ব্রেকিং নিউজ
বাংলা

আপডেট জানুয়ারী ১২, ২০২০

ঢাকা বুধবার, ১৬ মাঘ, ১৪২৬ , শীতকাল, ৩ জমাদিউস-সানি, ১৪৪১

কৃষি ভেড়ামারায় আনোয়ার পারভেজ শান্তর বিষমুক্ত পেয়ারা চাষ

ভেড়ামারায় আনোয়ার পারভেজ শান্তর বিষমুক্ত পেয়ারা চাষ

সাইফুল ইসলাম, নিরাপদ নিউজ: অন্যের বাগান দেখে নিজে ফলদ বাগান গড়ে তোলার স্বপ্ন দেখেছিলেন কৃষক আনোয়ার পারভেজ শান্ত। সেটি ৩ বছর আগের কথা। কুষ্টিয়ার ভেড়ামারার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে তাঁর নিজের ৩বিঘা জমিতে পেয়ারার বাগান করে তোলেন। এরপর আর তাঁকে পিছে ফিরে তাকাতে হয়নি। ৩ বিঘা জমিতে থাই পেয়ারা-৭ আবাদ করে স্বপ্ন পূরণ করেছে ভেড়ামারা উপজেলার ধরমপুর ইউনিয়নের পাটুয়াকান্দি গ্রামের কৃষক আনোয়ার পারভেজ শান্ত। বিষমুক্ত পেয়ারা চাষ করে স্বাবলম্বী হয়েছেন এ চাষি। বর্তমানে বাগানে থোকা থোকা পেয়ারা ধরে আছে।

আনোয়ার পারভেজ শান্ত বলেন, মৎস্য ও লিচু আবাদের পাশাপশি উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সহযোগিতায় নিজের ৩ বিঘা জমিতে ২০১৮ সালে থাই পেয়ারার চারা এনে রোপণ করি। এর আট মাসের মাথায় ফলন পাওয়া শুরু হয়। বছরে দু’বার পেয়ারা গাছ থেকে ফল পাওয়া যায়। প্রতিদিন এখানে ২ জন করে শ্রমিক বাগান পরিচর্যার কাজ করেন। কাজের চাপ বেশি হলে মাঝে মাঝে নিজেও শ্রমিকের সংখ্যা বাড়ানো হয়। বর্তমানে বাগান থেকেই ব্যাপারীরা ১৮শত টাকা মণ দরে পেয়ারা কিনে নিয়ে যাচ্ছেন।

পেয়ারা বাগানে পোকামাকড় দমনে কোনো কীটনাশকের ব্যবহার করা হয় না। কৃষি বিভাগের পরামর্শে গাছে ভিটামিন জাতীয় কিছু ওষুধ প্রয়োগ করা হয়। এছাড়া পোকামাকড় ঠেকাতে পেয়ারা একটু বড় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পলিথিন ব্যাগে মুড়িয়ে মুখ বন্ধ করে দেওয়া হয়। পেয়ারা বিক্রি করতে কোনো বেগ পেতে হয় না।

বাগানে এসেই তুলে নিয়ে যায় পেয়ারার পাইকারি ব্যবসায়ীরা। আমার শুধু ওজন দেওয়ার সময় দেখতে হয়। ব্যবসায়ী হাশেম আলী বলেন, আমরা বাগান থেকে ১৮০০ থেকে ২০০০ টাকা মণ পর্যন্ত পাইকারি পেয়ারা কিনে বিক্রি করছি। খুচরা বিক্রি করলে কেজিতে ১০ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত লাভ হয়। এছাড়াও বাজারে এখন অন্যান্য ফল কম। তাই পেয়ারা চাহিদা রয়েছে বেশ ভালো।

উপসহকারী কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা আব্দুল মুন্নাফ বলেন, বিষমুক্ত উপায়ে পেয়ারা উৎপাদন করতে ব্যাগিং প্রযুক্তি ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এটি ব্যবহারে সুফলও পাচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি পেয়ারা চাষে উদ্বুদ্ধকরণসহ বিভিন্নভাবে সহায়তা ও প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করে থাকি। বিষমুক্ত এ পেয়ারার যথেষ্ট চাহিদা রয়েছে জেলায়। তাকে দেখে আরও অন্যান্য কৃষক পেয়ারা চাষে উদ্বুদ্ধ হচ্ছেন।

পাঠকের মন্তব্য: (পাঠকের কোন মন্তব্যের জন্য কর্তৃপক্ষ কোন ক্রমে দায়ী নয়)