ব্রেকিং নিউজ
বাংলা

আপডেট ৬ মিনিট ৪৩ সেকেন্ড

ঢাকা রবিবার, ৬ মাঘ, ১৪২৬ , শীতকাল, ২৩ জমাদিউল-আউয়াল, ১৪৪১

ঢাকা, সড়ক সংবাদ মির্জাপুরে যুবক ও ছাত্ররা স্বেচ্ছাশ্রমে তৈরি করছেন রাস্তা

মির্জাপুরে যুবক ও ছাত্ররা স্বেচ্ছাশ্রমে তৈরি করছেন রাস্তা

নিরাপদ নিউজ: কথায় আছে ‘দশে মিলে করি কাজ, হারি জিতি নাহি লাজ’। বহুল প্রচলিত এই প্রবাদবাক্যটি সামনে রেখে গ্রামের যুবক ও ছাত্ররা স্বেচ্ছাশ্রমে তৈরি করছেন রাস্তা। স্কুল-কলেজ বন্ধের সময় গ্রামের শতাধিক ছাত্র-যুবক একত্রিত হয়ে পাশের জমি থেকে মাটি কেটে রাস্তা সংস্কার করছেন। রবিবার উপজেলার বাঁশতৈল ইউনিয়নের বংশীনগর গ্রামে গিয়ে এই রাস্তা সংস্কারের কাজ লক্ষ করা গেছে।

জানা গেছে, উপজেলার পাহাড়ি এলাকা বাঁশতৈল ইউনিয়নের বংশীনগর গ্রামের আবাদি জমির আইল দিয়ে সাধারণ মানুষ অতিকষ্টে চলাফেরা করত। ওই পথটি দিয়ে মির্জাপুর উপজেলার বাঁশতৈল ইউনিয়নের বংশীনগর, অভিরাম, বালিয়াজান, কটামারা, ইনথখারচালা গ্রামের লোকজন স্কুল, কলেজ ও হাট-বাজারসহ বিভিন্ন স্থানে চলাচল করে থাকেন। এ ছাড়া পার্শ্ববর্তী সখিপুর উপজেলার হতিয়া রাজাবাড়ি, পাটজান, চৌধুরী চালা, ভাতকুড়া চালা ও বাজাইল বড়চালা গ্রামের হাজারো মানুষ চলাফেরা করেন।

এলাকার মানুষের কষ্ট লাঘব করতে গ্রামের যুবক ও ছাত্ররা ১৯৯৭ সালে প্রথমে স্বেচ্ছাশ্রমে রাস্তাটি প্রাথমিকভাবে সংস্কার করেন। সংস্কার হওয়ায় রাস্তাটি দিয়ে লোকজনের চলাফেরা অনেকংশে বেড়ে যায়। পরবর্তীতে দীর্ঘ প্রায় দুই যুগেও রাস্তাটি সরকারিভাবে সংস্কার বা পাকাকরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। বর্ষা মৌসুমে গ্রামের লোকজনের চলাচলে অসুবিধার সৃষ্টি হয়। বিশেষ করে বৃষ্টিবাদলের দিনে স্কুল কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে যাওয়া বন্ধ হয়ে যায়। রাস্তাটি সংস্কারের জন্য গ্রামের যুবক ও ছাত্ররা উদ্যোগ নেয় এবং ১ ডিসেম্বর থেকে পুনরায় রাস্তাটির সংস্কার কাজ শুরু করেন। বিশেষ করে স্কুল-কলেজ বন্ধের সময় এলাকার যুবক ও ছাত্ররা এই সংস্কার কাজ করে থাকেন।

গতকাল রবিবার সকাল ৮টা থেকে রাস্তার পাশের জমি থেকে অন্য দিনের মতো একইভাবে মাটি কেটে রাস্তা সংস্কার কাজ শুরু করেন। দুপুরে বংশীনগর গ্রামে গিয়ে দেখা গেছে গ্রামের ৭৩ জন যুবক ও ছাত্ররা কোদাল স্বতঃস্ফূর্তভাবে রাস্তাটি সংস্কার করছেন।

বংশীনগর গ্রামের বাসিন্দারা জানান, আমাদের বংশীনগর গ্রাম একেবারেই অবহেলিত, তাই আমাদের এই রাস্তাটি কারো নজরে আসে না। গ্রামের এই রাস্তাটি সরকারিভাবে না হওয়ায় আমরা স্বেচ্ছাশ্রমে রাস্তা সংস্কারে কাজ করছি। স্বেচ্ছাশ্রমে কাজ করতে ভালোই লাগছে।

পাঠকের মন্তব্য: (পাঠকের কোন মন্তব্যের জন্য কর্তৃপক্ষ কোন ক্রমে দায়ী নয়)