আপডেট ৩ মিনিট ৩০ সেকেন্ড

ঢাকা মঙ্গলবার, ২৫ অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ , হেমন্তকাল, ১২ রবিউস-সানি, ১৪৪১

ফিচার, লাইফস্টাইল পৃথিবীর আদিমতম সম্পর্কের নাম ভালোবাসা, ভালোবাসা আছে বলেই বেঁচে আছি থাকবো

পৃথিবীর আদিমতম সম্পর্কের নাম ভালোবাসা, ভালোবাসা আছে বলেই বেঁচে আছি থাকবো

i90
এনএসসি-সোহাগঃ বছরের ৩৬৫ দিনকে ঘিরে কতগুলো দিবসের যে জন্ম হয়েছে তার নির্দিষ্ট সংখ্যা জানতে কারো সঠিক ভাবে জানা আছে বলে মনে হয় না। আধুনিকতার সঙ্গে তাল মেলাতে গিয়ে দিন দিন একাধিক দিবস পালনের সংস্কৃতি চালু হতে শুরু করেছে অন্যান্য দেশের মতো আমাদের এই দেশেও। কোন দিবসের কথা উঠলেই এখন আমরা অন্ধভাবে তা অনুকরণ করার প্রতিযোগীতায় নামি । এসব দিবস পালনে জাতি কতটুকু উপকৃত হয় তার ইতিবাচক ও নেতিবাচক প্রভাবের হিসাব ছাড়াই আমরা ঘটা করে পালন করে যাই এসব দিবস । এর মধ্যে এমনই একটি ‘বিশ্ব ভালবাসা’ দিবস । পৃথিবীতে নানাভাবে ভালোবাসার বর্ণনা দেয়া হলেও মূলত ভালোবাসার সর্বজনীন কোনো সংজ্ঞা আজও নির্দিষ্ট হয়েছে বলে মনে হয় না। তবে পৃথিবীর আদিমতম সম্পর্কের নাম ভালোবাসা। ভালোবাসা আছে বলেই আমরা বেঁচে আছি, বেঁচে থাকবো। আজ বিশ্ব ভালোবাসা দিবস। কারো কাছে ভালোবাসার জন্য আলাদা একটি দিন আজ। কারো চোখে মায়ার কাজল মেখে দুরু দুরু বুকে ভালোবাসা প্রকাশের মধুর দিন আজ। রৌদ্রকরোজ্জ্বল শুভ্র সকাল, রূপালী দুপুর, আর মায়াবী রাত- আজকের পুরো সময়টা কেবলই অনেকের কাছে শুধূই ভালোবাসার ক্ষণ।
ভালোবাসার জন্য কেউ সাম্রাজ্য ত্যাগ করেছে, কেউ জীবন দিয়ে হয়েছেন ওমর। সেই ভালোবাসাকে চিরঞ্জীব করে রাখতে ইতিহাসের পাতা থেকে উঠে এসেছে ‘ভ্যালেন্টাইন্স ডে’ বা ‘বিশ্ব ভালোবাসা দিবস’ আজকের এই দিনটি। বিশ্ববাসীর সঙ্গে সঙ্গে সম্প্রতি বাংলাদেশেও তরুণ-তরুণীরাও বেশ ঘটা করেই পালন করছে দিবসটি। যদিও উন্নত দেশগুলোর মতো বলবো এখনো এই দিবস নিয়ে আমরা বাঙ্গালীরা হারাতে বসিনি নিজেদের সাংস্কৃতি ঐতিহ্যকে, নিজেদের সন্মানকে। তবে ভীষন ভয়ে আছি কবে না জানি আমাদের অতি আধুনিকতার ছোয়ায় সেই সব দেশের মতো শূনতে হয় লজ্জাকর বাণী! তোমরা এই দিনে একসাথে কেউ রাস্তায় বেড় হলেই ধরে ধরে এনে বিয়ে দিয়ে দেওয়া হবে! এই দিনে কেউ কাউকে ফুল দিলে কাটগড়ায় তোলা হবে! আসলে ভাবতেও অবাক লাগে কিছু উন্নত দেশের কিছু মানুষের ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ এতটাই নগ্ন এতটাই বিবেগহীন হয়ে পড়েছে যে সে দেশের রাষ্ট্রও আজ লজ্জায় কঠোর আইন করতে বাধ্য হচ্ছেন।
কদিন আগে ইন্টারনেটে অনলাইনে চোখে পড়লো থাইল্যন্ডে সরকার দেশের তরুণ তরুনীদের প্রতি অনুরোধ জানাচ্ছেন , এই বলে যে তোমরা ভালোবাসার এইদিনটিতে সবাই গির্জায় এসো। এতে তোমাদের কুমারিত্ব রক্ষা পাবে! কুমারি মেয়েদের এই দিনটিতে বাড়ি থেকে বের হওয়া নিষেধ। সেসব দেশের তুলনায় আমরা বোধহয় অনেকটা ভালো অবস্থানে আছি বলাই চলে। আমরা এখনো সে সব পরিস্থিতিতে প্রবেশ করিনি। কামনা করি এটাই, নিষিদ্ধ যৌবন কামনার তাড়নায় আষ্টে-পৃষ্ঠে আটকে যেন না যায় আমাদেরব বিচার-বুদ্ধিবোধ, বিবেক। আজ ভালোবাসা দিবসে আমরা কেন শুধু তরুণ-তরুনীদের প্রেম ভালোবাসাকেই বুঝি? বাবার প্রতি ভালোবাসা মায়ের প্রতি ভালোবাসা বোনের প্রতি ভাইয়ের প্রতি বন্ধুবান্ধবের প্রতি এই দেশর প্রতি যে ভালোবাসা তা কি এই দিবসের সঙ্গে যায় না? নাকি মানায় না? মানাক আর না মানাক তবু আমি এই ভালোবাসা দিবসে তাদেরকেই ভালোবেসে যাব। যাদেরকে আমি সত্যি সত্যি বড় ভালোবাসি। ভালোবাসি বলেই তাদের হারাতে চাইনা কখনোই। তাদের কাছেই বারবার ফিরে আসি। আমি ভালোবাসি পদ্মা-মেঘনা যমুনার স্রোত ধারা, আমি ভালোবাসি বাউলের একতারা। আমি ভালোবাসি টিনের চালায় আষাঢ় মাসের বৃষ্টি , আমি ভালোবাসি গাঁয়ের মানুষের সরল চোখের দৃষ্টি। আমি ভালোবাসি বাঁশ বাগানের মাথার ওপর চাঁদ, আমি ভালোবাসি জোনাকির আলো মাখা রাত।
আমি ভালাবাসি দাদির হাতের পান, আমি ভালোবাসি নানীর মুখে সোলক বলা কাজলা দিদির গান। আর ভালোবাসি মানুষকে , তবে কোন নির্দিষ্ট সংখার কোন বিপরীত লিঙ্গের কাউকে নয় । দেশের ১৬কোটি মানুষকেই ভালোবাসি আমি। হয়তো আমার ছোট্র বুকের ভেতর থাকা ভালোবাসার পরিধিটা বিশাল। তাই দেশের সব মানুষকে আমার ভালোবাসা সমান ভাগে ভাগ করে দিলেও এই ভালোবাসা ফুরাবেনা এতটুকুও। ভালোবাসি ভালোবাসবো যতদিন বাঁচবো। এই ভালোবাসা দিয়েই ভালোবাসা জয় করবো। আসুন আমরা সবাই নিজ নিজ অবস্থান থেকে ভালোবাসি এই দেশ মাটি মাকে। একমাত্র ভালোবাসাই পারে দেশ মানুষ সবাইকে সুখে রাখতে। পৃথিবীতে কেবল ভালবাসা আছে বলেই আমরা এখনো টিকে আছি। প্রতিটা সম্পর্কই ভালবাসা দিয়ে গড়া। মা-বাবা,ভাই-বোন,স্বামী-স্ত্রী,প্রেমিক-প্রেমিকা যে কোন সর্ম্পকের কথা বলিনা কেন সব কিছুর ভিত্তিই হল ভালবাসা। শুধু ভালবাসা দিবসে নয় আমাদের জীবনের প্রতিটা খন যেন ভালবাসায় ভালবাসায় ভালবাসাময় হয়ে উঠে । আর সাথে সাথে সব অমানিশা দূর হোক এই প্রত্যাশায় সবাইকে জানাই আমার ভালোবাসাময় গোলাপের শুভেচ্ছা। সবার জীবন হোক নিরাপদ । ( সাংবাদিক, এনএসসি-সোহাগ। সাধারণ সম্পাদক ‘নিরাপদ সড়ক চাই’ বগুড়া জেলা কমিটি বগুড়া।

পাঠকের মন্তব্য: (পাঠকের কোন মন্তব্যের জন্য কর্তৃপক্ষ কোন ক্রমে দায়ী নয়)