ব্রেকিং নিউজ
বাংলা

আপডেট নভেম্বর ২০, ২০১৯

ঢাকা সোমবার, ২৪ অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ , হেমন্তকাল, ১১ রবিউস-সানি, ১৪৪১

অপরাধ, খুলনা যৌতুক না পাওয়ায় গৃহবধূকে হত্যার অভিযোগ

যৌতুক না পাওয়ায় গৃহবধূকে হত্যার অভিযোগ

নিরাপদ নিউজ : শরীয়তপুরের নড়িয়ায় যৌতুকের টাকার জন্য সুমাইয়া আক্তার (১৯) নামে এক গৃহবধূকে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে তার পরিবার। গত ১৫ নভেম্বর রাতে শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলা কেদারপুর ইউনিয়নের পাঁচগাও গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনায় নড়িয়া থানা পুলিশ মামলা নিতে রাজি হয়নি বলে জানিয়েছে সুমাইয়ার পরিবার। পরে মঙ্গলবার সুমাইয়ার মা বাদী হয়ে শরীয়তপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে একটি মামলা দায়ের করেছে।

সুমাইয়ার স্বামীর পরিবারের দাবি, সুমাইয়া আত্মহত্যার চেষ্টা করেছে। তাকে হাসপাতালে ভর্তির পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় সুমাইয়া মারা গেছে। সুমাইয়ার বাবার পরিবার তাদের নামে মিথ্যা অভিযোগ করছে।

নড়িয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বলছেন, এ ঘটনায় সুমাইয়ার পরিবারের কেউ মামলা করতে আসেনি। মামলা করতে আসলে অবস্যই মামলা নিতাম।

মামলার এজহার ও নিহতের পারিবারিক সূত্র জানায়, ২০১৮ সালের ২ এপ্রিল উপজেলা পাঁচগাঁও গ্রামের আব্দুর রব শেখের মেয়ে সুমাইয়া আক্তারের সঙ্গে একই গ্রামের দুলাল মাদবরের ছেলে ইতালি প্রবাসী জুলহাস মাদবরের পারিবারিকভাবে বিবাহ হয়। কিছুদিন পর জুলহাস সুমাইয়াকে তার বাবার বাড়ি থেকে ১০ লাখ টাকা যৌতুক আনতে বলে। টাকা দিতে অস্বীকার করলে জুলহাস ও তার পরিবারের লোকজন সুমাইয়াকে মানসিক ও শারীরিক অত্যাচার শুরু করে। এর পর গত ৮ নভেম্বর জুলহাস আবার সুমাইয়াকে যৌতুকের জন্য চাপ প্রয়োগ করে ও মারধর করে।

গত ১৫ নভেম্বর রাত সাড়ে ৮টার দিকে টাকা দিতে অস্বীকার করলে সুমাইয়াকে তার শ্বশুর বাড়ির লোকজন মারধর করে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে ঘরের আড়ার সাথে বেঁধে হত্যার চেষ্টা করে। তখন তার আত্মচিৎকারে আশে পাশের লোকজন এগিয়ে আসে। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় রাত ১১টার দিকে তাকে নড়িয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে শরীয়তপুর সদর হাসপাতলে প্রেরণ করে।

তখন সুমাইয়ার স্বামীর পরিবার শরীয়তপুর সদর হাসপাতলে না নিয়ে তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে গত শনিবার (১৬ নভেম্বর) সকাল ১০টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সুমাইয়া মৃত্যুবরণ করে।

ঢাকা মেডিক্যাল কলেজে ময়না তদন্ত শেষে রবিবার তার স্বামীর বাড়িতে এনে জানাজা শেষে চন্ডিপুর গণকবরস্থানে দাফন সম্পন্ন হয়। এ ঘটনায় সুমাইয়ার মা মাফিয়া বেগম বাদী হয়ে সুমাইয়ার স্বামী জুলহাস মাদবর, শশুর দুলাল মাদবর, শাশুড়ি সেলিনা বেগম, ননদ আলো বেগমসহ ৯ জনকে আসামি করে ১৯ নভেম্বর শরীয়তপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে একটি মামলা দায়ের করেন। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে নড়িয়া থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে মামলাটি এফআইআর হিসাবে গ্রহণ করার নির্দেশ দেন।

সুমাইয়ার মা মাফিয়া বেগম বিলাপ করতে করতে বলেন, আমার একটাই মেয়ে। মেয়েটা সুখে থাকবে বলে বিয়ে দিয়েছিলাম। কিন্তু জুলহাসরা এতো খারাপ জানতাম না। সুমাইয়াকে মারধর করে নড়িয়া হাসপাতালে ভর্তি করে এবং পরে ঢাকা মেডিক্যালে নিয়ে ভর্তি করে, কিন্তু আমাকে কিছুই জানায়নি । যখন আমার মেয়ে মারা যায় তখন আমাকে জানায়, আপনার মেয়ে গলায় দড়ি দিয়ে মারা গেছে।

১০ লাখ টাকার জন্য ওরা আমার মেয়েকে মারধর করে কষ্ট দিয়ে মেরেছে। আমরা নড়িয়া থানায় মামলা করতে গেলে পুলিশ মামলা নেয়নি। তারা আদালতে মামলা করার পরামর্শ দেয়। তাই শরীয়তপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল মামলা করেছি। আমি আমার মেয়ের হত্যাকারীদের ফাঁসি চাই।

সুমাইয়ার ভাই রায়হান শেখ বলেন, দুলাভাই জুলহাসের অন্য একটি মেয়ের সাথে পরকীয়া সম্পর্ক ছিল। সেটা সুমাইয়া আপু জেনে যায়। ননদ আলো বেগম পরকিয়া করতো তাও যেনে গেছে আপু। এগুলো নিয়েও আপুকে নির্যাতন করতো তারা। তাছাড়া যৌতুকের টাকা দিতে পারি নাই তাই বোনটাকে হত্যা করলো তারা।

সুমাইয়া আক্তারের ননদ আলো বেগম বলেন, আমরা ভাবিকে হত্যা করবো কেন? সে নিজেই গলায় ওড়না পেঁচিয়ে মরতে চেয়েছে। আমরা বাঁচানোর চেষ্টা করেছি। সুমাইয়ার পরিবারের লোকজন মিথ্যা অভিযোগ করে আমাদের ফাঁসানোর চেষ্টা করছে।

নড়িয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিক্যাল অফিসার ডা. এস এম তৌহিদুল বাসার বলেন, সুমাইয়া যখন হাসপাতালে ভর্তি করার সময় অজ্ঞানের মতো ছিল। গলা দিয়ে গড়গড় শব্দ হচ্ছিল। গলায় হালকা দাগও ছিল। রোগীর অবস্থা খারাপ দেখে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়।

নড়িয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ হাফিজুর রহমান বলেন, এ ঘটনায় সুমাইয়ার পরিবারের কেউ থানায় মামলা বা অভিযোগ করতে আসেনি। স্থানীয় কিছু লোকজন আমাদের ইনফরমেশন দিয়েছিল সুমাইয়া আত্মহত্যা করেছে। তবুও ঢাকার শাহাবাগ থানায় যোগাযোগ করেছিলাম। তবে ময়নাতদন্ত রিপোর্ট পেলে এ বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

পাঠকের মন্তব্য: (পাঠকের কোন মন্তব্যের জন্য কর্তৃপক্ষ কোন ক্রমে দায়ী নয়)