ব্রেকিং নিউজ
বাংলা

আপডেট ফেব্রুয়ারী ১৬, ২০১৬

ঢাকা সোমবার, ১ পৌষ, ১৪২৬ , শীতকাল, ১৭ রবিউস-সানি, ১৪৪১

সংবাদ বিজ্ঞপ্তি প্রস্তাবিত “বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন আইন- ২০১৬” এর উপর সড়ক নিরাপত্তা সম্পর্কিত মাল্টি-স্টেকহোল্ডার সামাজিক জোটের প্রাথমিক মতামত ও প্রক্রিয়া

প্রস্তাবিত “বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন আইন- ২০১৬” এর উপর সড়ক নিরাপত্তা সম্পর্কিত মাল্টি-স্টেকহোল্ডার সামাজিক জোটের প্রাথমিক মতামত ও প্রক্রিয়া

প্রস্তাবিত “বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন আইন- ২০১৬” এর উপর সড়ক নিরাপত্তা সম্পর্কিত মাল্টি-স্টেকহোল্ডার সামাজিক জোটের প্রাথমিক মতামত ও প্রক্রিয়া

প্রস্তাবিত “বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন আইন- ২০১৬” এর উপর সড়ক নিরাপত্তা সম্পর্কিত মাল্টি-স্টেকহোল্ডার সামাজিক জোটের প্রাথমিক মতামত ও প্রক্রিয়া

১৬ ফেব্রুয়ারী. ২০১৬, নিরাপদ নিউজ:

জনাব ওবাদুল কাদের
মাননীয় মন্ত্রী, সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়
ভবন নং ৭, ৯ম তলা
বাংলাদেশ সচিবালয়, ঢাকা।

বিষয়: প্রস্তাবিত “বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন আইন- ২০১৬” এর উপর সড়ক নিরাপত্তা সম্পর্কিত মাল্টি-স্টেকহোল্ডার সামাজিক জোটের প্রাথমিক মতামত ও প্রক্রিয়া।

মাননীয় মন্ত্রী মহোদয়,
সড়ক নিরাপত্তা ও মানসম্মত সড়ক-সেবা বিকাশমান বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এজেন্ডা। এ লক্ষ্যে আপনার উদ্যোগে মটরযান নিয়ন্ত্রণে পুরনো আইন সংশোধন করে সম্পূরক দুটি নতুন আইন বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্র্তপক্ষ আইন, ২০১৫ ও বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন আইন ২০১৬ প্রণয়ণের সিদ্ধান্ত অত্যন্ত প্রশংসার দাবী রাখে। সরকারের এই আন্তরিকতা যাতে প্রণীত আইনে যথাযথ প্রতিফলন ঘটে সে লক্ষ্যে সড়ক নিরাপত্তা বিষয়ে নাগরিক সমাজের কিছু উদ্যোগী সংস্থা ও ব্যক্তি প্রস্তাবিত আইন সমূহের বাস্তব-ভিত্তিক পর্যালোচনা ও তার উপর ভিত্তি করে পরামর্শ প্রণয়ন করার উদ্যোগ নেয়। আমরা কৃজ্ঞতার সাথে স্মরণ করছি ইতোপূর্বে বি.আর.টি.এ আইন ২০১৫ এর উপর এ ধরণের নাগরিক পর্যালোচনার সুযোগ আপনি তৈরী করে দিয়েছেন, যার সূত্র ধরে আমরা যোগাযোগ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্ট্যান্ডি কমিটির সম্মুখে সেই আইনের কিছু দুর্বলতা চিহ্নিত করে যুগোপোযোগী পরামর্শ উপস্থাপন করেছিলাম।

দ্বিতীয় আইনটি- বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন আইন- ২০১৬ এর ক্ষেত্রেও আপনি নাগরিক সমাজের পর্যালোচনা সুযোগ করে দেওয়ার জন্য নতুন করে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। বিশেষজ্ঞ ও অন্যান্য স্টেক-হোন্ডারদের নিয়ে আমরা প্রস্তাবিত আইনের খসড়া আলোচনা উদ্যোগ নিই। এ ক্ষেত্রে আমাদের প্রত্যাশা ছিল খসড়া আইনটি যোগাযোগ সেক্টরের বিরাজমান নিরাপত্তা ঝুঁকি ও মানব-সৃষ্ট অব্যবস্থাপনার মূল বিষয়গুলি চিহ্নিত করে সড়ক-সেবা গ্রহণকারী বিশাল জনগোষ্ঠীর নিত্যদিনের নানা প্রকার কষ্ট, সংকট এবং বাধা দূর করার উপযোগী আইনী বিধান এনে একটি পূর্ণাঙ্গ, আধুনিক ও ভবিষ্যতমুখী যোগাযোগ ব্যবস্থা প্রবর্তনের ভিত রচনা করবে। দুঃখের বিষয় খসড়া আইটি সড়ক-সেবা উন্নতিতে সরকারের আন্তরিকতার প্রতিফলন ঘটতে পারেনি।
আমাদের প্রাথমিক পর্যালোচনা যে সকল গভীর দুর্বলতা ও অসংগতি উঠে এসেছে, তাতে আমরা এই সিদ্ধান্তে উপনীত হতে বাধ্য হয়েছি। যে পুরনো আইনের উন্নতি পরিবর্তে প্রস্তাবিত আইনটি বিদ্যমান অব্যবস্থাপনা ও অসংগতি আরও জটিল করে তুলবে। সড়ক সংক্রান্ত অপরাধ নির্ণয়ে ও এতদসংক্রান্ত সুবিচার নিশ্চিত করার আইনি বিধানে ব্যাপক অসংগতি লক্ষ্য করা গেছে। একদিকে অপরাধসমূহ সুনির্দিষ্টভাবে চিহ্নিত করা নাই। অন্যদিকে সকল অপরাধকে জামিনযোগ্য ও আপোষযোগ্য করা হয়েছে। একই সাথে অপরাধ সংক্রান্ত গ্রেপ্তারী ও মোবাইল কোর্ট ক্ষমতার ব্যাপক সম্প্রসারণ করা হয়েছে। প্রস্তাবিত আইনের ভাষায় অস্পষ্টতার সুযোগে আইন প্রয়োগকারীদের সাথে চালক-মালিক-যাত্রীদের একটি সাংঘর্ষিক অবস্থা সৃষ্টি হওয়ার ঝুঁকি দেখা দিয়েছে। আমাদের দেশে এ পর্যন্ত অনুসরণ করা আইনের ভাষা, ব্যাখ্যা এবং কাঠামো অনুসরণ না করে প্রস্তাবিত আইনটি সম্পূর্ণ একটি নতুন প্রশাসনিক ভাষায় ভিন্ন কাঠামো অনুসরণে রচনা করা হয়েছে, ফলে আদালতও এ আইনের বিচারের সময় নানা প্রতিবন্ধকতার মুখোমুখি হবে বলে সন্দেহ দেখা দিয়েছে। বর্তমান আইনের বিধানবলী বিলুপ্ত করে শূণ্য স্থান পূরণের উপযুক্ত নতুন বিধান প্রস্তাবিত আইনে যুক্ত না করার কারণে এবং আইনের মাধ্যমে প্রনীত বিধান বাস্তবায়ন উপযোগী রুলস রেগুলেশন তৈরীর সময় পর্যন্ত সময়ে সড়ক ব্যবস্থাপনা কিভাবে চলবে তার কোন স্পষ্ট দিক নির্দেশনা আইনে নেই।
বিষয়টির উপর পূর্ণাঙ্গ এবং সুনির্দিষ্ট সুপারিশ প্রণয়নের জন্য প্রস্তাবিত আইনটি গভীরভাবে পর্যালোচনা করা প্রয়োজন। এ লক্ষ্যে আমার সিদ্ধান্ত নিয়েছি, যাতে আইনের ক্রটি এবং দুর্বলতা সার্বিকভাবে সনাক্ত করে তার উপযুক্ত সুপারিশমালা আপনার বরাবর দাখিল করা যায়। এ কাজ সময় সাপেক্ষ বিধায় আমরা মার্চ মাসের সুবিধাজনক সময়ে আমাদের পূর্ণাঙ্গসুপারিশ ও মতামত প্রকাশ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আপনাকে পূর্বের মত আমরা সে সভায় প্রধান অতিথি হওয়ার জন্য অগ্রিম আমন্ত্রণ জানিয়ে রাখছি।

সড়ক নিরাপত্তা সম্পর্কিত মাল্টি-স্টেকহোল্ডার সামাজিক জোটের পক্ষে,

হোসেন জিল্লুর রহমান
অনুলিপি: ১. চেয়ারম্যান, সংসদীয় স্থায়ী কমিটি, সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়
২. সচিব, সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ, সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়
৩. চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ

পাঠকের মন্তব্য: (পাঠকের কোন মন্তব্যের জন্য কর্তৃপক্ষ কোন ক্রমে দায়ী নয়)