ব্রেকিং নিউজ
বাংলা

আপডেট নভেম্বর ২০, ২০১৯

ঢাকা শনিবার, ২৯ অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ , হেমন্তকাল, ১৬ রবিউস-সানি, ১৪৪১

বহির্বিশ্ব, লিড নিউজ সন্ধান মিলছে না সৌদি রাজকন্যা বাসমাহ বিনতে সৌদর

সন্ধান মিলছে না সৌদি রাজকন্যা বাসমাহ বিনতে সৌদর

নিরাপদ নিউজ : সৌদি রাজকন্যা বাসমাহ বিনতে সৌদ। প্রায় আট মাস ধরে তার কোনো সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে না। ঘনিষ্ঠজনদের দাবি, চিকিৎসার জন্য বিদেশ যাওয়ার সময় তাকে আটক করা হয়েছে। এরপর তাকে গৃহবন্দি করে রাখা হয়েছে।

দীর্ঘদিন ধরে সৌদি আরবের সাংবিধানিক সংস্কার এবং মানবাধিকার নিয়ে কথা বলে আসছেন বাসমাহ। তার মতো দেশটির রাজতন্ত্রের সমালোচকরা ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমানের ক্রোধের শিকার হচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। রাজপরিবারের অনেককেই এজন্য হত্যা, গুম, কারাবন্দি ও হুমকির শিকার হতে হয়েছে।

ধারণা করা হচ্ছে, কোনো রকমের আইনি প্রক্রিয়া ছাড়াই তাকে রিয়াদে গৃহবন্দি করে রাখা হয়েছে। বাসমাহর ঘনিষ্ঠ একজনের বরাতে জানা গেছে, বাসমাহ চাইলেও তার বক্তব্য প্রকাশ করতে পারছেন না।কেননা তার সমস্ত যোগাযোগের ওপর নজর রাখা হয়েছে। নিরাপত্তার স্বার্থে ওই ব্যক্তি নাম প্রকাশ করতে চাননি।

একটি সূত্র জানিয়েছে, কন্যাকে নিয়ে বিদেশ পালিয়ে যেতে পারেন এমন সন্দেহে চলতি বছরের মার্চে বাসমাহকে বন্দি করা হয়। চিকিৎসার জন্য তার সুইজারল্যান্ডে যাওয়ার কথা ছিল। সুইস ডাক্তারের অনুরোধের প্রেক্ষিতে ১৮ ডিসেম্বর বাসমাহ কন্যাসহ জেদ্দা ত্যাগের ছাড়পত্র পান। কিন্তু ভ্রমণের দিনই দেশ ত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয় এবং উড়োজাহাজ থেকে নামিয়ে আনা হয় বলে জানান তার যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক আইনজীবী লিওনার্ড বেনেট।

বেনেটে বলেন, দুই মাস পর থেকে তার আর কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না৷ কেউ জানে না তিনি কোথায় আছেন৷ আমরা প্রকৃতপক্ষে খারাপ কিছুর আশঙ্কা করছি৷

তিনি জানান, কয়েক দফা ফোন কল করার পর তার সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব হলেও তিনি তেমন কিছু বলেননি। বাসমাহর কথা শুনে মনে হয়েছে তিনি বন্দি অবস্থায় রয়েছেন। বাসমাহর গন্তব্য সুইজারল্যান্ডের জেনেভা হলেও, যাওয়ার কথা ছিল তুরস্ক হয়ে। আঙ্কারার সঙ্গে শত্রুতামূলক সম্পর্ক থাকায় রিয়াদ বিষয়টিকে দেখেছে সন্দেহের চোখে।

বাসমাহর ঘনিষ্ঠ সূত্রটি জানিয়েছে, পালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ সত্য কিনা  সেই তদন্ত শেষ করেছে কর্তৃপক্ষ। তারপরও এখন পর্যন্ত কোনো জবাব পাওয়া যায়নি। বাসমাহর বিরুদ্ধে দেয়া তথ্য মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছে, কিন্তু কেন এখনো তাকে আটকে রাখা হয়েছে সেটি তাদের জানা নেই।

তিনি জানান, কে তাকে গ্রেপ্তারের নির্দেশ দিয়েছে তা পরিষ্কার নয়।

এই রাজকন্যার নিখোঁজের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বাসমাহর এক বন্ধু এবং ব্যবসায়িক সহকর্মী। নাম প্রকাশ না করার শর্তে তিনি বলেন, শাসক পরিবার ঠিকই জানে বাসমাহ কোথায় আছেন।

বাসমাহ ৫ সন্তানের জননী। তিনি ২০০৬ সাল থেকে সৌদি গণমাধ্যমে নিয়মিত লেখালেখি করেন। কিন্তু তার ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ড ও জনগণের হয়ে কথা বলার বিষয়টি ভালোভাবে নেয়নি দেশটির শাসকরা।

বিবাহ বিচ্ছেদের পর ২০১০-২০১১ এর দিকে তিনি লন্ডনে পাড়ি জমান। পরিচিতি পান গণমাধ্যমে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ফোরামে আরব অঞ্চলের দুর্নীতি, মানবাধিকার এবং সম্পদের বৈষম্য নিয়ে কথা বলে ব্যাপক আলোচনায় আসেন বাসমাহ। সৌদি আরবে ধর্মীয় পুলিশের ক্ষমতা হ্রাস, নারীদের অধিকারসহ বিভিন্ন সাংবিধানিক সংস্কারের দাবিও জানান তিনি। প্রশাসনের সমালোচনা করলেও রাজ পরিবারের বিরুদ্ধে অবশ্য কখনো সরাসরি কোনো কথা তাকে বলতে শোনা যায়নি।

বাসমাহ ২০১৫ সালের দিকে সৌদি আরবে ফিরে আসেন। লন্ডনের বেশ কিছু ব্যবসা তিনি গুটিয়ে ফেলেন। ২০১৮ সালের জানুয়ারিতে বিবিসি অ্যারাবিককে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে ইয়েমেন যুদ্ধের ইতি টানতে সৌদি আরবের প্রতি আহবান জানান তিনি। এরপর থেকে তাকে আর গণমাধ্যমে দেখা যায়নি।

প্রসঙ্গত, সাবেক সৌদি বাদশাহর উত্তরসূরি ১১৫ সন্তানের একজন বাসমাহ। এই পরিবারের একটি অংশকে বর্তমান বাদশাহ সালমান ও তার পুত্রের সম্ভাব্য প্রতিদ্বন্দ্বী বলে মনে করা হতো।

পাঠকের মন্তব্য: (পাঠকের কোন মন্তব্যের জন্য কর্তৃপক্ষ কোন ক্রমে দায়ী নয়)