আপডেট ১ মিনিট ১৪ সেকেন্ড

ঢাকা রবিবার, ২২ চৈত্র, ১৪২৬ , বসন্তকাল, ১১ শাবান, ১৪৪১

অপরাধ, খুলনা মা-বাবা বাইরে গেলেই ছোট্ট বাবুকে মারত গৃহপরিচারিকা রেখা

মা-বাবা বাইরে গেলেই ছোট্ট বাবুকে মারত গৃহপরিচারিকা রেখা

নিরাপদ নিউজ: স্বামী-স্ত্রী দুজনই চিকিৎসক। প্রতিদিন সকালে কর্মস্থলে যাওয়ার সময় তারা তাদের ১৪ মাসের সন্তান বাবুকে (ছদ্মনাম) রেখে যান বাসার গৃহপরিচারিকা রেখা খাতুনের কাছে। কিন্তু মা-বাবার অনুপস্থিতিতে শিশুটির ওপর নির্যাতন চালাতে থাকে রেখা। বাসায় ফিরে সন্তানের শরীরে নির্যাতনের চিহ্ন দেখে সে সম্পর্কে জানতে চাইলে রেখা জানাত, ‘পড়ে গিয়ে আঘাত পেয়েছে।’ কিন্তু তার উত্তর মনঃপুত হয়নি ওই দম্পতির। তাই তারা গোপনে বাসার ভেতর সিসি ক্যামেরা স্থাপন করেন।

এর পর একদিন অফিসে বসেই শিশুটির মা দেখেন, বাসায় তার অবোধ সন্তানটির ওপর চলছে রেখার নির্যাতন। বাসায় ফিরে তিনি পুলিশের হাতে সোপর্দ করেন রেখাকে। ঘটনাস্থল কুষ্টিয়া শহরের পূর্ব মজমপুর এলাকার মনামী ক্রিস্টাল প্যালেস নামের একটি বহুতল ভবন। শিশুটির বাবা রেখাকে আসামি করে

কুষ্টিয়া মডেল থানায় শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলাও করেছেন। গৃহপরিচারিকার হাতে শিশু নির্যাতনের এ অমানবিক দৃশ্য ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়ে গেছে।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ক্রিস্টাল প্যালেসের অষ্টম তলার ‘বি’ ফ্লাটে বাস করেন চিকিৎসক দম্পতি রকিউর রহমান ও শারমিন আক্তার। তাদের ১০ বছর ও ৭ বছর বয়সী দুই কন্যাসন্তান এবং ১৪ মাস বয়সী একটি পুত্রসন্তান রয়েছে। প্রতিদিন সকালে তারা কর্মস্থলে যান আর বড় দুই সন্তান চলে যায় স্কুলে। এ সময়ই ১৪ মাস বয়সী তাদের পুত্রটিকে রাখা হয় রেখা খাতুনের কাছে। বাসার ভেতরে গোপনে সিসি ক্যামেরা লাগানোর পর গত ১৪ মার্চ সকাল সোয়া দশটার দিকে কর্মস্থলে বসেই শারমিন আক্তার দেখতে পান-রেখা তার শিশুসন্তানকে বেদম মারধর করছে। তিনি তখনই বাসায় ফিরে আসেন। সিসি ক্যামেরায় ধারণকৃত ভিডিও ফুটেজ খতিয়ে আরও দেখতে পান, সকাল পৌনে দশটার দিকেও রেখা খাতুন শিশুটির গোপনাঙ্গসহ বিভিন্ন স্থানে মারধর করছে। মাথার চুল টেনে তুলে ফেলছে। এর পর তিনি রেখাকে বাড়ি থেকে বের করে দেন এবং থানায় লিখিত অভিযোগ করেন।

গত ১৬ মার্চ রাত সোয়া ৯টার দিকে কুষ্টিয়া সদর থানায় শিশু নির্যাতন দমন আইন-২০১৩ (সংশোধিত ২০১৮) এর ৭০ ধারায় একটি মামলা করেন শিশুটির বাবা। এর পর অভিযুক্ত রেখাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। গত ২১ মার্চ (শনিবার) ফেসবুকে শিশুটিকে নির্যাতনের ভিডিওচিত্র ভাইরাল হয়।

কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার এসএম তানভীর আরাফাত বলেন, থানায় মামলা হওয়ার পর পরই আসামিকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

পাঠকের মন্তব্য: (পাঠকের কোন মন্তব্যের জন্য কর্তৃপক্ষ কোন ক্রমে দায়ী নয়)