আপডেট ডিসেম্বর ২৭, ২০১৬

ঢাকা রবিবার, ২৩ অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ , হেমন্তকাল, ১০ রবিউস-সানি, ১৪৪১

কিডস প্রযুক্তির স্ক্রিনে শিশুদের স্থূলতা সমস্যা

প্রযুক্তির স্ক্রিনে শিশুদের স্থূলতা সমস্যা

প্রযুক্তির স্ক্রিনে শিশুদের স্থূলতা সমস্যা

২৭ ডিসেম্বর ২০১৬, নিরাপদ নিউজ : বহু দিন ধরেই বিজ্ঞানীরা বলে আসছেন, দীর্ঘ সময় ধরে টেলিভিশন দেখা শিশুদের স্থূলতার জন্য দায়ী। কিন্তু আমেরিকার এক গবেষণায় বলা হয়েছে, ছোট ছোট স্ক্রিনও এর জন্য দায়ী।

কম্পিউটার, গেমিং কনসোল, ট্যাব এবং স্মার্টফোনও ওজন বৃদ্ধি ঘটায়।

দিনে কমপক্ষে ৫ ঘণ্টা টেলিভিশন দেখার অভ্যাসে স্থূলতার ঝুঁকি বাড়ে ৭৮ শতাংশ। আর অন্যান্য প্রযুক্তি নিয়ে পড়ে থাকার অভ্যাসে ঝুঁকি বাড়ে ৪৩ শতাংশ। জার্নাল অব পেডিয়াট্রিসের গবেষণায় এ তথ্য দেওয়া হয়েছে।

হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটির পাবলিক হেলথ বিষয়ক গবেষণায় ড. এরিকা জানান, সময় এতো বদলে গেছে যে মানুষ প্রচুর পরিমাণে প্রযুক্তির যন্ত্র ব্যবহার করছে। অনেক দিন ধরেই আমরা জেনে আসছি যে দীর্ঘ সময় ধরে টিভি দেখলে শিশুদের স্থূলতার ঝুঁকি বাড়ে। এর কারণে অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস দেখা দেয়।

ছোট-বড় স্ক্রিন কতটা ক্ষতিকর হয়ে ওঠে তা বুঝতে ২০১৩-২০১৫ সালের তথ্য সংগ্রহ করা হয়। তাতে দেখা যায়, ১৭ শতাংশ শিশু-কিশোর খুব বেশি টিভি দেখে না। কিন্তু ৭.৮ শতাংশ দিনে ৫ ঘণ্টার মতো টেলিভিশন দেখে।

তারা চিনিপূর্ণ পানীয় কি পরিমাণ পান করে তাও দেখার চেষ্টা করা হয়। ২৫ শতাংশ ছেলে এবং ২০ শতাংশ মেয়ে প্রতিদিন অন্তত একটি বেভারেজ পান করে। এ গবেষণায় ২৪ হাজার ৮০০ জন শিশু-কিশোরের তথ্য নেওয়া হয়েছে। তাদের ১৪ শতাংশ স্থূলতার সমস্যায় ভুগছে।

বয়স, লিঙ্গ, বর্ণ এবং গোত্র ভেদে টেলিভিশন স্ক্রিন দারুণ ক্ষতিকর হয়ে ওঠে। এর সঙ্গে চিনিপূর্ণ পানীয় ঝুঁকির মাত্রা বৃদ্ধি করে।

অন্যান্য স্ক্রিনের সঙ্গে অপর্যাপ্ত ঘুমের সম্পর্ক রয়েছে। এ ছাড়া অস্বাস্থ্যকর খাবার গ্রহণও বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়ায়।

অতীতের কিছু গবেষণায় বলা হয়েছে, অতিরিক্ত টেলিভিশন স্থূলতার কারণ। কিন্তু এ সময় কমিয়ে আনলে ওজন নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। এমনটাই জানান ইউনিভার্সিটি অব নর্থ ক্যারোলিনার স্কুল অব মেডিসেনের গবেষক এবং আমরিকান অ্যাকাডেমি অব পেডিয়াট্রিসের কাউন্সিল অন কমিউনিকেশন্স অ্যান্ড মিডিয়ার ড. ডেভিড হিল। তবে অন্যান্য স্ক্রিনের ভূমিকা স্পষ্ট নয়।

হিল বলেন, তাই আমরা বাবা-মাকে উৎসাহ দেব। শিশুদের টেলিভিশন ও প্রযুক্তির স্ক্রিনের পেছনে কতটা সময় দেয় তা যেন তারা পর্যবেক্ষণ এবং নিয়ন্ত্রণ আরোপ করেন। বাচ্চাদের ঘুম যেন পর্যাপ্ত হয় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। এ ছাড়া খেলাধুলা, ব্যায়াম এবং পরিবারের সঙ্গে আলাদা সময় দেওয়ার বিষয়েও মনোযোগ দিতে হবে।

পাঠকের মন্তব্য: (পাঠকের কোন মন্তব্যের জন্য কর্তৃপক্ষ কোন ক্রমে দায়ী নয়)