ব্রেকিং নিউজ
বাংলা

আপডেট ডিসেম্বর ৫, ২০১৯

ঢাকা বুধবার, ৯ মাঘ, ১৪২৬ , শীতকাল, ২৫ জমাদিউল-আউয়াল, ১৪৪১

সম্পাদকীয় লাগাম ছাড়া পেঁয়াজের দাম: এবার চালের বাজার নিয়ন্ত্রণে রাখুন

লাগাম ছাড়া পেঁয়াজের দাম: এবার চালের বাজার নিয়ন্ত্রণে রাখুন

নিরাপদ নিউজ: পেঁয়াজের দাম নিয়ন্ত্রণে আসার আগেই বেড়েছে চালের দাম। পেঁয়াজের দাম কবে কমবে তা সুনির্দিষ্ট করে বলতে পারছেন না বাণিজ্যমন্ত্রীও। মন্ত্রী বলছেন, মিশর, উসবেকিস্তান থেকে পেঁয়াজ আমদানি করা হলে খরচ পড়বে ৪০-৪৫ টাকা। সে জায়গায় যেতে সময় লাগবে। কারণ নতুন বাজারে যাওয়া, আর মিশরে পেঁয়াজের দাম নগদে দিতে হয়। সমস্যা সমাধানের একটাই পথ, দেশি উৎপাদন বাড়ানো। উৎপাদন বাড়াতে হলে কৃষকেরা যাতে ন্যায্য দাম পায় তা দেখতে হবে। দেশি পেঁয়াজ উঠলে এবং দাম পেতে শুরু করলে আমদানি কমিয়ে দেওয়া হবে। তিনি বলেন, ডিসেম্বরের শেষে বা মাঝামাঝি সময়ে দেশি পেঁয়াজ বাজারে আসবে। মিশর থেকেও যদি পুরোদমে চালান ঠিক থাকে এবং তাদের দাম না বাড়ে তাহলে দাম কমবে বলে তিনি মনে করেন। তিনি পেঁয়াজের ব্যবহার কমানোর চেষ্টা করার পরামর্শ দিয়েছেন।

আমরা মনে করি, সরকারের দায়িত্ব জিনিসপত্রের মূল্য নিয়ন্ত্রণ করা, কে কী খাবে না খাবে তা নির্ধারণ করে দেয়া নয়। সরকার পেঁয়াজের দাম নিয়ন্ত্রণ করতে না পেরে জনগণকে পেঁয়াজ খেতে নিষেধ করছে। তাহলে চালের মূল্য বৃদ্ধির পরিপ্রেক্ষিতে তারা কী বলবেন? বিগত তত্বাবধায়ক সরকারের আমলে চালের দাম বেড়ে যাওয়ায় দায়িত্বশীলরা ভাতের বদলে আলু খাওয়ার পরামর্শ দিয়ে ঠাট্টার পাত্র হয়েছিলেন। আমরা আশা করি বর্তমান সরকারের পক্ষ থেকে এমন বেঁফাস এবং বাস্তবতা বিবর্জিত মন্তব্য আসবে না।

পত্রিকায় প্রকাশিত খবরে জানা গেছে, পেঁয়াজের বাজারে অগ্নিমূল্যের মধ্যেই হঠাৎ করে চালের দাম কেজিপ্রতি পাঁচ থেকে ছয় টাকা বেড়ে গিয়েছিল। সে বাজার কিছুটা স্থিতিশীল হলেও চালের মূল্য আর আগের জায়গায় আসেনি। পাঁচ থেকে ছয় টাকা বাড়ার পর কেজিপ্রতি কমেছে মাত্র এক টাকা। ঢাকার পাইকারি বাজারে গত ১৫ দিনে সরু মিনিকেট চালের দাম কেজিতে ৫ থেকে ৭ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে। অন্যদিকে মাঝারি বিআর-২৮ ও সমজাতীয় চালের দাম বেড়েছে ৩ থেকে ৪ টাকা। মোটা চালের দাম তুলনামূলক কম বেড়েছে, কেজিপ্রতি ২ টাকার মতো। দেশে চালের দামের পাশাপাশি বাড়তি ধানের দামও। কিন্তু এমন সময়ে দাম বাড়ল, যখন প্রান্তিক কৃষকের কাছে ধান নেই। ফলে এই মূল্যবৃদ্ধির সুবিধাভোগী মূলত মিল মালিক, আড়তদার ও বড় কৃষকেরা। আর বিপাকে পড়েছে সাধারণ মানুষ।

সম্প্রতি খাদ্য মন্ত্রণালয়ের বাজার মনিটরিং কমিটির সদস্যরা চালের বাজার পরিদর্শনে গেলে ব্যবসায়ীরা জানান, চালের বাজারে অস্থিরতা সৃষ্টি হওয়ার পেছনে কোনো কারণ নেই। বাজার ঘুরে মনিটরিংয়ের দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তারা জানান, শুধু রাজধানী নয়, ইউনিয়ন পর্যন্ত চালের বাজার মনিটরিং করছেন তাঁরা। ব্যবসায়ীদের পাশাপাশি সরকারের কাছে চালের যথেষ্ট মজুদ রয়েছে এবং খুব শিগগিরই নতুন চাল বাজারে চলে আসবে বলেও মনে করছেন তাঁরা।

এদিকে খাদ্য অধিদপ্তর বলছে, সরকারের কাছে চালের যথেষ্ট মজুদ আছে। যেহেতু দেশে প্রচুর ধান-চালের মজুদ রয়েছে, সেহেতু সরকার আমদানি বন্ধ রেখেছে। যদি বাজার দর স্থিতিশীল থাকে, তাহলে যে মজুদ আছে, এটি দিয়ে যথেষ্ট পরিমাণে সরবরাহ করার সুযোগ রয়েছে। এ ছাড়া খাদ্য বিভাগের গুদামে ১০ লাখ ৬৬ হাজার টন চালের মজুদ আছে এবং নতুন করে ধান কেনা শুরু হয়েছে। ভোক্তাদের কম দামে চাল সরবরাহের পাশাপাশি কৃষকরাও যেন ধানের ন্যায্য দাম পান, সে জন্য সরকার ব্যবস্থা নিচ্ছে বলেও আশ^াস দেওয়া হয়েছে। তবে, জনরোষ এড়াতে আশ^াস দেওয়া যে একটি পুরনো কৌশল, তা জনগণ বোঝে।

পেঁয়াজের ঝাঁজ এখন চাল, ডাল, লবণ, তেল, আদা, রসুন শুরু করে শীতকালীন সব সবজিতে সংক্রমিত হয়েছে। নিত্য প্রয়োজনীয় অনেক জিনিসের দাম ইতোমধ্যে সাধারণ মানুষের ক্রয়সীমার বাইরে চলে গেছে। গত বছর চালের দাম নিয়ে দেশজুড়ে অস্থিরতা দেখা দিয়েছিল। আশা করি এবছর সরকার আগেভাগেই এ ব্যাপারে সচেতন থাকবে এবং চালের বাজার নিয়ন্ত্রণে যথাযথ পদক্ষেপ নেবে। এছাড়া বিগত বছরে কৃষকরা ধানের দাম না পেয়ে যেভাবে হা-হুতাশ করেছিল, এ বছর সেই দৃশ্যের অবতারণা যেন না হয় সে বিষয়ে সরকারের পূর্বপ্রস্তুতি থাকতে হবে।

পাঠকের মন্তব্য: (পাঠকের কোন মন্তব্যের জন্য কর্তৃপক্ষ কোন ক্রমে দায়ী নয়)