আপডেট জানুয়ারী ২৬, ২০২০

ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১৫ ফাল্গুন, ১৪২৬ , বসন্তকাল, ১ রজব, ১৪৪১

রাজনীতি, লিড নিউজ ‘মানুষের অধিকার আদায়ের পথ থেকে সরে দাঁড়াব না’

‘মানুষের অধিকার আদায়ের পথ থেকে সরে দাঁড়াব না’

নিরাপদ নিউজ: ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে বিএনপি মনোনীত মেয়র প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন বলেছেন, সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে কথা বলার কারণে গুলি খেতে হলে শাপলা চত্বরে বুক চিতিয়ে দিব। তবুও মানুষের অধিকার আদায়ের পথ থেকে সরে দাঁড়াব না।

আজ রবিবার সকাল সাড়ে ১১টায় রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে নির্বাচনী প্রচারণা শুরুর আগে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে একথা বলেন তিনি।

ইশরাক হোসেন বলেন, শুধু ঢাকা নয়- পুরো দেশে আজ ধানের শীষের পক্ষে গণজোয়ার সৃষ্টি হয়েছে।  আগামী ১ ফেব্রুয়ারি সকলে নির্ভয়ে দলবেঁধে ভোটকেন্দ্রে যাবেন। আমরা গণতন্ত্র ও নিজেদের অধিকার রক্ষার আন্দোলনে রয়েছি। এ আন্দোলনের মাধ্যমে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে অবশ্যই মুক্ত করবো। প্রয়োজনে রক্ত দেবো, জীবন দেব, তবুও বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত করবো ইনশাআল্লাহ। গত ১৩ বছরে ক্ষমতাসীনরা দেশের অর্থনৈতিক খাতকে ধ্বংস করেছে। শেয়ার মার্কেট থেকে সাধারন মানুষের হাজার হাজার কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়ে গেছে। মানুষ সর্বহারা হয়ে দিনের পর দিন আন্দোলন করছে এবং আত্মহত্যার মতো ঘটনাও ঘটেছে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের ভল্ট থেকে সোনা চুরি করা হয়েছে ডিজিটাল পদ্ধতিতে। একটা দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে সোনা চুরি হয়ে যায়, কত বড় দুর্নীতিবাজ, কত বড় ডাকাত হলে এটা সম্ভব! যারা সরকারি উচ্চ পর্যায়ে রয়েছে তাদের পৃষ্ঠপোষকতায় সরকারি ব্যাংক থেকে ঋণ জালিয়াতির মাধ্যমে হাজার হাজার কোটি টাকা আত্মস্যাত করা হয়েছে, জনগণের আমানত লুট করা হয়েছে। এভাবে জনগণের কষ্টে অর্জিত টাকা লুট হয়ে যাচ্ছে আর তারপরেও আমরা নিশ্চুপ হয়ে আছি।

এই সরকারে সময় ঘনিয়ে এসেছে উল্লেখ করে ইশরাক হোসেন বলেন, আমরা মুক্তিযোদ্ধার জাতি। মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে এই দেশের স্বাধীনতা অর্জন করা হয়েছিল। আমরা কোন তাবেদারি মানব না, কারো জমিদারি মানব না। এই দেশটা কারো পারিবারিক সম্পত্তি না। রক্ত দিয়ে যে দেশ স্বাধীন করেছি, প্রয়োজনে আবার রক্ত দিয়ে মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা করব। শাপলা চত্বরে দাড়িয়ে গুলি খাব। তারপরও সত্য এবং ন্যায়ের পথ থেকে সরে দাঁড়াব না।

মুক্তিযোদ্ধা সাদেক হোসেন খোকার জ্যেষ্ঠ পুত্র ইশরাক আরও বলেন, জনগণ আজকে জাগ্রত হয়েছে। মুক্তি যুদ্ধের চেতনা ছিল, জনগণ হবে রাষ্ট্রের মালিক, জনগণ হবে দেশের মালিক, জনগণ হবে ক্ষমতার মালিক। জনগণ নির্ধারণ করবে কারা দেশ পরিচালনা করবে, জনগণ ভোটের মাধ্যমে তাদের প্রতিনিধি নির্বাচন করবে। আগামী পহেলা ফেব্রুয়ারী  সেই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে প্রাথমিক বিজয় ছিনিয়ে আনতে হবে।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস বলেন, ইশরাক হোসেন তার বক্তব্যে তার যোগ্যতা নিজেই প্রমাণ করেছেন বলে আমি বিশ্বাস করি। ইশরাকের বাবা সাদেক হোসেন খোকা এবং আমি মির্জা আব্বাস ঢাকা শহরের সাবেক মেয়র ছিলাম। আমি বিশ্বাস করি ইশরাক হোসেন তার বাবা এবং চাচার যেই অভিজ্ঞতা, সাহস কাজে লাগিয়ে আপনাদের পাশে থাকবে এটা আমি বিশ্বাস করি।
তিনি বলেন, ইশরাক যেই বক্তব্য দিল আমি বিশ্বাস করি ঢাকা মহানগরীতে এমন কোন প্রার্থী দাঁড়ায়নি যে তার সামনে এসে কথা বলতে পারবে। এটা আমার গর্ব না, এটা আমার অহংকার না, এটা হচ্ছে বাস্তবতা।

নজরুল ইসলাম খান বলেন, দেশের জনগণ পরিবর্তন চায়। তারা এই অত্যাচারী, গণতন্ত্র হত্যাকারী, নিপীড়নকারী, ভোট চোর এবং ব্যাংক লুট-শেয়ারবাজার লুটেরা সরকারকে আর ক্ষমতায় দেখতে চায়না।

তিনি বিএনপি নেতা-কর্মীসহ সাধারণ জনগণ ভোট কেন্দ্র পাহারা দেয়ার আহ্বান জানান। যাতে করে কোন ভোট চোর, ভোট ডাকাত জনগণের অধিকার ছিনিয়ে নিতে না পারে।

নির্বাচনী প্রচারণার ১৬তম দিনে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ শ্রমিকদলের আয়োজনে বিএনপি মনোনীত মেয়র প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন এর গণসংযোগ জনস্রোতে পরিণত হয়।  মতিঝিল ব্যাংকপাড়ার পুরো এলাকা স্লোগানে স্লোগানে মুখরিত করে তোলে দলীয় নেতাকর্মীরা।

প্রচারণায় মির্জা আব্বাস, নজরুল ইসলাম খান, যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলন, এস এম জিলানী, যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম নয়ন, মহিলা দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হেলেন জেরিন খান, শরিফ হোসেনসহ বিপুল সংখ্যক নেতা ও কর্মী সমর্থক।

পাঠকের মন্তব্য: (পাঠকের কোন মন্তব্যের জন্য কর্তৃপক্ষ কোন ক্রমে দায়ী নয়)