ব্রেকিং নিউজ
বাংলা

আপডেট মার্চ ১৫, ২০২০

ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৬ চৈত্র, ১৪২৬ , বসন্তকাল, ১৫ শাবান, ১৪৪১

অপরাধ, খুলনা শরীয়তপুরের নড়িয়ায় কলেজছাত্রীকে পালাক্রমে ধর্ষণের অভিযোগ

শরীয়তপুরের নড়িয়ায় কলেজছাত্রীকে পালাক্রমে ধর্ষণের অভিযোগ

নিরাপদ নিউজ : শরীয়তপুর নড়িয়া উপজেলায় এক কলেজছাত্রীকে গণধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। শুক্রবার (১৩ মার্চ) দুপুর দেড়টার দিকে উপজেলার বিঝারি ইউনিয়নের কান্দিগাঁও এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় শনিবার (১৪ মার্চ) সকালে নড়িয়া থানায় একটি মামলা হয়েছে।

পুলিশ, ওই ছাত্রী ও স্থানীয় সূত্রে জানায়, ছাত্রী স্থানীয় একটি কলেজের ডিগ্রীর দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। শুক্রবার সকাল ১০টার দিকে শরীয়তপুর সরকারি কলেজে বড় বোনের একটি মিটিংয়ে যোগ দিতে আসেন ওই ছাত্রী। দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে মিটিং শেষে অটোরিকশায় করে পালং উত্তর বাজার দিয়ে কানার বাজার যান তিনি। সেখান থেকে নিজ এলাকা নড়িয়া কাপাশপাড়া যাওয়ার জন্য আবার অটোরিকশার জন্য অপেক্ষা করেন। অটোরিকশা না পেয়ে বাড়ির উদ্দেশ্যে হাটতে থাকেন তিনি।

কান্দিগাঁও এলাকায় পৌঁছালে ফাঁকা সড়কে ওই এলাকার জয়নাল মোল্লার ছেলে আল আমিন মোল্লা (২৫) তাকে জোর করে নিপু খাঁর মাছের প্রজেক্টের ঝোপঝাড়ে নিয়ে যায়। ইচ্ছার বিরুদ্ধে আল আমিন ওই ছাত্রীকে ধর্ষণ করে।

পরে আল আমিনের তিন বন্ধু কালু শিকদারের ছেলে হৃদয় (২৫), আলমগীর মোল্লার ছেলে মুরাদ মোল্লা (২২) ও কাশেম সরদারের ছেলে আরিফ সরদার (২৩) মুখ চেপে পালাক্রমে ধর্ষণ করে। কলেজছাত্রীর চিৎকারে স্থানীয়রা এগিয়ে আসে। তাৎক্ষণিকভাবে তাকে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ওই ছাত্রী বলেন, আমার সঙ্গে আল আমিন, হৃদয়, মুরাদ ও আরিফ আমার ওপর নির্যাতন করেছে। তাদের হাত-পায়ে ধরলেও আমাকে ছাড়েনি। আমার সোনার চেইন, কানের দুল, আংটি, রুপার নুপুরসহ নগদ ৫ হাজার টাকা নিয়ে যায় ওরা। এখন আমার খুব কষ্ট হচ্ছে।

ওই ছাত্রীর বাবা বলেন, আমার মেয়ের জীবনটা ওরা নষ্ট করে দিয়েছে। মেয়েকে এখন কিভাবে বিয়ে দেব, গ্রামে কেমনে মুখ দেখাব? আমার মেয়ের সঙ্গে যারা খারাপ কাজ করেছে তাদের আইনের আওতায় এনে ফাঁসি দেওয়া হোক।

ঘটনার পর থেকে অভিযুক্তরা সবাই পলাতক রয়েছে। তাদের খোঁজে বাড়ি গিয়ে কাউকে পাওয়া যায়নি। স্থানীয়রা জানিয়েছে তারা এলাকা ছেড়ে পালিয়েছে।

শরীয়তপুর সদর হাসপাতালের মেডিক্যাল অফিসার ডা. লিমিয়া সাদিয়া বলেন, ওই ছাত্রীর মেডিক্যাল পরীক্ষা করা হয়েছে। রিপোর্ট পাওয়ার পর বলা যাবে তার সঙ্গে কি হয়েছিল।

নড়িয়া থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ হাফিজুর রহমান বলেন, এ ঘটনায় ওই ছাত্রীর বড় ভাই বাদী হয়ে থানায় মামলা করেছে। ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

পাঠকের মন্তব্য: (পাঠকের কোন মন্তব্যের জন্য কর্তৃপক্ষ কোন ক্রমে দায়ী নয়)