ব্রেকিং নিউজ
বাংলা

আপডেট জানুয়ারী ২৪, ২০২০

ঢাকা শুক্রবার, ১৬ ফাল্গুন, ১৪২৬ , বসন্তকাল, ২ রজব, ১৪৪১

জাতীয়, লিড নিউজ ‘মোবাইলে প্রেম ও ডিভোর্সের হার অনেক বেড়ে যাচ্ছে’

‘মোবাইলে প্রেম ও ডিভোর্সের হার অনেক বেড়ে যাচ্ছে’

নিরাপদ নিউজ: রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ বলেছেন, মোবাইল ফোনের এই যুগে একসঙ্গে একাধিকজনের সঙ্গে প্রেমের প্রবণতা বেড়েছে।এর পরিণাম খুব ভয়াবহ হচ্ছে। ডিভোর্সের হার অনেক বেড়ে যাচ্ছে। এসব কারণে বেশি হচ্ছে। একটা বাচ্চা হওয়ার পরও ডিভোর্স হচ্ছে। তা হলে এই বাচ্চাটার পরিণতি কী? তাকে কোন দিকে নিয়ে যাচ্ছি? খুব দুঃখজনক। আমাদের কালচারে এমন হওয়ার কথা নয়। আমাদের কৃষ্টিতে এমন হওয়ার কথা নয়। এখন অহরহ হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার (২৩ জানুয়ারি) ঢাকার একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তনে বক্তব্যে নিজের এ পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেন তিনি।

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে আবদুল হামিদ বলেন, তোমাদের নিয়ে অনেক খারাপ কথা শুনি। মোবাইল নিয়ে প্রেম করো। প্রেম করো, খারাপ না। একলগে পাঁচজনের লগে কইরো না। একজনের লগে প্রেম কইরা ১৫ দিন পরে আরেকজনের লগে করো, এটা করা ঠিক নয়। একে গুরুতর সামাজিক অবক্ষয় হিসেবে চিহ্নিত করে আবদুল হামিদ বলেন, এটা দূর করতে হবে। দূর করতে হবে তোমাদের। তোমাদের নেতৃত্ব দিতে হবে। এর বিরুদ্ধে কথা বলতে হবে। যারা এমন করে তাদের অ্যাভয়েড করতে হবে।

হাতে হাতে স্মার্টফোন আসায় এখন যে কোনো ঘটনায় সমস্যার সমাধানের দিকে না গিয়ে ঢালাওভাবে ভিডিও করার প্রবণতা নিয়েও কথা বলেন রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ। তিনি বলেন, ‘আমরা দেখেছি, রাস্তায় একটা গাড়ি এক্সিডেন্ট করল। আমরা হয়তো দাঁড়িয়ে আছি বা গাড়িতে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় পড়ল, আমরা গাড়ি থেকে নেমে বাঁচানোর জন্য গিয়েছি। এখন হোন্ডা যখন এক্সিডেন্ট করে তখন আগে ভিডিও করে। কেমনে পড়ল সেইডা ভিডিও করে, তাকে বাঁচাবে, সাহায্য করবে, তার মধ্যে নেই।

ফারইস্ট ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির প্রথম সমাবর্তনে বক্তব্যে শিক্ষার্থীদের ফাস্টফুড ও কোমল পানীয় থেকে দূরে থাকারও পরামর্শ দেন আবদুল হামিদ।

বিভিন্ন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, বাংলাদেশে উচ্চশিক্ষা বিস্তারে বেসরকারি উদ্যোক্তারা গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন। তবে বেসরকারি খাতে প্রতিষ্ঠিত বেশ কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয় গুণগত মানসম্পন্ন শিক্ষার প্রসারে প্রশংসনীয় ভূমিকা রাখলেও সবগুলো বিশ্ববিদ্যালয় বা সব উদ্যোক্তাই যে নিয়মনীতি মেনে বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনা করছেন, তা নয়। বেশ কিছু বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে নানা অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে দেশের বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী লেখাপড়া করছে। কিন্তু এসব শিক্ষার্থী কী পরিবেশে কতটুকু শিখছে বা নিজেদের কতটুকু যোগ্য হিসেবে গড়ে তোলার সুযোগ পাচ্ছে তাও বিবেচনা করতে হবে।

বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ওই অনুষ্ঠানে সমাবর্তন বক্তব্য রাখেন প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন। অন্যদের মধ্যে আরও বক্তব্য রাখেন শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী, ইউজিসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক কাজী শহীদুল্লাহ, ফারইস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান শেখ কবির হোসেন, উপাচার্য অধ্যাপক নাজমুল করিম চৌধুরী।

পাঠকের মন্তব্য: (পাঠকের কোন মন্তব্যের জন্য কর্তৃপক্ষ কোন ক্রমে দায়ী নয়)