ব্রেকিং নিউজ
বাংলা

আপডেট ২৪ সেকেন্ড

ঢাকা শুক্রবার, ৪ মাঘ, ১৪২৬ , শীতকাল, ২১ জমাদিউল-আউয়াল, ১৪৪১

শিক্ষা, শিক্ষানগরী সংবাদ রাবিতে অর্ধশতাধিক আসন ফাঁকা রেখেই ভর্তি কার্যক্রম স্থগিত

রাবিতে অর্ধশতাধিক আসন ফাঁকা রেখেই ভর্তি কার্যক্রম স্থগিত

resize_13801661671মার্চ ২০১৫, নিরাপদনিউজ : রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) চলতি (২০১৪-১৫) শিক্ষাবর্ষে বিভিন্ন অনুষদে মোট ৫৬ আসন ফাঁকা রেখেই ভর্তি কার্যক্রম স্থগিত করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
নতুন করে ভর্তির তারিখ না দেয়ায় অপেক্ষামান তালিকায় থাকা শিক্ষার্থীরা ভর্তি হতে পারছেন না। এতে অপেক্ষামান শিক্ষার্থীদের মধ্যে চরম ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করছে।
বিগত বছরগুলোতে আসন ফাঁকা হওয়া সাপেক্ষে একাধিকবার অপেক্ষামান তালিকা প্রকাশ করে থাকেন বিশ্ববিদ্যালয় কর্তপক্ষ। কিন্তু এ বছর একাধিকবার অপেক্ষমান তালিকা প্রকাশ করা সত্বেও এখনো বিভিন্ন অনুষদে ৫৬ আসন ফাঁকা রেখেই নতুন করে ভর্তির কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কলা অনুষদে আটটি, সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদে পাঁচটি, বিজ্ঞান অনুষদে ১৯টি, কৃষি অনুষদে ১১টি, বিজনেস স্টাডিস অনুষদে দুইটি, প্রকৌশল অনুষদে পাঁচটি, আইন বিভাগে দুইটি, জীব ও ভূ-বিজ্ঞান অনুষদে চারটিসহ মোট ৫৬টি আসন ফাঁকা রয়েছে।
নতুন করে ভর্তির নোটিশ না দেয়ায় এসব অনুষদের আসন ফাঁকা রেখেই চলছে প্রথম বর্ষের ক্লাস। তবে এ বিষয়ে বিশ্ববিদালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, বার বার ভর্তির নোটিশ প্রকাশ করে শিক্ষার্থীদেরকে ভর্তি করার পরেও আসন ফাঁকা থেকেই যাচ্ছে। ফলে অধিক সময় ধরে নতুন করে শিক্ষার্থী ভর্তি করা সম্ভব হচ্ছে না। নতুন করে ভর্তির তারিখ প্রকাশ না করায় অপেক্ষামান তালিকা থেকে আর কোনো শিক্ষার্থী ভর্তি হতে পারছেন না। ফলে ৫৬ আসন ফাঁকা রেখেই চলতি (২০১৪-১৫) সেশনের ভর্তি কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে।
এ দিকে ভর্তি কার্যক্রম স্থগিত থাকা সত্বেও গত ৯ মার্চ তারিখে প্রকাশিত নোটিশে বিশেষ বিবেচনায় খেলোয়ার কোটায় দুইজন শিক্ষার্থীকে ভর্তি করা হয়েছে। একজন ভর্তি হয়েছেন ফোকলোর এবং অন্যজন ভর্তি হয়েছেন ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগে। ফলে এ নিয়ে দেখা দিয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া।
এ বিষয়ে একাডেমিক শাখার উপ-রেজিস্ট্রার এ এইচ এম আসলাম হোসেন বলেন, আমরা ভর্তির শুরু থেকে আসন ফাঁকা থাকা সত্বেও একাধিকবার অপেক্ষমান তালিকা প্রকাশ করে আসছি। কিন্তু এভাবে একাধিকবার তালিকা প্রকাশ করা সত্বেও আসন ফাঁকা থাকলে আমাদের কিছু করার নেই। তাছাড়া আসন ফাঁকা হওয়া একটি চলমান প্রক্রিয়া।
তিনি আরো বলেন, প্রথম বর্ষের ক্লাস গত ফেব্রুয়ারি মাসের ৩ তারিখ থেকে শুরু হয়েছে এবং যে সকল বিভাগে সেমিস্টার পদ্ধতি তাদের প্রথম সেমিস্টারের ক্লাস প্রায় মাঝামাঝির দিকে। তাই নতুন করে শিক্ষার্থী ভর্তি করা আমাদের পক্ষে সম্ভবপর হচ্ছে না।
একইভাবে কলা অনুষদের ডিন প্রফেসর খন্দকার ফরহাদ হোসেন বলেন, আমরা একে একে নয়বার অপেক্ষামান তালিকা প্রকাশ করেছি। এর পরেও যদি আসন ফাঁকা থাকে তাহলে আমাদের পক্ষে কী করার আছে। এ বছর আমরা ১০২৬ সিটের জন্য অপেক্ষামান তালিকা থেকে ধীরে ধীরে ১০৮২ জন শিক্ষার্থীকে ভর্তি করিয়েছি। এখনো অনেকে ভর্তি বাতিল করে অন্যত্র চলে যাচ্ছে। ফলে তার আসনটি ফাঁকা থেকেই যাচ্ছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র উপদেষ্টা প্রফেসর সাদেকুল আরেফিন মাতিন বলেন, ভর্তির অপেক্ষামান তালিকা প্রকাশ করতে করতে কোন এক সময়তো ভর্তি প্রক্রিয়া থেমে যেতে হবে এটি তো আর দীর্ঘ সময় ধরে চলতে পারে না। অনেকবার অপেক্ষমান তালিকা প্রকাশ করার পরও আসন ফাঁকা থাকলে এখন আমাদের আর কিছু করার নেই।
বিশেষ বিবেচনায় দুইজন খোলোয়ারকে ভর্তি করার বিষয়ে বলেন, এরা আন্তর্জাতিক পর্যায়ের খেলোয়ার। তাই এই দুইজনকে ভর্তি উপ-কমিটির সভায় বিশেষ বিবেচনায় একজনকে ফেকলোর এবং অন্যজনকে ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগে ভর্তি করানো হয়েছে। এদেরকে কিন্তু মেধাতালিকার মধ্যে থেকেই ভর্তি করা হয়েছে।

পাঠকের মন্তব্য: (পাঠকের কোন মন্তব্যের জন্য কর্তৃপক্ষ কোন ক্রমে দায়ী নয়)