ব্রেকিং নিউজ
বাংলা

আপডেট জানুয়ারী ৯, ২০২০

ঢাকা বুধবার, ১৬ মাঘ, ১৪২৬ , শীতকাল, ৩ জমাদিউস-সানি, ১৪৪১

অনুসন্ধানী প্রতিবেদন, নারী ও শিশু সংবাদ, লিড নিউজ শিশু ধর্ষণ বেড়েছে ৭৬.১ শতাংশ, পাশাপাশি শিশু হত্যা বেড়েছে ৭.১৮ শতাংশ

শিশু ধর্ষণ বেড়েছে ৭৬.১ শতাংশ, পাশাপাশি শিশু হত্যা বেড়েছে ৭.১৮ শতাংশ

নিরাপদ নিউজঃ ২০১৮ সালের তুলনায় ২০১৯ সালে শিশু ধর্ষণ বেড়েছে ৭৬ দশমিক ১ শতাংশ। পাশাপাশি শিশু হত্যা বেড়েছে ৭ দশমিক ১৮ শতাংশ। সার্বিকভাবে শিশু নির্যাতন কিছুটা হ্রাস পেলেও যৌন নির্যাতন বেড়েছে ৭০ দশমিক ৩২ শতাংশ, যা আশঙ্কাজনক। গতকাল বুধবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য তুলে ধরে শিশু অধিকার ফোরাম।

বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত খবর থেকে এ তথ্য সংগ্রহ করে ফোরামটি। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান নাছিমা বেগম। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন শিশু অধিকার ফোরামের চেয়ারপারসন মো. মাহবুবুল হক।

শিশু অধিকার পরিস্থিতি-২০১৯ প্রতিবেদনটি উপস্থাপন করে সংস্থার পরিচালক আবদুছ সহিদ মাহমুদ জানান, ২০১৯ সালে ৪ হাজার ৩৮১টি শিশু বিভিন্ন ধরনের সহিংসতা

ও নির্যাতনের শিকার হয়েছে। ২ হাজার ৮৮টি শিশু অপমৃত্যুর শিকার হয়েছে। শিশু খুনের ঘটনা ঘটেছে ৪৪৮টি। ১ হাজার ৩৮৩টি শিশু যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছে। আবদুছ সহিদ মাহমুদ বলেন, এটি শিশুদের প্রতি সহিংসতায় বিচারহীনতা এবং বিচারের দীর্ঘসূত্রতার ইঙ্গিত বহন করে। সীমিত সময়ের জন্য হলেও সরকারের উচিত ধর্ষকের সর্বোচ্চ শাস্তি হিসেবে মৃত্যুদ-ের বিধান করা। শিশু খুন, ধর্ষণ ও অপহরণ অন্তত এই তিনটি ক্ষেত্রে দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে বিচার করা উচিত।

প্রতিবেদনে বলা হয়, শিশু অপহরণ, নিখোঁজ ও উদ্ধার ১৪ দশমিক ০২ শতাংশ, নির্যাতন ও সহিংসতা ৩৬ দশমিক ৫২ শতাংশ, অপঘাত বা আঘাত ৫৮ দশমিক ০১ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। এ ছাড়া বাল্যবিয়ের ঘটনা ২০১৮ সালের তুলনায় গত বছর হ্রাস পেয়েছে ৩০ দশমিক ৭৭ শতাংশ। ২০১৯ সালে মাত্র ২৪টি শিশু হত্যা মামলা এবং ২৭টি শিশু ধর্ষণ মামলার রায়ের সংবাদ পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে।

জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান নাসিমা বেগম বলেন, শিশুদের প্রতি সহিংসতা শুধু কমলেই হবে না, তা যে করেই হোক পুরোপুরি নির্মূল করে শূন্য শতাংশে নিয়ে আসতে হবে। পারিবারিক মূল্যবোধের অবক্ষয়ের কারণে বহু শিশু আজ বিভিন্ন অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে।

ইউএনডিপি বাংলাদেশের হিউম্যান রাইটস প্রোগ্রামের জেন্ডার এক্সপার্ট বিথীকা হাসান বলেন, শিশুর প্রতি সংঘটিত সব নির্যাতন বন্ধের জন্য সরকার থেকে সাধারণ জনগোষ্ঠী, সব ক্ষেত্রে একযোগে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত।

ফোরামের চেয়ারপারসন মাহবুবুল হক বলেন, শিশুদের প্রতি সহিংসতার বিরুদ্ধে কঠোর আইন প্রণয়ন এবং প্রয়োগের সময় এসে গেছে। তিনি একটি শিশু অধিদপ্তর ও শিশু কমিশন গঠনের দাবি জানান।

পাঠকের মন্তব্য: (পাঠকের কোন মন্তব্যের জন্য কর্তৃপক্ষ কোন ক্রমে দায়ী নয়)