনার বিস্তারিত কারণগুলো গুরুত্ব দিয়ে যেন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ পুনঃতদন্ত করা হয়।’

১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর মারা যান চৌধুরী মোহাম্মদ শাহরিয়ার ইমন ওরফে সালমান শাহ। ওই সময় এ বিষয়ে অপমৃত্যুর মামলা করেন তার বাবা কমরউদ্দিন আহমদ চৌধুরী। ১৯৯৭ সালের ৩ নভেম্বর আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেয় সিআইডি। এতে সালমান শাহ’র মৃত্যুকে ‘আত্মহত্যা’ বলে উল্লেখ করা হয়। সিআইডির প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করে কমরউদ্দিন আহমদ চৌধুরী মহানগর দায়রা জজ আদালতে রিভিশন আবেদন করেন।

পরে ১৯৯৭ সালের ২৪ জুলাই ছেলেকে হত্যা করা হয়েছে অভিযোগ করে মামলাটিকে হত্যা মামলায় রূপান্তরিত করার আবেদন জানান তিনি। অপমৃত্যুর মামলার সঙ্গে হত্যাকাণ্ডের অভিযোগের বিষয়টি একসঙ্গে তদন্ত করতে গোয়েন্দা সংস্থাক সিআইডিকে নির্দেশ দেন আদালত।

গত ৩ নভেম্বর ১৯৯৭ সালে আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেয় সিআইডি। চূড়ান্ত প্রতিবেদনে সালমান শাহ’র মৃত্যুকে আত্মহত্যা বলে উল্লেখ করা হয়। ২৫ নভেম্বর ঢাকার সিএমএম আদালতে এটি গৃহীত হয়। সিআইডি’র প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করে তার বাবা কমরউদ্দিন আহমদ চৌধুরী রিভিশন মামলা দায়ের করেন।

২০০৩ সালের ১৯ মে মামলাটি বিচার বিভাগীয় তদন্তে পাঠায় আদালত। এরপর প্রায় ১৫ বছর মামলাটি সেই তদন্তে ছিল।

২০১৪ সালের ৩ আগস্ট ঢাকার সিএমএম আদালতের বিচারক বিকাশ কুমার সাহার কাছে বিচার বিভাগীয় তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন মহানগর হাকিম ইমদাদুল হক। এ প্রতিবেদনে সালমান শাহ’র মৃত্যুকে অপমৃত্যু হিসেবে উল্লেখ করা হয়।

২০১৪ সালের ২১ ডিসেম্বর এ চিত্রনায়কের মা নীলা চৌধুরী ছেলের মৃত্যুতে বিচার বিভাগীয় তদন্ত প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান এবং ওই প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে নারাজি দেবেন বলে আবেদন করেন।

২০১৫ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি নীলা চৌধুরী ঢাকা মহানগর হাকিম জাহাঙ্গীর হোসেনের আদালতে বিচার বিভাগীয় তদন্ত প্রতিবেদনের বিষয়ে নারাজির আবেদন দাখিল করেন। সে আবেদনে উল্লেখ করা হয়, আজিজ মোহাম্মদ ভাইসহ ১১ জন তার ছেলে সালমান শাহ’র হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকতে পারেন।

মামলাটি এরপর র‍্যাব তদন্ত করে। তবে তাদের দ্বারা তদন্তের আদেশের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ গত বছরের ১৯ এপ্রিল মহানগর দায়রা জজ আদালতে একটি রিভিশন মামলা করে। ২০১৬ সালের ২১ আগস্ট ঢাকার বিশেষ জজ ৬-এর বিচারক ইমরুল কায়েস রাষ্ট্রপক্ষের রিভিশনটি মঞ্জুর করেন এবং র‍্যাবকে মামলাটি আর না তদন্ত করার আদেশ দেন। তখন থেকে মামলাটি তদন্তের দায়িত্বে আছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। এরপরও নানা কারণে দফায় দফায় প্রতিবেদন প্রকাশের তারিখ পেছানো হয়। যা সর্বশেষ প্রকাশ হলো ২৪ জানুয়ারি।

পাঠকের মন্তব্য: (পাঠকের কোন মন্তব্যের জন্য কর্তৃপক্ষ কোন ক্রমে দায়ী নয়)