আপডেট ১৬ মিনিট ২৯ সেকেন্ড

ঢাকা মঙ্গলবার, ২৫ অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ , হেমন্তকাল, ১২ রবিউস-সানি, ১৪৪১

চট্টগ্রাম, লিড নিউজ বিস্ফোরণে দু’টি ভবনের দেয়াল ধসে সাত জন নিহত হয়, আহত ১৫ জন

বিস্ফোরণে দু’টি ভবনের দেয়াল ধসে সাত জন নিহত হয়, আহত ১৫ জন

শফিক আহমেদ সাজীব,নিরাপদনিউজ : চট্টগ্রাম নগরের পাথরঘাটা এলাকায় গ্যাস লাইন বিস্ফোরণে শিশুসহ ৭ জন নিহত হয়েছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছে আরও ১৫ জন। ১৭ নভেম্বর ২০১৯ রোববার সকাল ৯টার দিকে পাথরঘাটা ব্রিকফিল্ড রোডের কুঞ্জমনি ভবনে এ দুর্ঘটনা ঘটে। বিস্ফোরণের পর দু’টি ভবনের দেয়ালের একাংশ ধসে পড়ে এ হতাহতের ঘটনা ঘটে। কোতোয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মহসীন বলেন, পাঁচতলা ভবনের নিচতলায় গ্যাসের লাইনে বিস্ফোরণ ঘটে। এতে ওই ভবনের দু’টি দেয়াল ধসে পড়ে। এ সময় আহতাবস্থায় বেশ কয়েকজনকে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।

চট্টগ্রাম ফায়ার সার্ভিসের উপ-পরিচালক জসীম উদ্দিন বলেন, খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে ছুটে আসি। ১৬ জনকে উদ্ধার করে চমেক হাসপাতালে পাঠিয়েছি। সেখানে ৭ জন মারা গেছেন। নন্দনকানন, চন্দনপুরা ও আগ্রাবাদ তিন স্টেশনের ১০ গাড়ি উদ্ধার কাজ শুরু করে। গ্যাস লাইন পুরনো ছিল। লিকেজ, নাশকতা, কেমিক্যাল আছে কিনা তদন্ত করা হচ্ছে। বিস্ফোরণে ২টি আবাসিক ভবনের প্রাচীর ও সড়কের সীমানা প্রাচীর ধসে পড়েছে।

ক্ষতিগ্রস্ত ভবনের দোতলা পর্যন্ত প্রাথমিকভাবে ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করেছি। দুর্ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যান চট্টগ্রাম সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন। সঙ্গে ছিলেন ওয়ার্ড কাউন্সিলর ইসমাইল বালি, জহরলাল হাজারী, শৈবাল দাশ সুমন, প্রধান প্রকৌশলী লে. কর্নেল সোহেল আহমদসহ আরও অনেকে। মেয়র বলেন, আহতদের সর্বোচ্চ চিকিৎসার ব্যবস্থা করবো। তাদের যাবতীয় খরচ সিটি করপোরেশন বহন করবে। ৭ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। ফায়ার সার্ভিস, আমাদের দুজন কাউন্সিলর যথেষ্ট কষ্ট করেছে। জনগণকে সচেতন হতে হবে। একটি দুর্ঘটনা অপূরণীয় ক্ষতি। সব কর্তৃপক্ষের পাশাপাশি ভবন মালিক ও ভাড়াটিয়াদের গ্যাস, বিদ্যুতের লাইনে লিকেজ আছে কিনা নিয়মিত তদারকি করতে হবে।

ব্যবহারকারীরা সচেতন হলে দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব। তিনি বলেন, শহরটা পরিকল্পিত না। সিডিএ নকশা অনুমোদন করে। নকশা অনুযায়ী ভবন হচ্ছে না। নজরদারির জন্য প্রয়োজনীয় জনবল সেবা সংস্থার নেই। চসিক, ফায়ার সার্ভিস, সিডিএ, জেলা প্রশাসন, কর্ণফুলী গ্যাসের প্রতিনিধি নিয়ে কমিটি গঠন করা হবে। এসময় শোকাহত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান মেয়র। চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির সহকারী উপ-পরিদর্শক আলাউদ্দিন তালুকদার বলেন, পাথরঘাটায় বিস্ফোরণের পর আহতাবস্থায় প্রথমে ১২ জনকে হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়।

এদের মধ্যে ৭ জনকে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। নিহতদের মধ্যে চারজন পুরুষ, দুইজন নারী ও একজন শিশু। এদিকে নিহতদের মধ্যে দু’জনের পরিচয় পাওয়া গেছে। তাদের একজন কক্সবাজারের উখিয়ার নুরুল ইসলাম (৩১) ও অন্যজন হলেন অ্যানি বড়ুয়া (৪০)। অ্যানি পটিয়ার মেহেরআটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক।

চট্টগ্রামে গ্যাস লাইন বিস্ফোরণ: নারী-শিশুসহ নিহত ৭

পাঠকের মন্তব্য: (পাঠকের কোন মন্তব্যের জন্য কর্তৃপক্ষ কোন ক্রমে দায়ী নয়)