ব্রেকিং নিউজ
বাংলা

আপডেট জানুয়ারী ২৬, ২০১৫

ঢাকা রবিবার, ৬ মাঘ, ১৪২৬ , শীতকাল, ২২ জমাদিউল-আউয়াল, ১৪৪১

মতামত বাঁচার জন্য ঘর থেকে বের হয়ে আবারো মরছি!!!

বাঁচার জন্য ঘর থেকে বের হয়ে আবারো মরছি!!!

e08
নিরাপদ নিউজ, এনএসসি-সোহাগঃ কথায় কথায় প্রতিদিন এদেশে ঘটে সড়ক দুর্ঘটনা। এর ভেতর সড়কে এখন যোগ হয়েছে নতুন আরেক আতংক হরতাল অবরোধের পিকেটিং । সব মিলিয়ে সড়কে পা রাখা মানেই আজ নিজের জীবন নিয়ে বাজি খেলা! এরপরও আমরা বাঁচার তাগিদে বাধ্য হয়ে বের হচ্ছি ঘড় থেকে। তবু কি বাঁচতে পারছি? বাাঁচার জন্য বের হয়েও মরছি!!! ভীষন অবাক লাগে ঘড় থেকে বের হয়ে রাজপথে চলাফেরা করে যখন জীবিত ঘড়ে ফিরে আসি…। মনে হয় নতুন জীবন ফিরে পেলাম! দেশের এই দুর্দিনে এটাই আজ আমার বড় সান্তনা…। আয়নায় মুখ দেখার ইচ্ছা আমার কখনোই ছিলো না। আজ নিজেকে বড়ই দেখতে ইচ্ছে করে। দেখতে ইচ্ছে করে মায়ের মুখটি বারবার। দেখতে ইচ্ছে করে বাবার মুখ ভাই বোনের মুখ প্রিয় মানুষগুলোর মুখ। কেন জানি মনে হয় এই দেখাই আমার শেষ দেখা। দুদিন পর হয়তো এই সুন্দর মুখগুলো আর দেখতে পাবো না। নয়তো আমার এই মুখ ওরা আর কেউ দেখতে পাবেনা! কারণ রাস্তায় বের হলেই সড়ক দুর্ঘটনা আর ভাগ্যগুণে সড়ক দুর্ঘটনার হাত থেকে বাঁচলেও ঐ যে নতুন আতংক! মানুষের ছদ্দবেশে থাকা কোন হায়না এই মানুষগুলোর ওপর নিক্ষেপ করবে প্রেট্রোল বোমা । পুড়ে কয়লা হয়ে যাবে সমস্ত শরীর। পুরে বিকৃত হয়ে যাবে আমার প্রিয় মানুষগুলোর সেই চিরচেনা মুখ গুলো! এই আতংক আজ শুধু আমার একার নয় আমার ধারনা ভুল না হলে আমার মতো আতংকিত আজ দেশের  ১৬কোটি মানুষ সবাই। যারা এই কাজগুলো করে তাদের বুকেও যে এই আতংক নেই তাও বলবোনা। যতই হোক এই কাজ যারা করে তাদের ও তো বাবা মা ভাই বোন আছে। তাদের বুকেও তো একটা হৃদয় আছে….। একজন মানুষ দেখতে যেমনই হোক। সাদা কিংবা কালো সুন্দর বা অসুন্দর তবু সে মহান সৃষ্টিকর্তার দেয়া সেই সৌন্দয্যের ওপরেই অনেকটা তৃপ্ত। আজ টিভি চালু করলে পত্রিকার পাতায় চোখ বুলালে দুচোখ দিয়ে শুধূ দেখতে হচ্ছে পুড়ে কয়লা হওয়া লাশ! ঝলসে যাওয়া মানুষের মুখ! যে মুখ দেখে নিজেই নিজেকে চেনা যায়না। কতটা ভয়ানক সেই রুপ। এমন বিকৃত রুপের চেহারা নিয়ে দুনিয়ার বুকে বেঁচে থাকাটা যে কত কষ্টের সেই জানে যারা এই সহিংসতার বলি হচ্ছে। আজ অসংখ্য মানুষ ঢাকা মেডিকেলসহ দেশের বিভিন্ন হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে। আর কত মা বোন ভাই রাজপথে বিনা কারণে রাজনৈতিক জাতা কলে পিষ্ঠ হয়ে এভাবে একের পর এক জীবন দেব? আগুনে পুড়ে নিশ্বেস হয়ে যাব? কবে বন্ধ হবে এসব বর্বরতা? কে দেবে উত্তর? কাকেইবা প্রশ্ন করবো? কঠোর আইন বা কঠোর কোন পদক্ষেপ কি পারবে এইসব থামাতে? যদিনা দেশের মানুষের বিবেক জাগ্রত না হয়। তবু বুকে এইটুকু আশা নিয়ে স্বপ্নবেঁধে অপেক্ষায় বসে রইলাম রাতের পর যেমন সুন্দর একটা সকাল আসে। তেমনি দেশের এই দুর্দিন শেষ হয়ে খুব দ্রুত পরিস্থিতি ঠিক হয়ে যাবে। দেশের মানুষ আবারো ঘড় থেকে বের হবে নির্ভয়ে তাদের কর্মস্থলে। চলাফেরা করবে হাসি মুখে বাংলাদেশের নিরাপদ সড়কে। ( সাংবাদিক ও ‘নিসচা’ কর্মী এনএসসি-সোহাগ)

পাঠকের মন্তব্য: (পাঠকের কোন মন্তব্যের জন্য কর্তৃপক্ষ কোন ক্রমে দায়ী নয়)