ব্রেকিং নিউজ
বাংলা

আপডেট ২৪ মিনিট ৭ সেকেন্ড

ঢাকা মঙ্গলবার, ৬ ফাল্গুন, ১৪২৬ , বসন্তকাল, ২৩ জমাদিউস-সানি, ১৪৪১

লিড নিউজ, সড়ক সংবাদ সড়ক দুর্ঘটনা বিশ্বব্যাপী সঙ্কটে পরিণত হয়েছে: ইলিয়াস কাঞ্চন

সড়ক দুর্ঘটনা বিশ্বব্যাপী সঙ্কটে পরিণত হয়েছে: ইলিয়াস কাঞ্চন

নিরাপদ নিউজ: নিরাপদ নিউজ: ২০১৯ সালের অক্টোবরে বিশ্ব ব্যাংক এবং জাতিসংঘ তরুণদের নিয়ে রোড সেফটি ভিডিও কম্পেটিশনের আয়োজন করে তার সফল সমাপ্তি হলো ২০২০ সালের জানুয়ারিতে। প্রসঙ্গত এই কম্পিটিশনের শুরুতে সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সে সময় তরুনদের ‘রোড সেফটি চ্যম্পিয়ন’ ভিডিও প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে তরুণদের আহ্বান করেছিলেন চিত্রনায়ক ইলিয়াস কাঞ্চন।

সে সময় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এক ভিডিও বার্তায় ইলিয়াস কাঞ্চন আহবান জানিয়ে বলেন, নিরাপদ সড়ক আমাদের সবার, স্বাভাবিকভাবে বেঁচে থাকার জন্য নিরাপদ সড়ক খুবই জররী। সড়ককে নিরাপদ করে বাংলাদেশ খুব দ্রুত অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জন করতে পারবে। নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করতে আমাদের সবাইকে এক যোগে কাজ করতে হবে। যখনই আমি এ নিয়ে কথা বলি তখনি তাকিয়ে থাকি আপনাদের দিকে। বিশেষ করে যারা তরুণ তাদের দিকে। কারণ তোমাদের সচেতন পদক্ষেপই নিশ্চিত করতে পারে নিরাপদ সড়ক। দেশের ভবিষ্যৎ হিসেবে তোমরাই দিতে পারো সৃজনশীল সমাজ। আমি দীর্ঘদিন ধরে নিরাপদ সড়ক চাই আন্দোলন নিয়ে কাজ করে যাচ্ছি। তাই আমি উৎসাহিত হয়েছি যখন দেখলাম বিশ্ব ব্যাংক এবং জাতিসংঘ তোমাদের জন্য রোড সেফটি ভিডিও কম্পেটিশন এর আয়োজন করেছে। তারা জানতে চায় তোমরা কিভাবে ঢাকার রাস্তাকে নিরাপদ করবে। ঢাকার সড়ককে আরো নিরাপদ করার জন্য তোমার মাথায় যদি কোনো আইডিয়া থেকে থাকে তবে সেই ইউনিক আইডিয়াটি ভিডিওর মাধ্যমে জানাতে পারো। তুমি যদি বাংলাদেশে বসবাসকারী হও এবং তোমার বয়স যদি ১৮ – ২৩ এর মাঝে হয়, তাহলে তোমার ইউনিক আইডিয়াটি জানিয়ে এই কম্পেটিশনে অংশগ্রহণ করতে পারো। বিশ্ব ব্যাংক এবং জাতিসংঘ তরুণদের নিয়ে রোড সেফটি ভিডিও কম্পেটিশন এর আয়োজন করে। তখনই আমি ভীষন উৎসাহিত হয়েছি। আমি তাদের সাথে সহমত প্রকাশ করেছি এবং আমার যথেষ্ট ব্যস্ততার মাঝেও শুধু মাত্র তরুণদের উৎসাহীত করার জন্য ও নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করার প্রচেস্টায় অংশগ্রহণ করতে বিনা পারিশ্রমিকে এই কাজে সহযোগিতা করেছি।


ইলিয়াস কাঞ্চন ‘রোড সেফটি চ্যম্পিয়ন’ ভিডিও প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে তরুণদের আহ্বান জানান। এরই ধারাবাহিকতায় আজ ২৮ জানুয়ারি ২০২০ মঙ্গলবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বিশ্বব্যাংকের ঢাকা অফিসে সড়ক নিরাপত্তা বিষয়ে সৃজনশীল ভিডিওচিত্র উদ্ভাবনের জন্য পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন সড়ক ও জনপথ বিভাগের সচিব মো: নজরুল ইসলাম। আরও উপস্থিত ছিলেন বিশ্বব্যাংকের দক্ষিণ এশিয় ভাইস প্রেসিডেন্ট হার্টি উইং স্কেফার, বিশ্বব্যাংকের কান্ট্রি ডিরেক্টর মার্সি টেম্পন, জাতিসংঘের বাংলাদেশ আবসিক সমন্বয়কারী মিয়া সেপ্পো ও নিরাপদ সড়ক চাই আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান চিত্রনায়ক ইলিয়াস কাঞ্চন।


এই আয়োজনে ৫টি উদ্ভাবনী টিমকে পুরস্কৃত করা হয়। বিশ্বব্যাংক ও জাতিসংঘের যৌথ উদ্যোগে এ পুরস্কার দেয়া হয়। পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি সড়ক ও জনপথ বিভাগের সচিব মো: নজরুল ইসলাম বলেন, সড়ক দুর্ঘটনা নিরূপণে সৃজনশীল আইডিয়াগুলো কাজে লাগিয়ে দুঘর্টনা কমানো সম্ভব। বিশ্বব্যাংক ও জাতিসংঘের এ উদ্যোগ তরুণদের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টিতে ভূমিকা রাখবে। বিশ্বব্যাংকের দক্ষিণ এশিয়ার ভাইস প্রেসিডেন্ট হার্টি উইং স্কেফার বলেন, সড়ক নিরাপত্তার সঙ্গে ব্যক্তিগত নিরাপত্তার পাশাপাশি দেশের অর্থনীতি ও উন্নয়নের সম্পর্ক রয়েছে। সড়কে নিরাপত্তা নিশ্চিত করে বাংলাদেশ অন্যান্য দেশের মতোই দারিদ্র্য আরও কমিয়ে আনতে পারে। বিশ্বব্যাংকের কান্ট্রি ডিরেক্টর মার্সি টেম্পন বলেন, বাংলাদেশে ৫ থেকে ১৪ বছর বয়সী শিশু কিশোরদের মৃত্যুর অন্যতম বড় কারণ হয়ে দাড়িয়েছে সড়ক দুর্ঘটনা। এ কারণে সড়ক নিরাত্তার বিষয়টি বর্তমানে উন্নয়নে বড় আল্যেচ্য বিষয়ে পরিণত হয়েছে।


নিরাপদ সড়ক চাই চেয়ারম্যান ইলিয়াস কাঞ্চন তাঁর বক্তব্যে বলেন, সড়ক দুর্ঘটনা বিশ্বব্যাপী সঙ্কটে পরিণত হয়েছে। এটি ১৫-২৯ বছর বয়সী তরুণদের মধ্যে মৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ। একটি সড়ক দুর্ঘটনায় আমার স্ত্রীর দুঃখজনক মৃত্যুর পরে আমি ১৯৯৩ সালে ২৭ বছর আগে বাংলাদেশে এই সামাজিক আন্দোলন শুরু করেছি। তারপরে বাংলাদেশের লোকেরা মনে করত যে সড়ক দুর্ঘটনাগুলি সৃষ্টিকর্তার কাজ বা কেবল ভাগ্য। কিন্তু আমি দীর্ঘ এই সময়ে মানুষকে বোঝাতে সক্ষম হয়েছি এটা মানবসৃষ্ট অবহেলাজণিত একটি কাজ। যা নিরাময় সম্ভব। বলাবাহূল্য দিনে দিনে আমাদের জনসংখ্যা প্রায় দ্বিগুণ হয়ে গেছে এবং যানবাহনের সংখ্যা বহুগুণ বেড়েছে ফলে আমাদের সড়কগুলিকে সড়ক দুর্ঘটনার জন্য আরও ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলছে। ফলশ্রুতিতে এই দুর্ঘটনার লাঘাম টেনে ধরতে আমি সকলের মাঝে সচেতনতাবৃদ্ধিসহ প্রশিক্ষণমূলক নানা কাজ করে যাচ্ছি।

এই কথা বলতে পারি আমাদের আন্দোলনের মাধ্যমে আমাদের বৃহত্তম অর্জনগুলির মধ্যে একটি হল আমরা জনগণের ধারণাটি পরিবর্তন করতে সক্ষম হয়েছি যে সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধযোগ্য এবং সড়ক নিরাপত্তা ব্যবস্থা বাস্তবে জীবন রক্ষা করতে পারে। ২০১০ সালে জাতিসংঘের দশকের পদক্ষেপের ঘোষণাটি আমাদের কারণকে আরও তীব্র করে তুলেছিল, কারণ সরকারী সংস্থাগুলি ইস্যুটিকে আরও বেশি গুরুত্ব দেওয়া শুরু করে এবং সাধারণ জনগণ এবং অন্যান্য অংশীদারদের অংশগ্রহণ আরও বৃদ্ধি পায়। ২০৩০ সালের মধ্যে আমাদের দেশের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য অর্জনের জন্য সড়ক নিরাপত্তাও এখন একটি গুরুত্বপূর্ণ এজেন্ডা। সড়কের নিরাপত্তা বিধান এবং উন্নয়নের মাধ্যমে বাংলাদেশের দ্রুত অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি হতে পারে।
সরকার রাস্তা ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ত্রুটিগুলি উন্নত করা, অ্যাকশন প্ল্যান তৈরি করা, ব্ল্যাক স্পট বা দুর্ঘটনাজনিত অঞ্চল চিহ্নিতকরণ ও নিরসন, দুটি লেনের রাস্তাগুলিকে চার লেনে রূপান্তর করা এবং মহাসড়কে ডিভাইডার স্থাপনের মতো অনেক উদ্যোগ নিয়েছিল। সরকার ২২ অক্টোবরকে জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস হিসাবে ঘোষণা করেছে, যেদিন আমার স্ত্রী মারা গিয়েছিলেন এবং আমি এই আন্দোলন শুরু করেছি। যদিও পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল তবে সবচেয়ে বড় সমস্যা এখনও সমাধান করা যায় নি – যেমন রাস্তা ব্যবহারকারী, প্রশিক্ষণবিহীন যানবাহন চালক এবং অযোগ্য যানবাহন কর্তৃক রাস্তা নিয়ম না মানার প্রবণতা। অনভিজ্ঞ ড্রাইভার এবং এমনকি ভুয়া ড্রাইভিং লাইসেন্সসহ চালকরা পেশাগতভাবে যানবাহন চালাতে ব্যবহৃত হচ্ছে। বিদ্যমান ড্রাইভারের দক্ষতা বাড়াতে, নতুন চালক তৈরির জন্য প্রতিষ্ঠানের অভাব রয়েছে। আমরা আমাদের সংস্থার মাধ্যমে স্কুল, কলেজ এবং বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে চালকদের প্রশিক্ষণ দিয়ে আসছি, কর্মশালা আয়োজন করছি তবে পরিস্থিতিটি অপ্রতুল।

আমি মনে করি সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আমাদের সকলকে জড়িত হওয়া দরকার। বিশেষত আমাদের যুবসমাজের যাদের এত সম্ভাবনা রয়েছে। আপনার সচেতনতা এবং ক্রিয়াগুলি আমাদের রাস্তাগুলিকে নিরাপদ করে তুলতে পারে। দেশের ভবিষ্যত হিসাবে, আপনি সড়ককে নিরাপদ করার সৃজনশীল সমাধান আনতে পারেন। আমি ‘রোড সেফটি চ্যাম্পিয়ন ভিডিও প্রতিযোগিতা’ আয়োজন করার জন্য এবং আমাদের যুবকদের আরও জড়িত হতে এবং সড়ক নিরাপত্তায় নিযুক্ত হওয়ার জন্য এই প্ল্যাটফর্মটি তৈরি করার জন্য বিশ্বব্যাংক এবং জাতিসংঘকে ধন্যবাদ জানাতে চাই। আমি নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ায় রাস্তাঘাট নিরাপদ করার জন্য এবং আমাদের যুবকদের অব্যাহত সহায়তার জন্য বিশ্বব্যাংক ও জাতিসংঘের কাছে আরও প্রত্যাশা করছি।

পাঠকের মন্তব্য: (পাঠকের কোন মন্তব্যের জন্য কর্তৃপক্ষ কোন ক্রমে দায়ী নয়)