ব্রেকিং নিউজ
বাংলা

আপডেট এপ্রিল ৬, ২০১৭

ঢাকা মঙ্গলবার, ৮ মাঘ, ১৪২৬ , শীতকাল, ২৫ জমাদিউল-আউয়াল, ১৪৪১

বহির্বিশ্ব, লিড নিউজ যমজ সন্তানের লাশ বাবার কোলে, ছবি ভাইরাল

যমজ সন্তানের লাশ বাবার কোলে, ছবি ভাইরাল

রাসায়নিক গ্যাস হামলায় মারা গেছে ওই দুই মাসুম শিশু।

০৬ এপ্রিল ২০১৭, নিরাপদ নিউজ : সাদা কাপড়ে মোড়া নিথর দুটি দেহ। বুকে জাপটে ধরে রেখেছেন বাবা। আর ফুঁপিয়ে কেঁদে উঠছেন। আয়লান কুর্দির পর আহমেদ আর আইয়ার এই ছবি আরো একবার গোট দুনিয়ার কাছে তুলে ধরল সিরিয়াকে। সিরিয়ার সন্ত্রাসকে। দেখে শিউরে উঠছে সোশ্যাল সাইট। রাসায়নিক গ্যাস হামলায় মারা গেছে ওই দুই মাসুম শিশু।

মঙ্গলবার স্থানীয় সময় ভোর সাড়ে ছ’টা নাগাদ সিরিয়ার বিদ্রোহী অধ্যুষিত ইদলিব প্রদেশের খান শেখু শহরের আকাশে দেখা যায় যুদ্ধবিমান। অভিযোগ, সরকার বা রুশ সেনার সেই বিমান থেকেই ছড়িয়ে দেয়া হয় সারিন ও ক্লোরিন জাতীয় গ্যাস। গন্ধ ও বর্ণহীন সারিন গ্যাস অজান্তেই সরাসরি স্নায়ুতন্ত্রকে বিকল করে।

মনে করা হচ্ছে, বিষাক্ত সেই সারিনেই দমবন্ধ হয়ে মারা গেছে ৭২ জন। যাদের মধ্যে ২০ জনই শিশু।মুখে গ্যাঁজলা উঠে অজ্ঞান হয়ে যান কেউ কেউ। অসুস্থদের স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। হোয়াইট হেলমেট নামে সিরিয়ার একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা জানিয়েছে, আহতের চিকিৎসা চলছিল যে শিবিরে, সেখানেও বিমান হানা হয় কিছুক্ষণের মধ্যে। রাশিয়ার মদতপুষ্ট সিরিয়ার আসাদ সরকার অবশ্য এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

২০১৩ সালে ঘোউতায় সারিন গ্যাস হামলার পর আমেরিকা ও রাশিয়ার মধ্যস্থতায় ১৩০০ টন বিষাক্ত রাসায়নিক অস্ত্র হস্তান্তরে রাজি হয় সিরিয়া সরকার। সিরিয়ায় মার্কিন সেনা জোটের অভিযান ঠেকাতে আন্তর্জাতিক নজরদারির অধীনে রায়ায়নিক অস্ত্র কর্মসূচি বন্ধ করতেও রাজি হয় তারা। সরকার এই চুক্তি মেনে চলছে কি না, তা জানতে তদন্ত করেছিল জাতিসঙ্ঘ ও রাসায়নিক অস্ত্র নিয়ন্ত্রক সংস্থা।

গত অক্টোবরে তাদের রিপোর্টে দেখা যায়, ২০১৪-২০১৫ সালের মধ্যে অন্তত তিনবার রাসায়নিক অস্ত্র প্রয়োগ করেছে সরকার। ২০১৫ সালে মাস্টার্ড গ্যাস ব্যবহার করে হামলা চালিয়েছে ইসলামিক স্টেট। অশান্ত সিরিয়া থেকে পালায় আয়লান কুর্দির পরিবার। ২০১৫ সালের সেপ্টেম্বরে তুরস্ক থেকে পালানোর সময় ভূমধ্যসাগরে মায়ের কোল থেকে ছিটকে পড়ে দেড় বছরের আয়লান। গ্রিসের সৈকতে তার লাশ ভেসে আসে। সৈকতে মুখ থুবড়ে পড়ে থাকা আয়লানের সেই ছবি ভাইরাল হয়। ‌‌

পাঠকের মন্তব্য: (পাঠকের কোন মন্তব্যের জন্য কর্তৃপক্ষ কোন ক্রমে দায়ী নয়)