ব্রেকিং নিউজ
বাংলা

আপডেট জানুয়ারী ২৭, ২০১৫

ঢাকা রবিবার, ১৩ মাঘ, ১৪২৬ , শীতকাল, ২৯ জমাদিউল-আউয়াল, ১৪৪১

জাতীয়, লিড নিউজ মাতৃভূমিতে কোকো: সন্তানের অপেক্ষায় মা: সামরিক কবরস্থানে দাফনের এখনো অনুমতি মিলেনি

মাতৃভূমিতে কোকো: সন্তানের অপেক্ষায় মা: সামরিক কবরস্থানে দাফনের এখনো অনুমতি মিলেনি

Khaleda-koko

ঢাকা, ২৭ জানুয়ারি ২০১৫, নিরাপদনিউজ: মাতৃভূমিতে ফিরলেন সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকো। তবে জীবিত নয় মৃত। মঙ্গলবার বেলা ১১টা ৪০ মিনিটে কোকোর মরদেহ বহনকারী মালয়েশিয়া এয়ারলাইন্সের এমএইচ ১০২ ফ্লাইটটি শাহজালাল বিমানবন্দরে অবতরণ করে।

শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে মরদেহ গ্রহণ করবেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল নোমান, চৌধুরী কামাল ইবনে ইউসুফ এবং আর্ন্তজাতিক বিষয়ক সম্পাদক গিয়াস কাদের চৌধুরী। মামলার খড়গ মাথায় নিয়ে প্রায় সাড়ে ৬ বছর ধরে স্ত্রী-সন্তান নিয়ে মালয়েশিয়ায় অবস্থান করছিলেন কোকো। গত শনিবার হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মাত্র ৪৫ বছরে মারা যান তিনি।
গত ওয়ান ইলেভেনের সময় ২০০৭ সালের ৩ সেপ্টেম্বর সেনানিবাসের বাড়ি থেকে মা বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে গ্রেপ্তার হন আরাফাত রহমান কোকো। এর পর ২০০৮ সালের ১৭ জুলাই তৎকালীন সেনা নিয়ন্ত্রিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের নির্বাহী আদেশে মুক্তি পাওয়ার পর চিকিৎসার জন্য থাইল্যান্ড যান তিনি। এরপর দেশে না ফিরে তিনি মালয়েশিয়ায় পাড়ি জমান।
২০ কোটি টাকার বেশি অর্থ সিঙ্গাপুরে পাচারে অভিযোগে ২০০৯ সালের ১৭ মার্চ মানিলন্ডারিং আইনে আরাফাত রহমান কোকোর বিরুদ্ধে মামলা করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। ২০১১ সালের ২৩ জুন আদালত এ মামলায় কোকোকে ছয় বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেন। ওই মামলার রায়ে তাকে সাড়ে ১৯ কোটি টাকা জরিমানার আদেশও দেন বিচারক। আওয়ামী লীগ সরকার সিঙ্গাপুর থেকে কোকোর পাচার করা অর্থের একটা অংশ দেশে ফিরিয়ে এনেছে।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) আয়কর ফাঁকির অভিযোগে কোকোর বিরুদ্ধে ২০১০ সালের মার্চ মাসে আরেকটি মামলা করে। এছাড়াও তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে কোকোর বিরুদ্ধে গুলশান থানায় দু’টি চাঁদাবাজির মামলা এবং অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে দুদক একটি মামলা করে। আর সোনালী ব্যাংকের ঋণখেলাপের মামলায় বড়ভাই তারেক রহমানের সঙ্গে এবং গ্যাটকো দুর্নীতি মামলায় মা খালেদা জিয়ার সঙ্গে কোকোও আসামি। এসব মামলার কারণে কোকো বিদেশে অবস্থান করছিলেন। মাঝেমধ্যে মাকে দেখতে উদগ্রীব হতেন কোকো। ফিরে আসতে চাইতেন মায়ের কাছে, ঢাকায়। দেশে ফিরলেই তাকে কারাবন্দি হতে হবে- এ জন্য পরিবারের সদস্যরা তাকে আসতে দেননি। কিন্তু এবার আর আটকে রাখতে পারলেন না। কোকো ফিরেই এলেন মাতৃভূমিতে, লাশ হয়ে।

সন্তানের অপেক্ষায় খালেদা জিয়া
বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার ছোটো ছেলে আরাফাত রহমান কোকোর মরদেহ আনতে বিমানবন্দরে গেছেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্যরা। মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে চেয়ারপারসনের গুলশান কার্যালয় থেকে পাঁচ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের উদ্দেশে রওনা দেয়।
প্রতিনিধি দলে রয়েছেন- বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল নোমান, চৌধুরী কামাল ইবনে ইউসুফ এবং আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক গিয়াস কাদের চৌধুরী। আলিফ মেডিকেল সার্ভিসের একটি লাশবাহী অ্যাম্বুলেন্সে (ঢাকা মেট্রো-গ-১১-১৮-২৪) কোকোর মরদেহ বিমানবন্দর থেকে গুলশান কার্যালয়ে আনা হবে।
আরাফাত রহমান কোকোর মরদেহ মা বেগম খালেদা জিয়াকে দেখানোর জন্য হযরত শাহজালাল বিমানবন্দর থেকে সরাসরি গুলশানের কার্যালয়ে নেয়া হবে। কয়েক সপ্তাহ ধরে গুলশান কার্যালয়েই অবস্থান করছেন বিএনপি চেয়ারপরাসন। এদিকে গুলশান কার্যালয়ে সকাল থেকেই শোকার্ত মানুষের ভিড় বাড়ছে। নেতাকর্মীরা কোকোর মরদেহে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানাতে অপেক্ষা করছেন।
মঙ্গলবার বেলা ১১টা ৪০ মিনিটে মালয়েশিয়া এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে কোকোর মরদেহ ঢাকায় পৌঁছায়। সকালে সেই ফ্লাইট ঢাকার উদ্দেশে কুয়ালালামপুর ছাড়ে। চেয়ারপারসনের প্রেস সচিব মারুফ কামাল খান সোহেল এ তথ্য জানান।
বাংলাদেশ সময় শনিবার দুপুর ১২টার দিকে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে কোকো মারা যান সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকো। মালয়েশিয়ার বাসায় অবস্থানকালে হৃদরোগে আক্রান্ত হন তিনি। তাকে ইউনিভার্সিটি অব মালায়া হাসপাতালে নেয়ার পথেই মারা যান।

গুলশানের পথে কোকোর মরদেহ
বিমানবন্দর থেকে আরাফাত রহমান কোকোর মরদেহ গ্রহণ করা হয়েছে। ইতিমধ্যে লাশবাহী অ্যাম্বুলেন্সসহ গাড়িবহর গুলশানের পথে রওনা দিয়েছে। দুপুর সোয়া ১২টার দিকে বিমানবন্দরের ৮ নম্বর হ্যাঙ্গার গেট দিয়ে মরদেহবাহী অ্যাম্বুলেন্সটি বের হয়ে যায়। বেলা ১১টা ৪০ মিটিটে শাহজালাল বিমানবন্দরে এসে পৌঁছায় কোকোর মরদেহ বহনকারী বিমান। মরদেহ আসার আগে সকাল থেকেই হযরত শাহজালাল বিমানবন্দরের কার্গো গেটে জড়ো হন বিএনপির নেতাকর্মীরা। তাদের বুকে রয়েছে কালো ব্যাজ। বিশৃঙ্খলা এড়াতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ব্যাপক নিরাপত্তার ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। পুলিশ র‌্যাব, বিজিবি, দায়িত্ব পালন করছে।
বিমানবন্দর থেকে মরদেহ গ্রহণ করেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল নোমান, চৌধুরী কামাল ইবনে ইউসুফ এবং আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক গিয়াস কাদের চৌধুরী। কোকোর মরদেহ বহন করা বিমানটি সকাল সাড়ে ৯টার দিকে মালয়েশিয়াে থেকে যাত্রা করে। বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান মেজর হাফিজ, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা গাজীপুর সিটি মেয়র আবদুল মান্নান, সাগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলন বিএনপির নেতারা বিমাবন্দরে উপস্থিত ছিলেন।

সেনা কবরস্থানে দাফনের অনুমতি মেলেনি
বনানী সামরিক কবরস্থানে কোকোর মরদেহ দাফনের অনুমতি পায়নি বিএনপি। এ নিয়ে দলের সাবেক সেনা কর্মকর্তারা কিছুক্ষণের মধ্যেই গণমাধ্যেমে প্রতিক্রিয়া জানাবেন। এর আগে সোমবার বিএনপির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল, কোকোকে বনানীর সামরিক কবরস্থানে দাফন করা হবে। কিন্তু মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১১টা পর্যন্ত অনুমতি পাওয়া যায়নি। বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকোর মরদেহ নিয়ে একটি বিশেষ ফ্লাইট বেলা ১১টা ৪০ মিনিটে ঢাকা পৌঁছে।
ঢাকায় পৌঁছার পর কোকোর মরদেহ নেয়া হবে সরাসরি বিএনপি চেয়ারপারসনের গুলশান কার্যালয়ে। এরপর বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে বাদ আসর অনুষ্ঠিত হবে তার নামাজে জানাজা। শনিবার বাংলাদেশ সময় দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে মালয়েশিয়ায় মারা যান বিএনপি চেয়ারপারসনের ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকো। তিনি হৃদরোগে আক্রান্ত হয়েছিলেন। হাসপাতালে নেয়ার পথেই তার মৃত্যু হয়। এর আগে রোববার বাদ জোহর মালয়েশিয়ার জাতীয় মসজিদ নিগারায় তার প্রথম নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় মালয়েশিয়া বিএনপির নেতারাসহ প্রবাসী বাংলাদেশিরাও অংশ নেন।

পাঠকের মন্তব্য: (পাঠকের কোন মন্তব্যের জন্য কর্তৃপক্ষ কোন ক্রমে দায়ী নয়)