ব্রেকিং নিউজ
বাংলা

আপডেট ৩ মিনিট ৫০ সেকেন্ড

ঢাকা সোমবার, ১৪ মাঘ, ১৪২৬ , শীতকাল, ১ জমাদিউস-সানি, ১৪৪১

সম্পাদকীয় সতর্কবার্তা সত্বেও কর্তৃপক্ষের গাফিলতি কেন?

সতর্কবার্তা সত্বেও কর্তৃপক্ষের গাফিলতি কেন?

নিরাপদ নিউজ: গত মে মাসে কুমিল্লার দেবিদ্বারে রাতে কৃষি ব্যাংকের জানালার গ্রিল কেটে ব্যাংকে প্রবেশ করে ভল্ট ভেঙে প্রায় পাঁচ লাখ টাকা লুট করে নিরাপদে চলে যায় দুর্বৃত্তরা। ঘটনাটি ঘটে দেবিদ্বার উপজেলার ধামতী ইউনিয়নের ধামতী আলিয়া কামিল মাদ্রাসা কৃষি ব্যাংক শাখায়। এখন পর্যন্ত ওই ঘটনায় কোনও আসামি আটক বা চুরি হওয়া টাকা উদ্ধার হয়নি। এর ছয় মাস পর চলতি মাসের গত সপ্তাহে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে উপজেলার ২ নম্বর উজিরপুর ইউনিয়নের মিয়াবাজারে কৃষি ব্যাংকের শাখায় ভল্ট ভেঙে ১১ লাখ টাকা চুরি হয়েছে।

মিয়াবাজারের সালমান হায়দার মার্কেটের তৃতীয় তলায় অবস্থিত বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের মিয়াবাজার শাখায় মঙ্গলবার গভীর রাতে জানালা কেটে প্রবেশ করে দুর্বৃত্তরা। পরে ভল্টের তালা ভেঙে ১১ লাখ ১৫ হাজার টাকা চুরি করে নিয়ে যায়। এই ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ ব্যাংকের দুই গার্ড ও এক পিয়নকে আটক করে। তবে পিয়নকে পরে ছেড়ে দেওয়া হয়।

পুলিশ বলছে, সতর্ক করে দেওয়ার পরও ব্যাংকে সিসিটিভি ক্যামেরা লাগানো হয়নি এবং এর নিরাপত্তা ব্যবস্থাও দুর্বল ছিল। আর ব্যাংকের ম্যানেজার জানান, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বারবার বলার পরও এই ব্যাংকে সিসিটিভি ক্যামেরা লাগানো বা নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারের কোনও পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। প্রশ্ন হচ্ছে, ব্যংকের মতো জনগুরুত্বপূর্ণ একটি প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা ব্যবস্থা এত দুর্বল কেন এবং দুর্বলতার কথা জেনেও তা সমাধানের ক্ষেত্রে কর্তৃপক্ষের গাফিলতি কেন?

ব্যাংক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে ঐ শাখায় সিসি ক্যামরার ব্যবস্থা ছিল না। প্রয়োজনীয়তা অনুভব করে শাখাটি সিসি ক্যামরার আওতায় আনার জন্য আগে ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে একাধিকবার লিখিত দেয়া হয়েছিল। নিরাপত্তার স্বার্থে জেলা পুলিশ সুপারের দেওয়া কাগজ সংযুক্ত করেও সিসি ক্যামেরার জন্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বরাবর দরখাস্থ দেয়া হয়েছিল। কিন্তু তারপরও সিসি ক্যামেরার ব্যবস্থা করা হয়নি। এ বিষয়ে কৃষিব্যাংক কুমিল্লা অঞ্চলের জিএম বলেছেন সিসি ক্যামেরার জন্য ওই ব্যাংকের শাখা ব্যবস্থাপক একাধিকবার লিখেছেন বলে তিনি ‘শুনেছেন’। তবে এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

চুরির ঘটনা জানার পর কুমিল্লার পুলিশ সুপার সৈয়দ নূরুল ইসলাম জানান, তিনি কুমিল্লার সব ব্যাংকের কর্মকর্তাদের নিয়ে বৈঠক করে ব্যাংকে সিসি ক্যামেরা স্থাপনসহ নিজস্ব নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করার আহ্বান জানিয়েছিলেন। কিন্তু কৃষি ব্যাংকের ওই ব্যাংকটিতে কোনও সিসি ক্যামেরা ছিল না, নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল দুর্বল।

এই দুর্বলতার কথা জেনেই দুর্বৃত্তরা হানা দিয়েছিল বলে প্রাথমিকভাবে আমরা মনে করি। এ ব্যাপারে যথাযথ তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের খুঁজে বের করা হোক। পাশাপাশি ব্যাংকের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় ঘাটতি ও উদাসীনতার জন্য দায়ীদেরও চিহ্নিত করে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।

পাঠকের মন্তব্য: (পাঠকের কোন মন্তব্যের জন্য কর্তৃপক্ষ কোন ক্রমে দায়ী নয়)