ব্রেকিং নিউজ
বাংলা

আপডেট ১২ মিনিট ৫৮ সেকেন্ড

ঢাকা সোমবার, ৭ মাঘ, ১৪২৬ , শীতকাল, ২৪ জমাদিউল-আউয়াল, ১৪৪১

রাজনীতি, লিড নিউজ সকল মতভেদের অবসান: সিটি নির্বাচনকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েছে বিএনপি

সকল মতভেদের অবসান: সিটি নির্বাচনকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েছে বিএনপি

 সিটি নির্বাচনকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েছে বিএনপি

সিটি নির্বাচনকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েছে বিএনপি

ঢাকা, ২৮ মার্চ ২০১৫, নিরাপদনিউজ: সামনে তিন সিটি করপোরেশনের নির্বাচন। ঢাকা ও চট্টগ্রাম সিটি নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ব্যাপারে অবশেষে বিএনপি ও জোটের অভ্যন্তরে মতভেদের অবসান ঘটেছে। দল, জোট, সমর্থক, শুভাকাঙ্ক্ষী-বুদ্ধিজীবীসহ সবার মতামত নিয়ে এ ব্যাপারে ঐকমত্যে পৌঁছেছে বিএনপি। তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীদেরও অভিন্ন মনোভাব। এমনকি টানা আন্দোলনের মধ্যে সিটি নির্বাচনে যাওয়ার ব্যাপারে লন্ডনে অবস্থানরত দলের দ্বিতীয় শীর্ষ নেতা অবশেষে ইতিবাচক মনোভাব ব্যক্ত করেছেন বলে জানা গেছে।
জোটের অন্যতম শরিক জামায়াতে ইসলামীসহ কয়েকটি শরিক দলও এ ব্যাপারে একমত হয়েছে। প্রথম থেকেই জোরালো ইতিবাচক মত দিয়েছেন দলের শুভাকাঙ্ক্ষী ও সমর্থক বুদ্ধিজীবীরা। দলটিতে এখন চলছে মেয়র এবং কাউন্সিলর পদে শক্তিশালী ও গ্রহণযোগ্য প্রার্থীকে সমর্থন দিয়ে প্রচার-প্রচারণায় নেমে যাওয়ার প্রস্তুতি। আগামী দু-একদিনের মধ্যে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ব্যাপারে আনুষ্ঠানিকভাবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাবে দলটি।
সিটি নির্বাচনে প্রস্তুতির অংশ হিসেবে গতকাল ঢাকা দক্ষিণ সিটিতে মেয়র পদে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ও ঢাকা মহানগর আহ্বায়ক মির্জা আব্বাস ও আন্তর্জাতিকবিষয়ক সম্পাদক ড. আসাদুজ্জামান রিপন মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন। এর আগে দক্ষিণে আরও তিনজন নেতা দলের অর্থনৈতিক সম্পাদক আবদুস সালাম, কারাবন্দি সহসাংগঠনিক সম্পাদক নাসিরউদ্দিন আহম্মেদ পিন্টু, দল সমর্থক শিক্ষক নেতা অধ্যক্ষ সেলিম ভূঁইয়া মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন। অবশ্য ঢাকা উত্তর সিটিতে শুধু দলের চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবদুল আউয়াল মিন্টু মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেন। অন্যদিকে নির্বাচনে অংশ নিতে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র পদ থেকে পদত্যাগ করে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী এম মনজুর আলম মনজু।
গতকাল রাতে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে শত নাগরিক কমিটির সভাপতি অধ্যাপক ড. এমাজউদ্দীন আহমদ সাংবাদিকদের বলেছেন, সিটি করপোরেশন নির্বাচনে চট্টগ্রামের প্রার্থী চূড়ান্ত হলেও ঢাকায় মেয়র প্রার্থী এখনও চূড়ান্ত হয়নি। তবে নির্বাচনে যাওয়ার ব্যাপারে বিএনপির মনোভাব ইতিবাচক।
সূত্র জানায়, বৈঠকে চট্টগ্রামের মতো ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণে ‘নাগরিক কমিটি’র ব্যানারে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ব্যাপারে বিস্তারিত আলোচনা হয়। এ লক্ষ্যে প্রাথমিকভাবে ‘শত নাগরিক জাতীয় কমিটি’র ব্যানারে নির্বাচনে যাওয়ার বিষয়ে আলোচনা হয়। তবে আগামী দু’একদিনের মধ্যে সংগঠনের নামটি চূড়ান্ত করা হবে। বৈঠকে নির্বাচনে প্রার্থী হলেও মামলার আসামিদের ছাড় দেওয়া হবে না বলে পুলিশের বক্তব্যে ক্ষোভ প্রকাশ করেন খালেদা জিয়া।
তিনি মনে করেন, বিএনপি নির্বাচনে অংশগ্রহণের প্রস্তুতিতে সরকার ভীত-সন্ত্রস্ত হয়ে পড়েছে বলেই পুলিশকে দিয়ে এ ধরনের হুমকি দিচ্ছে।নির্বাচনে যাওয়ার ইঙ্গিত দিয়ে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেছেন, সিটি করপোরেশন নির্বাচন দিয়ে সরকার ফাঁদে পড়েছে। গ্রেফতারের ভয় দেখিয়ে বিএনপিকে ভোট থেকে বিরত রাখা যাবে না। গ্রেফতার করে বিএনপি প্রার্থীদের পরাজিত করা যাবে না।
অন্যদিকে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য লে. জেনারেল (অব.) মাহবুবুর রহমান গতকাল বলেছেন, আন্দোলন ও নির্বাচন একসঙ্গে চলবে। সিটি নির্বাচনে ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ তৈরি করতে অবিলম্বে বিএনপি নেতাকর্মীদের গ্রেফতার বন্ধ করে কারাবন্দিদের মুক্তি দিতে হবে।
ঢাকা ও চট্টগ্রাম সিটি নির্বাচনে অংশগ্রহণের প্রশ্নে দল ও জোটের ভেতর দুটি মত তৈরি হয়েছিল। নির্বাচনে অংশগ্রহণের পক্ষের নেতাদের মতে, সিটি নির্বাচনে গেলে বর্তমানে অকার্যকর হয়ে পড়া টানা অবরোধ-হরতাল কর্মসূচি থেকে বেরিয়ে আসার একটি সুযোগ হবে। পাশাপাশি দলের নেতাকর্মীরা প্রকাশ্যে রাস্তায় নেমে আসার সুযোগ পাবেন। এমনকি দল চাঙ্গা হবে। একইসঙ্গে সরকার জনবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে বলে আন্দোলন আরও জোরদার করার ইস্যু তৈরি হবে।
বিপক্ষ নেতাদের মতে, সিটি নির্বাচনে অংশ নিলে বিএনপির মধ্যবর্তী নির্বাচনের দাবিতে চলমান আন্দোলন বিঘি্নত হবে। টানা আড়াই মাসের বেশি অবরোধ ও হরতালের কর্মসূচির মাধ্যমে দেশে অর্জিত ‘সুফল’ নষ্ট হয়ে যাবে। সরকার প্রশাসন ও দলকে ব্যবহার করে বিজয় ছিনিয়ে নেবে। প্রার্থী ও নেতাকর্মীদের গ্রেফতার ও হয়রানি আরও বেড়ে যাবে। একইসঙ্গে সরকার বিএনপি জনসমর্থনহীন বলে প্রচার চালাবে।
এ পরিস্থিতিতে দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া বিভিন্ন মাধ্যমে সম্ভাব্য প্রার্থী, দল ও ২০ দলীয় জোট নেতা এবং শুভাকাঙ্ক্ষী বুদ্ধিজীবীদের মতামত নিয়েছেন। তার সঙ্গে গুলশান কার্যালয়ে অবস্থানকারী স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খানকে টেলিফোনে দল ও জোটের কেন্দ্রীয় ও তৃণমূল নেতাদের মতামত নেওয়ার দায়িত্ব দেন। তফসিল ঘোষণার পর থেকে নজরুল ইসলাম খান নেতাদের কাছ থেকে প্রাপ্ত মতামত খালেদা জিয়াকে অবহিত করেছেন। দলের অপর স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খানকে দলের বিভিন্ন স্তরের গুরুত্বপূর্ণ নেতাদের মতামত নেওয়ার দায়িত্ব দিয়েছেন খালেদা জিয়া। তিনিও গত কয়েকদিন ধরে সাবেক ছাত্রদল নেতাসহ বেশ কিছু নেতার মতামত খালেদা জিয়াকে অবহিত করছেন।
সূত্র জানায়, দল, জোট ও বুদ্ধিজীবীসহ তৃণমূল নেতাকর্মীরা সবাই নির্বাচনে অংশগ্রহণের পক্ষে মত দিয়েছেন। বিভিন্ন মাধ্যমে খালেদা জিয়াকে সবাই ইতিবাচক মত ব্যক্ত করে বলেছেন, আওয়ামী লীগের অধীনে সিটি নির্বাচনে বিএনপির জয় বা পরাজয় যাই হোক_ লাভ হবেই। এ সুযোগ হাতছাড়া করা ঠিক হবে না। এ পরিস্থিতিতে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াও সিটি নির্বাচনে অংশগ্রহণের মাধ্যমে দলের জনপ্রিয়তা প্রমাণ ও দলকে চাঙ্গা করতে চান। ঢাকা ও চট্টগ্রামের মতো গুরুত্বপূর্ণ দুই সিটি করপোরেশনের মেয়র ও কাউন্সিলর পদগুলো হাতছাড়া করতে চায় না বিএনপির হাইকমান্ড।
সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থীদের পরাজিত করতে বিএনপির হেভিওয়েট প্রার্থীদের মাঠে নামাতে চাচ্ছে বিএনপি। তারা বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও অবিভক্ত ঢাকা সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র মির্জা আব্বাস ও উত্তরে চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবদুল আউয়াল মিন্টুকে মনোনয়ন দেওয়ার চিন্তা-ভাবনা করছে। এ লক্ষ্যেই গতকাল মির্জা আব্বাস এবং বুধবার আবদুল আউয়াল মিন্টু মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন। দক্ষিণের মেয়র পদের অন্য কয়েকজন মনোনয়নপত্র কিনলেও আইনগত দিক দিয়ে মির্জা আব্বাসের মনোনয়ন টিকে গেলে অন্যরা প্রার্থিতা প্রত্যাহার করবেন বলে জানিয়েছেন আব্বাস অনুসারীরা।শুক্রবার মহানগর নাট্যমঞ্চে ঢাকা দক্ষিণের রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে মির্জা আব্বাসের পক্ষে মনোনয়নপত্র নেন তার আইনজীবী একেএম শহীদুল্লাহ ও যুবদলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি অ্যাডভোকেট আবদুস সালাম আজাদ।
ঢাকা দক্ষিণে গতকাল বিকেলে বিএনপির আন্তর্জাতিকবিষয়ক সম্পাদক আসাদুজ্জামান রিপনও মনোনয়নপত্র কিনেছেন। তার পক্ষে অ্যাডভোকেট জিল্লার রহমান এ মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেন। জানা গেছে, নির্বাচনে অংশ নিতে আগ্রহী সবাইকে মনোনয়নপত্র তুলতে বলা হয়েছে। আইনগত কারণে একজনের মনোনয়ন বাতিল হলে যাতে অন্যকে প্রার্থী হিসেবে সমর্থন দেওয়া যায় সে সুযোগ রাখতেই এ কৌশল।
সূত্র জানায়, তিন সিটি নির্বাচনে ক্ষমতাসীনদের পরাজিত করতে আটঘাট বেঁধে প্রস্তুতি নিচ্ছেন বিএনপি নেতারা। আন্দোলনের মাঠে না নামলেও আত্মগোপনে থাকা নেতাদের দিয়েই কাউন্সিলর পদগুলোতে একক প্রার্থী বাছাই করা হচ্ছে। মাঠ নেতাদের কয়েকজনকে এ বিষয়ে এলাকা ভাগ করে প্রার্থী বাছাইয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। ঢাকায় মহানগর আহ্বায়ক মির্জা আব্বাস ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণের কাউন্সিলর ও সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলরদের তালিকা তৈরি করতে কাছের কয়েকজন নেতাকে দায়িত্ব দিয়েছেন। প্রতিটি ওয়ার্ডেই মূল কাউন্সিলর ও সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর পদে দল থেকে একক প্রার্থী দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। সে লক্ষ্যেই ভেতরে ভেতরে বাছাই কাজ চূড়ান্ত করা হচ্ছে। গতকাল রাতেই ঢাকার দুই সিটির দুই ধরনের কাউন্সিলর পদপ্রার্থীদের চূড়ান্ত তালিকা তৈরি হওয়ার কথা। চট্টগ্রামেও একইভাবে প্রতিটি ওয়ার্ডে একক প্রার্থী নিশ্চিত করার চেষ্টা চলছে।
ইতিবাচক জামায়াত : প্রথমে নির্বাচনের বিরোধী হলেও জোটমিত্র জামায়াত বিএনপির মনোভাবের কারণে সিদ্ধান্ত পাল্টেছে। তারাও সিটি নির্বাচনে অংশ নেবে। ঢাকার দুই সিটি ও চট্টগ্রামে কাউন্সিলর পথে দলটির নেতারা প্রার্থী হবেন। তাদের জন্য জোটের সমর্থন চাইবে জামায়াত। গতবার চট্টগ্রামে প্রার্থিতা ঘোষণা করা হলেও এবার মেয়র পদে জামায়াত বিএনপিকে নিরঙ্কুশ সমর্থন দেবে। ঢাকা মহানগর জামায়াতের এক নেতা ও উপজেলা চেয়ারম্যান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

পাঠকের মন্তব্য: (পাঠকের কোন মন্তব্যের জন্য কর্তৃপক্ষ কোন ক্রমে দায়ী নয়)