ব্রেকিং নিউজ
বাংলা

আপডেট ডিসেম্বর ১৩, ২০১৪

ঢাকা বুধবার, ৯ মাঘ, ১৪২৬ , শীতকাল, ২৫ জমাদিউল-আউয়াল, ১৪৪১

ফিচার শীতে কাঁপছে মানুষ কাঁপছে দেশ

শীতে কাঁপছে মানুষ কাঁপছে দেশ

c60
নিরাপদ নিউজঃ টানা কয়েকদিন ধরে ঘন কুয়াশায় বেকায়দায় পড়েছে দিনমজুররা। শীতের মাত্রা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাড়ছে তাদের কার্মহীনতা। ফলে এসব পরিবারের উপোস থাকার দিন দীর্ঘতর হচ্ছে। উপোসের মিছিলে প্রতিদিনই যোগ হচ্ছে নতুন নতুন পরিবার। যারা শ্রম বিকিয়ে দিনমজুরী করে দিন আনে দিন খায়। কয়েকদিন ধরে প্রচন্ড শীতে জীবন যুদ্ধে বেঁচে থাকার জন্য কাজের সন্ধানে ছুটে বের হলেও কোথাও তাদের কাজ মিলছেনা। আবার প্রচন্ড শীতের কারণে স্থানীয় বৃদ্ধরা ঘর থেকে কাজে বের হতে পারছেন না। মাঘ মাস শুরু হওয়ার পর শীত একটু কমলেও হালকা ও মাঝারি শৈত্য প্রবাহের কারণে এবং আবারও হঠাৎ করে শীতের তীব্রতা বেড়ে যাওয়ায় এ উপজেলার খেটে খাওয়া নিম্ন আয়ের মানুষের জীবনযাত্রা বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। প্রচন্ড শীতের হিমেল হাওয়া ও ঘন কুয়াশায় বিশেষ করে শিশু, বৃদ্ধ শীত বস্ত্রের অভাবে অতি কষ্টে দিন যাপন করছেন। গরম কাপড়ের অভাবে দুঃস্থ ও ছিন্নমুল মানুষ ঘর থেকে বের হতে পারছে না। নিম্ন আয়ের লোকজন ও শ্রমিকরা চরম ভোগান্তিতে আছেন। গরীবদের শীতবস্ত্র দেয়ার দাবি সচেতন মহলের। এদিকে, ভারতে ঘন কুয়াশার অবগুণ্ঠনে ঢেকে গেছে গোটা প্রকৃতি। জেঁকে বসেছে তীব্র শীত। কুয়াশায় ভিজে যাচ্ছে গাছপালা, রাস্তা-ঘাট, মাঠ-প্রান্তর। নিস্তব্ধ রাতের গাছ-গাছালি, ঘরের চালা থেকে টুপটাপ ঝরছে শিশির বিন্দু। রংপুরসহ পুরো উত্তর জনপদের চিত্র যেন এটি। এরই মধ্যে চলছে মানুষের প্রাত্যহিক জীবন। কাজকর্ম তো আর রেখে দেওয়া যায় না। দিনের বেলায়ও গাড়ির হেডলাইট জ্বালিয়ে চলছে মহাসড়কে। রংপুর আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ আতিকুর রহমান বলেন, “সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন তাপমাত্রা কাছাকাছি অবস্থান করার কারণে ঘন কুয়াশা দেখা দিয়েছে। সূর্যের আলো আসতে না পারায় প্রকৃতি উষ্ণ হতে পারছে না। ফলে বেশি ঠাণ্ডা অনুভূত হচ্ছে।” তিনি জানান, রংপুরে গত দুদিন ধরে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ১৮ ডিগ্রি এবং সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১২ থেকে ১৩ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে অবস্থান করছে। শুক্রবার দিনের বেশ খানিকটা বাকি থাকতেই সূর্য হেলে পড়ে দক্ষিণ আকাশে। সে সময় তাপমান যন্ত্রের পারদ নেমে আসে ১২ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। অথচ গত বুধবারও রংপুরের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ২৫ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। সে সময় কুয়াশাও ছিল কম। তাই শীত খুব একটা বেশি অনুভূত হয়নি। আকস্মিক ঘন কুয়াশার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে হিমেল হাওয়া বয়ে চলায় বেকায়দায় পড়েছেন মানুষ। নিম্ন আয়ের ও দরিদ্র মানুষের ভোগান্তি সবচেয়ে বেশি। “মোর এই ৭০ বছরের জেবনে এমন কাহাল ঠাণ্ডা দেকো নাই। মোক একটা কম্বল দেন বাহে। ঠাণ্ডাত মোর ঘুম আইসে না। সারা রাইত কুঁকে কুঁকে থাক। কাঁয়ও মোর খোঁজ-খবরও নেয় না,” এভাবেই শীতে কষ্টের কথা বলেন রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার তিস্তা বাঁধে আশ্রিত বৃদ্ধা বানেশ্বরী। শীতে অ্যাজমা, শ্বাসকষ্টসহ নানা রোগের প্রকোপ বাড়ছে। এসব রোগ নিয়ে হাসপাতালে রোগীর সংখ্যাও বাড়ছে।

পাঠকের মন্তব্য: (পাঠকের কোন মন্তব্যের জন্য কর্তৃপক্ষ কোন ক্রমে দায়ী নয়)