ব্রেকিং নিউজ
বাংলা

আপডেট ৩৫ মিনিট ২৯ সেকেন্ড

ঢাকা সোমবার, ৭ মাঘ, ১৪২৬ , শীতকাল, ২৪ জমাদিউল-আউয়াল, ১৪৪১

নিসচা সংবাদ, লিড নিউজ শাহজাহান খানের মিথ্যাচারের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন: জীবন নিয়ে শংকায় ইলিয়াস কাঞ্চন

শাহজাহান খানের মিথ্যাচারের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন: জীবন নিয়ে শংকায় ইলিয়াস কাঞ্চন

নিরাপদ নিউজ: পরিবহন শ্রমিক নেতা শাজাহান খান এমপি’র মিথ্যাচারের প্রতিবাদে নিরাপদ সড়ক চাই আয়োজিত সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয় জাতীয় প্রেসক্লাবের আবদুস সালাম মিলনায়তনে আজ ১১ ডিসেম্বর ২০১৯। উপস্থাপনা করেন নিসচা কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম মহাসচিব লিটন এরশাদ।  কোরআন তেলাওয়াত করেন কেন্দ্রীয় সাধারণ সদস্য আলী আকবর। শোক প্রস্তাব উত্থাপন করেন যুগ্ম মহাসচিব লায়ন গনি মিয়া বাবুল।

উপস্থিত ছিলেন নিসচা ভাইস চেয়ারম্যান শামীম আলম দীপেন, যুগ্ম মহাসচিব সাদেক হোসেন বাবুল, বেলায়েত হোসেন খান নান্টু, অর্থ সম্পাদক নাসিম রুমি, সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম আজাদ হোসেন, সহ সাংগঠনিক সম্পাদক একে আজাদ ও আবদুর রহমান, আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক মিরাজুল মইন জয়, দপ্তর সম্পাদক ফিরোজ আলম মিলন, সমাজকল্যাণ সম্পাদক আসাদুর রহমান, সহ প্রচার সম্পাদক সাফায়েত সাকিব, কার্যনির্বাহী সদস্য কামাল হোসেন খান, সৈয়ক একরামুল হক, এম জামাল হোসেন মন্ডল, মিষ্টি চৌধুরীসহ সাধারণ সদস্য। এছাড়া শাখা পর্যায়ে ধামরাই, নারায়ণগঞ্জের সাইনবোর্ড শাখা, সাভার ও আশুলিয়া কমিটির সদস্যবৃন্দ। আরো উপস্থিত ছিলেন, এস এম মাসুদ,মোঃ হেলাল উদ্দিন , অন্তর হাসান শাকিল, মোঃ কবির আহমদ , এ্যাড. আলমগীর ,মোঃ আনারুল হক, মোঃ মোয়াজ্জেম হোসেন, এএসএম সেলিম, মোঃ আরিফ, মোঃ রহমান, মোঃ শাকিল,মোঃ শাহাদাৎ, মোঃ সাদ্দাম ,মোঃ সুজন,মোঃ হৃদয় হোসেন,সজল চৌধুরী, মোঃ আবুল কালাম আজাদ, স্বপন আহমেদ,সাদিয়া আফরিন, ড. হোসাইন, শওকাত আলী সহেল, আব্দুল খালেক, ওয়াহিদ মিয়া , আবীর হোসেন, রাইসিন গাজী, জাহিদুল হক ভুঁইয়া, আব্দুল হক শাহ্‌, মোবারক মিয়া, রানী বেগম, মোঃ আব্দুল আলীম, মোঃ সাত্তার, লছিমা, আবুল হোসেন, রহমান, এম এম আমিন, আবু বকর, ফরিদ, মোঃ সহেল, আফরোজা, মোঃ আব্দুল আলিম, রিসাদ, মোঃ আনোয়ারুল ইসলাম, রেজাউল করিম রাজা।

সংবাদ সম্মেলনে জীবন নিয়ে শংকা ব্যক্ত করে ইলিয়াস কাঞ্চন বলেন, আমরা কখনই চালক-মালিকদেরকে প্রতিপক্ষ ভাবিনা। কিন্তু তিনি বারবার এই চালক-মালিকদেরকে আমার, আমার সংগঠন, আমার পরিবার ও নিসচার সদস্যদের বিরুদ্ধে ক্ষেপিয়ে তুলছেন। যার ফলে আমি শংকিত আমার জীবন নিয়ে, আমার পরিবারের জীবন নিয়ে, আমার সংগঠনের সকল স্তরের নেতাকর্মীদের জীবন নিয়ে। আমি সরকারের কাছে আহবান জানাবো আমাদের জানমালের নিরাপত্তা বিধানে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার জন্য।

শাহজাহান খানের মিথ্যাচারের প্রতিবাদে ইলিয়াস কাঞ্চনের বক্তব্যটি হুবহু তুলে ধরা হলো:

প্রিয় সাংবাদিক ভাই ও বোনেরা

আমি ইলিয়াস কাঞ্চন-

আসসালামুআলাইকুম। সকলের সুস্বাস্থ্য ও সড়কে নিরাপদ জীবন কামনা করে আজকের সংবাদ সম্মেলন শুরু করছি।

প্রথমে নিরাপদ সড়ক চাই’র মাধ্যমে সারাদেশে মানুষের কল্যাণে সড়কে থেকে কল্যাণমুখি কাজ করতে পারছি বলে প্রথমেই আমি মহান আল্লাহর দরবারে সন্তুষ্টি প্রকাশ করছি।

সেইসাথে জানাচ্ছি আজ বিশেষ একটা কারণে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে।

প্রিয় সাংবাদিক ভাই ও বোনেরা

আপনারা নিশ্চয়ই অবগত আছেন গত ০৮ ডিসেম্বর পরিবহন শ্রমিক নেতা শাজাহান খান এমপি নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে একটি অনুষ্ঠানে আমাকে এবং নিরাপদ সড়ক চাইসহ আমার পরিবারের সদস্যদের নিয়ে নির্লজ্জ মিথ্যাচারের মাধ্যমে অসত্য, বানোয়াট ও উদ্ভট কিছু প্রসঙ্গ টেনে এনে চরিত্র হরণের চেষ্টা চালিয়েছেন।

আমি মনে করি শাহজাহান খানের এমন মিথ্যাচার শুধুমাত্র নিজের দুর্বলতা ঢাকার জন্যই বলছেন। তিনি এইসব মানহানীকর কথা বলেছেন জাতিকে বিভ্রান্ত করার জন্য। সেইসাথে সড়ক পরিবহন আইন ২০১৮কে বাধাগ্রস্ত করতে উদোর পিন্ডি বুধোর ঘাড়ে চাপাতে অবান্তর প্রশ্নের অবতারণা করছেন।

প্রিয় সাংবাদিক ভাই ও বোনেরা

জনাব শাজাহান খান যখন এসব প্রশ্নের অবতারণা করেছেন তখন বিশেষ একটা প্রয়োজনে আমি ভারতে অবস্থান করছিলাম। যে কারণে তাৎক্ষণিক আমি আপনাদের মুখোমুখি হতে পারিনি। তবে নিরাপদ সড়ক চাই’র পক্ষ থেকে ঐদিনই প্রতিবাদ জানানো হয়েছে এবং শাজাহান খানের এমন মিথ্যাচারের জন্য তাকে ২৪ ঘন্টার আল্টিমেটাম দেয়া হয়েছে এই মর্মে- হয় তথ্য প্রমাণ উপস্থাপন করুন নতুবা ক্ষমা প্রার্থণা করুন।  ২৪ ঘন্টা পার হয়েছে কিন্তু শাজাহান খান তার বক্তব্যের সপক্ষে কোন প্রমাণ জাতির সামনে হাজির করেন নি এবং ক্ষমাও চাননি।

যারজন্য আজ আমি এই সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে আপনাদের সামনে কিছু কথা তুলে আনতে চাই এবং পরবর্তী করণীয় সম্পর্কে দেশবাসীকে অবহিত করতে চাই।

প্রিয় সাংবাদিক ভাই ও বোনেরা

আমার প্রশ্ন হলো আমি যখন দেশের বাইরে ছিলাম তখন কেন এসব প্রশ্নের অবতারণা। আমি মনে করি এটা পেছন থেকে ছুরিকাঘাতের সামিল। যদি সেই সৎসাহস থাকে তাহলে সামনে এসে প্রমাণ নিয়ে বসুন। প্রয়োজনে লাইভ টক শো হবে। পুরো জাতি দেখবে। কিন্তু তা না করে অসত্য তথ্য উপস্থাপন করে তিনি নিজেকে জাহির করতে চাইছেন। স্বজন হারিয়ে সকলের সহযোগিতায় আন্দোলন করছি আমি। কিন্তু এখানে কেন আমার পরিবারকে টেনে আনা হয়েছে। যেহেতু টেনে আনাই হয়েছে মিঃ খান সাহেবের দায়িত্ব হলো এর সপক্ষে প্রমাণ হাজির করা।  আমি মনে করি দুর্বল চিত্তের লোকেরাই দম্ভোক্তি দেখিয়ে বিভ্রান্তিকর চটকদার মশলায় একজনের চরিত্র হরণের নিচু মানসিকতার পরিচয় দিয়ে থাকেন।

প্রিয় সাংবাদিক ভাই ও বোনেরা

শাজাহান খানের এমন মিথ্যাচারে আমি বিস্মিত, হতবাক এবং তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি। তিনি আমার সম্পর্কে জঘন্যতম একটি মিথ্যাচার করেছেন।

তিনি বলেছেন-

‘ইলিয়াস কাঞ্চন কোথা থেকে কত টাকা পান, কি উদ্দেশ্যে পান, সেখান থেকে কত টাকা নিজে নেন, পুত্রের নামে নেন, পুত্রবধূর নামে নেন সেই হিসেবটা আমি জনসম্মুখে তুলে ধরবো।’

আমিও বলছি তুলে ধরুন জাতির সামনে। আর তুলে না ধরতে পারলে জাতির কাছেই ক্ষমা প্রার্থণা করুন।

সেইসাথে আমি শংকিত। যে টাকার হদিস তিনি দিতে চাইছেন সেই টাকা তো ছুঁয়ে দেখা তো দূরের কথা আমি এবং আমার সংগঠন চোখেও দেখেনি। যদি তিনি দেখে থাকেন, জেনে থাকেন তাহলে হদিস দিন। কারণ আমাদের নামের টাকা অন্য কেউ নিয়ে যায়নি তো? শাজাহান খান সাহেবকে বিষয়টা পরিস্কার করতে হবে। যেটা সত্য সেটা তুলে ধরতে হবে। নতুবা এই টাকার তীর আমিও তার দিকে ছুঁড়তে পারি। কারণ তিনি যেভাবে নিশ্চিত(!) হয়ে বলছেন তাতে আমার সন্দেহ হওয়াটা অমূলক নয়!

আমি আবারও তাঁকে ২৪ ঘন্টার সময় বেঁধে দিচ্ছি- এই সময়ের মধ্যে এই তথ্য জাতির সামনে তুলে ধরতে হবে। নতুবা আমি আইনের পথেই হাঁটবো।  আমরা ইতিমধ্যে আইনজীবীর সাথে কথা বলেছি।  প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

প্রিয় সাংবাদিক ভাই ও বোনেরা

একটি কথা না বললেই নয়, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যখন সড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে যুগপোযুগী সড়ক পরিবহন আইন ২০১৮ বাস্তবায়নে নির্দেশ দিলেন তখন কি করে শাহজাহান খান সরকারে থেকে এই আইনের বিরুদ্ধে অবস্থান নেন সেই প্রশ্ন জাতির কাছে রাখছি। আমরা মনে করি সড়ক পরিবহন আইন ২০১৮কে বাধাগ্রস্ত করতে উদোর পিন্ডি বুধোর ঘাড়ে চাপাতে শাহজাহান অবান্তর এসব প্রশ্নের অবতারণা করছেন। আমরা বিশ্বাস করি এদেশের মানুষ এসবের যোগ্য জবাব দিবে।

প্রিয় সাংবাদিকবৃন্দ

আমি কারও পক্ষে বা বিপক্ষে নই।  আমি আপামর মানুষের স্বার্থে কথা বলি। আজকের সড়ক পরিবহন আইনটি নিয়ে আলোচনা শুরু হয় ২০১২ সাল থেকে। আইনের খসড়া সরকার ওয়েব সাইটে উন্মুক্ত রাখে দীর্ঘদিন। অংশীজনদের এ আইনে সম্পৃক্ত করা হয়। জনগণের মতামত দেওয়ারও সুযোগ রাখা হয়েছিল। নিরাপদ সড়কের দাবিতে যেসব সংগঠন কাজ করে তাদের প্রতিনিধিরাও মতামত দিয়েছেন। গণপরিবহন সেক্টরের চালক, মালিক শ্রমিকদের মতামত ও দাবি-দাওয়া শুনেছে সরকার। সকলের মতামতের ভিত্তিতে ৩৫ বছরের পুরানো আইনকে যুগোপযোগী করার চেষ্টা করেছে সরকার। আমি নিসচার পক্ষ থেকে দেশের সড়ককে নিরাপদ করার লক্ষে আইনের বিষয়ে আমাদের মতামত তুলে ধরেছিলাম। আইন প্রণয়নে আমার কোনও সুযোগ ছিলনা। কিন্তু তারপরও আমাকে লক্ষ্য করে আক্রমণাত্মক কথা বলা দুঃখজনক।

প্রিয় সাংবাদিক ভাই ও বোনেরা

কিন্তু শাজাহান খান বলে থাকেন আমি নাকি সাধারণ মানুষের কাছে পরিবহন শ্রমিকদের বিরুদ্ধে কথা বলে নেতিবাচক আবহ তৈরি করি। আমি চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিচ্ছি কবে, কখন, কোথায় আমি সরাসরি পরিবহন শ্রমিকদের বিরুদ্ধে কথা বলি সেটা প্রমাণ করতে হবে। আমি সবসময়ই বলে আসছি আমি কথা বলি অন্যায়ের বিরুদ্ধে, আমি কথা বলি অনিয়মের বিরুদ্ধে, আমি কথা বলি বিশৃঙ্খল পরিবেশের বিরুদ্ধে। আর সেটা যদি কারও বিপক্ষে যায় তাহলে কি খুব বেশি অন্যায় হবে?

প্রিয় সাংবাদিক ভাই ও বোনেরা

সেইসাথে উল্টো প্রশ্ন রাখছি পরিবহন সেক্টরে বছরে বিভিন্ন খাতের নামে যে টাকা উত্তোলন (চাঁদা আদায়) করা হয় সেই টাকার কত অংশ শ্রমিকদের কল্যাণে ব্যয় করা হয়েছে, কয়টা প্রাতিষ্ঠানিক প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা হয়েছে শ্রমিকদের দক্ষ করার জন্য, কয়টি হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে শ্রমিকদের স্বাস্থ্য সেবা দেয়ার জন্য, কয়টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা হয়েছে শ্রমিকদের সন্তানদের লেখাপড়া শেখানোর জন্য, কয়টি আবাসন পল্লী গড়ে তোলা হয়েছে শ্রমিকদের আবাসনের জন্য, তাদের জীবনমান উন্নয়নে এই টাকার কত অংশ ব্যয় করা হয়? কতজন চালক তৈরি করেছেন? বিদ্যমান চালকদের দক্ষ করার কি উদ্যোগ নিয়েছেন?

প্রিয় সাংবাদিক ভাই ও বোনেরা

অথচ তিনি (শাজাহান খান) প্রশ্ন করেছেন নিরাপদ সড়ক চাই কতজন দক্ষ চালক তৈরি করেছেন? আমি বলতে চাই আমরা নতুন চালক তৈরি করার জন্য বিনা ফিতে দারিদ্র এসএসসি পাস বেকার শ্রেনীকে প্রশিক্ষণ দিয়ে লাইসেন্স পাইয়ে কর্মক্ষম করার উদ্যোগের মাধ্যমে দারিদ্র বিমোচনে অংশী হয়েছি।

পাশাপাশি বিদ্যমান চালকদের দক্ষতা বৃদ্ধিমূলক প্রশিক্ষণ দিয়ে প্রায় ২০ থেকে ২৫ হাজারের মত চালককে প্রশিক্ষণের আওতায় এনেছি।

আমাদের এই প্রয়াস চলমান রয়েছে। আমরা মনে করি আমরা পথ দেখাতে পারি এবং সেই পথেই আছি। আমি দৃঢ়তার সঙ্গে বলছি এই শাজাহান খানরা নিজেদের স্বার্থ হাসিলে শ্রমিকদের শুধুই ব্যবহার করে গেছেন। শ্রমিকদের জুজুর ভয় দেখিয়ে আমার বিরুদ্ধে ব্যবহার করছেন। কিন্তু আমি বিশ্বাস করি এই শ্রমিকরাই একদিন সব বুঝতে পারবে। তখন তারাই প্রতিবাদের দেয়াল হয়ে দাঁড়াবে। সেই সময় আর বেশি দূরে নেই।

প্রসঙ্গত বলছি-

পূর্বেও এই শাজাহান খান শ্রমিকদের উস্কে দিয়ে আমার কুশপুত্তলিকায় আগুন জ্বালিয়ে ছিলেন। এরপর গোটা দেশজুড়ে প্রতিবাদে বিক্ষোভে সকলে ফেটে পড়লে শাজাহান খান আমার কাছে ক্ষমা চাইতে বাধ্য হন। সেইসাথে বলছি এবারও রাস্তায় আমার ছবি পোড়ানো ও অসম্মান করার প্রতিবাদে দেশবাসী ঘৃণাভরে প্রতিবাদ জানিয়েছে। আমার আস্থার জায়গা এই দেশবাসী। আমার আস্থার জায়গা আপনারা গণমাধ্যম।

প্রিয় সাংবাদিক ভাই ও বোনেরা

একটি কথা পরিস্কার ভাষায় বলতে চাই-

আমরা কখনই চালক-মালিকদেরকে প্রতিপক্ষ ভাবিনা। কিন্তু তিনি বারবার এই চালক-মালিকদেরকে আমার, আমার সংগঠন, আমার পরিবার ও নিসচার সদস্যদের বিরুদ্ধে ক্ষেপিয়ে তুলছেন। যার ফলে আমি শংকিত আমার জীবন নিয়ে, আমার পরিবারের জীবন নিয়ে, আমার সংগঠনের সকল স্তরের নেতাকর্মীদের জীবন নিয়ে। আমি সরকারের কাছে আহবান জানাবো আমাদের জানমালের নিরাপত্তা বিধানে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার জন্য।

প্রিয় সাংবাদিক ভাই ও বোনেরা

অতীতেও এই শাজাহান খান দেশে নানান ঘটনার জন্মদিয়ে সমালোচনার মুখে পড়েছেন। দেশবাসী সকলের মনে আছে, গত বছর বাসচাপায় দুই শিক্ষার্থী নিহত হওয়ার সংবাদ শোনার পরেও এই তাঁর মুখের হাসি দেখে অনেকেই অবাক হয়েছেন। তিনি দুর্ঘটনায় মৃত্যুকে নিছক ঘটনা ভেবে হেলাফেলায় গুরুত্বহীন বক্তব্য দিতে গিয়ে দেশবাসীর মর্মমূলে আঘাত করেছেন। তাঁর এই হীন কর্মকান্ডের কারণেই আজ সড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে বার বার বাঁধার সৃষ্টি হচ্ছে বলে আমরা মনে করি। শাজাহান খান কি কারণে কি উদ্দেশ্যে বারবার এমন লাগামহীন বক্তব্য দিয়ে সমাজে একটি বিশৃঙ্খলা পরিবেশ সৃষ্টি করেন তা আমাদের কারোই বোধগম্য নয়।

প্রিয় সাংবাদিক ভাই ও বোনেরা

আমরা লক্ষ্য করেছি, সরকার যখন নতুন সড়ক পরিবহন আইন-২০১৮ কার্যকর করতে তৎপর পরিবহন সেক্টরের একটি চক্র বাধার সৃষ্টি করে যাচ্ছে। তারা নতুন করে নানা ধরনের প্রসঙ্গ তুলে ধরে বিতর্ক সৃষ্টির প্রয়াস চালিযে যাচ্ছে। কিন্তু হতাশাজনক বিষয় হলো, নতুন আইনের বিষয়ে তারা কোনও প্রস্তুতি নেয়নি। তারা শুধু দোষারোপ করে গেছে। সময় থাকতে গাড়ির লাইসেন্স, ফিটনেস এবং গাড়ির আকৃতি পরিবর্তনজনিত অনিয়ম ও ত্রুটিগুলো সংশোধনে তারা মনোযোগ দেয়নি। এসব ত্রুটি- বিচ্যুতি যদি তারা নতুন আইন প্রয়োগের আগেই সমাধান করতেন তা হলে নতুন করে আইনের কয়েকটি বিষয় ছাড়ের সময়সীমা আর বাড়ানোর প্রয়োজন হতোনা।

প্রিয় সাংবাদিক ভাই ও বোনেরা

পরিশেষে আবারও আমরা তাঁর (শাজাহান খান) দেয়া আজকের বক্তব্যের স্বপক্ষে প্রমাণ দেশবাসীকে দেখানোর আহবান জানাচ্ছি।  সেইসাথে নিসচার নামে যে টাকার হদিস তিনি দিতে চাইছেন সে টাকা কোথায় সেটা তাঁকে খুঁজে বের করতে হবে।

আমরা মনে করি তিনি কেন এমন মিথ্যাচার করলেন তার জবাব দেশবাসীর সামনে তাকেই দিতে হবে এবং এমন কাজের জন্য তাকে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে হবে। নইলে এই মিথ্যা ও জঘন্যতম বক্তব্যের প্রতিবাদে রাজপথে নামতে বাধ্য হবে নিসচা কর্মীরা। কারণ এদেশের মানুষের ভালবাসাই আমার মনোবল। আমার সাহস। আমার এগিয়ে যাওয়ার প্রেরণা। কোন অপশক্তি ও প্রোপাগান্ডায় আমি পিছিয়ে আসবো না।

ধন্যবাদ সকলকে।

Posted by Ilias Kanchan on Tuesday, December 10, 2019

পাঠকের মন্তব্য: (পাঠকের কোন মন্তব্যের জন্য কর্তৃপক্ষ কোন ক্রমে দায়ী নয়)