ব্রেকিং নিউজ
বাংলা

আপডেট ফেব্রুয়ারি ২৬, ২০২০

ঢাকা শনিবার, ২১ চৈত্র, ১৪২৬ , বসন্তকাল, ১০ শাবান, ১৪৪১

কৃষি, রংপুর ফুলবাড়ীতে আম বাগানের সংখ্যা বাড়ছে, বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা

ফুলবাড়ীতে আম বাগানের সংখ্যা বাড়ছে, বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা

মোঃ হারুন-উর-রশীদ,নিরাপদ নিউজ: শীতের জীর্ণতাকে বিদায় জানিয়ে ফুলে ফুলে সেজেছে ঋতুরাজ বসন্ত। কোকিলের কুহু কুহু ডাক আর ফাগুনের বাহারি ফুলে প্রকৃতি যেমন সেজেছে বর্ণিল সাজে তেমনি দক্ষিণা হাওয়া আর বাতাসে আমের মুকুলের মৌ মৌ গন্ধে ভরে গেছে দিনাজপুরের ফুলবাড়ী উপজেলার আম বাগানগুলো। ঋতু বৈচিত্র্যর দেশে আমের অন্যতম শহর দিনাজপুরের ফুলবাড়ীর সবুজ প্রকৃতির আমেজ অনেকটা এমনই আবেগের। বসন্তের ফাগুন আর আমের মুকুল যেন একই সুতোয় গাঁথা। তাইতো বছরের এই নির্দিষ্ট সময়জুড়ে চাষি তো বটেই, কমবেশি সব শ্রেণিপেশার মানুষেরই দৃষ্টি থাকে সবুজ পাতায় মোড়ানো আমগাছের মগডালে। বাগান মালিক, কৃষিবিদ ও আমচাষিরা আশা করছেন, বড় ধরনের কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে এবং আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এ উপজেলায় আমের বাম্পার ফলন হবে। উপজেলার সব এলাকাতেই কমবেশি আমের বাগান রয়েছে, লাভজনক হওয়ায় প্রতি বছর বাগানের সংখ্যাও বাড়ছে। তবে নতুন আম বাগানগুলো প্রায় বনেদি জাতের। এখানে নিয়মিত জাত আম্রপালি, ল্যাংরা, গোপালভোগ, হাঁড়িভাঙ্গা, ক্ষিরসাপাতি, ফজলি, মোহনা, রাজভোগসহ বিভিন্ন জাতের আম চাষের উপযুক্ত হওয়ায় চাষিরা প্রথমে বিভিন্ন স্থান থেকে চারা সংগ্রহ করে আমের বাগান সৃজন করলেও বর্তমানে বাগান মালিকরাই চারা উৎপাদন করে তাদের ভাগ্য উন্নয়নের প্রাণপণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। এতে সুফলও পেয়েছেন অনেকে।

উপজেলার বেতদীঘি ইউনিয়নের সৈয়দপুর গ্রামের বাগান মালিক সামিউল ইসলাম ও মাদিলা হাট গ্রামের আবুল কালাম জানান, অপেক্ষাকৃত উঁচু এবং ধান চাষের উপযোগী নয় এমন জমিতেই আম বাগান করা হয়। এ বছরের আবহাওয়া আমের মুকুলের জন্য অনুকূলে আছে অনেকটাই। এরই মধ্যে অনেক গাছে ব্যাপক হারে মুকুল এসেছে। তবে এই মুহূর্তে শিলাবৃষ্টি হলে আমের মুকুলের ব্যাপক ক্ষতি হবে। তাই আবহাওয়া ও প্রকৃতির দুর্ভোগ নিয়ে যথেষ্ট শঙ্কাও কাজ করছে। তবে পরিস্থিতি অনুকূলে থাকলে এবারো বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে। বাগান মালিকরা জানান, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের পরামর্শে গাছে মুকুল আসার ১৬ থেকে ২১ দিন আগে তারা পুরো গাছে সাইমেথ্রিন ও কারারিল গ্রুপের কীটনাশক দিয়ে ভালোভাবে স্প্রে করে ধুয়ে দিয়েছেন। এতে গাছে বাস করা হপার বা শোষক জাতীয় পোকাসহ অন্যান্য পোকার আক্রমণ থেকে রক্ষা পাওয়া যাবে। যদি সঠিক সময়ে হপার বা শোষক পোকা দমন করা না যায় তাহলে আমের ফলন কমে যেতে পারে বলে জানান এই আমচাষিরা।

এদিকে উপজেলার আলাদীপুর, শিবনগর, বাসুদেবপুর এলাকায় আমবাগান বেশি। সেখানে গিয়ে দেখা যায়, আমচাষিরা তাদের বাগানের ধরা মুকুল যাতে নষ্ট না হয় এজন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করছেন। আম বাগানের মালিক মহেশপুর গ্রামের আতিয়ার রহমান মিলন জানান, কোনো প্রকার প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে এ বছর আমের বাম্পার ফলন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে একই কথা বলেন, আমচাষি আব্দুল আলিম। তিনি বলেন, যে জমিতে অন্য কোনো ফসল হয় না সেখানে আম বাগান করলে অধিক মুনাফা পাওয়া যায়।

উপজেলা কৃষি অফিস জানায়, আমের মুকুল আসার আগে ও পরে যেমন আবহাওয়ার প্রয়োজন, এখানে তা বিরাজমান। ডিসেম্বরের শেষ থেকে মার্চের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত আমের মুকুল আসার আদর্শ সময়। এ সময়ে মুকুলের প্রধান শত্রু কুয়াশা, এখন পর্যন্ত কুয়াশা কম এবং আকাশে উজ্জ্বল রোদ থাকায় আমের মুকুল সম্পূর্ণ প্রস্ফুটিত হওয়ার সম্ভাবনা শতভাগ। আরো জানা যায়, আমের ফলন বাড়াতে খুব বেশি কষ্ট করতে হয় না। সংশ্লিষ্টরা একটু সতর্ক হলেই শতভাগ ফলন পাওয়া সম্ভব। তাই আম বাগানের সঠিক পরিচর্যা করতে আমচাষিদের সব ধরনের পরামর্শ দেয়া হয়েছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে এ অঞ্চলে আম ও লিচুর বাম্পার ফলন হবে বলে উপজেলা কৃষি বিভাগ আশা করছেন।

পাঠকের মন্তব্য: (পাঠকের কোন মন্তব্যের জন্য কর্তৃপক্ষ কোন ক্রমে দায়ী নয়)