ব্রেকিং নিউজ
বাংলা

আপডেট ফেব্রুয়ারী ৪, ২০২০

ঢাকা রবিবার, ১১ ফাল্গুন, ১৪২৬ , বসন্তকাল, ২৮ জমাদিউস-সানি, ১৪৪১

চট্টগ্রাম, নারী ও শিশু সংবাদ ‘সরৌশী ফিরে আসবেই মায়ের স্নেহের আঁচলে, বাবার কোলে!’

‘সরৌশী ফিরে আসবেই মায়ের স্নেহের আঁচলে, বাবার কোলে!’

শফিক আহমেদ সাজীব,নিরাপদ নিউজ: ‘সরৌশী’ একটি স্প্যানিশ শব্দ। এর অর্থ হচ্ছে ‘ভাগ্যবতী’। টেলিভিশন চ্যানেল নিউজ টোয়েন্টিফোরের রিপোর্টার ও উপস্থাপক শেখ গোলামুন্নবী জায়েদ ও মা চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গীত বিভাগের শিক্ষক ওরিন নাশিদ ঋদি। তারা বাস করেন চট্টগ্রামে। শেখ হাসিনা জাতীয় ন্যাশনাল বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের আইসিইউতে গত ২৬ জানুয়ারি থেকে লড়ছে সরৌশী । তার মা বাবাও তার জন্য আপ্রাণ লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন। চিকিৎসকগণ লড়ছেন নিজেদের মতো। আর লড়ছে দেশের মানুষ, যে যখন যেভাবে তার এ সংবাদ শুনেছে। সকলের চাওয়া একটাই; ফিরে আসতে হবে তাকে, ফিরে আসতে হবে মায়ের স্নেহের আঁচলে, বাবার কোলে। প্রত্যেকের চাওয়াও তা-ই।

একটা দুর্ঘটনা। তার নির্মম শিকার হলো ২ বছর ৪ মাস বয়সী মেয়েটি। ২৪ জানুয়ারি শুক্রবার বিকেলের দিকে বাসার রান্নাঘরে রাখা গরম পানিতে ঝলসে যায় সরৌশী। রোববার রাতে তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখান থেকে ২৬ জানুয়ারি শেখ হাসিনা জাতীয় ন্যাশনাল বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে সে নিবিড় পর্যবেক্ষক কেন্দ্র (আইসিইউতে) ভর্তি আছে। চিকিৎসকগণ তার বাবাকে বলেছেন , সরৌশীর ৩৩ শতাংশ পুড়ে গেছে। ডিপ বার্ন বেশি, জ্বর ও ডায়রিয়া থামছে না। আইসিইউতেই অক্সিজেন চলছে। ইনফেকশনের ভয় আছে। চিকিৎসকরা আরও বলেছেন, আল্লাহকে ডাকো। বাকিটা আমরা দেখছি।

শেখ গোলামুন্নবী জায়েদ জানান, ‘আমার মেয়েটা মাত্র কথা বলা শিখছে। ভাঙা ভাঙা শব্দে অনেক কথা বলে। এক, দুই, তিন বলে, তারপর আমাকে বলতে হয় ‘আমার সোনার বাংলা আমি তোমায় ভালোবাসি।’ বাংলাদেশকে বলে বান্দাদেশ। ঘটনার পর থেকে শুধু আমাদের মুখের দিকে ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে থাকে। কান্নাকাটি করে। ও তো কখনো রান্নাঘরে যেত না। চোখের পলকে সেদিন সেখানেই গেল। কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে ঘটে গেছে ঘটনাটা। ওর মা একটা ফোন রিসিভ করে, এই ফাঁকেই সে চলে যায় রান্নাঘরে। অথচ বাসায় সারাক্ষণই ওকে চোখে চোখে রাখে ওর মা, না হয় বাসার কাজের সাহায্যকারী মেয়েটা।

সরৌশীর বাবা জায়েদ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লিখেছেন, ‘মেয়েকে দেখে আমরা আর সহ্য করতে পারছি না। এটা মানা যায় না। মানতে পারছি না। সবকিছু সৃষ্টিকর্তার হাতে ছেড়ে দিয়েছি।’ এ স্ট্যাটাস পড়ে শত শত মানুষ সরৌশীর জন্য শুভকামনা জানিয়েছেন। সরৌশির বাবার থেকেই জানা, জন্মটাই হয়েছে তার লড়াই করে। কিংবা বলা যায়, জন্ম থেকেই সে লড়াকু। এর আগেও লড়ে জিতেছে সে। এবারের লড়াইটা তার জন্য বেশ কঠিন ও কষ্টের। সরৌশির বাবার কিন্তু মেয়ের প্রতি দারুণ নির্ভরতা। তার বাবা বলেন, মেয়েটা পৃথিবীতে আসার আগে থেকেই লড়াই করছে। জন্মের আগে আল্ট্রাসনোগ্রাফিতে দেখা গিয়েছিল ওর গলায় নাড়ি পেঁচানো।

নির্ধারিত সময়ের ১২ দিন আগে অপারেশন করতে হয় ওর মায়ের। এরপর অসুস্থ হয়েছে কতবার! তবে এবারের লড়াইটা অনেক কঠিন আমি বুঝতে পারছি। তারপরও আমার মেয়েটা ফিরবে, লড়াই করেই ফিরবে, এটা আমার বিশ্বাস। এত ছোট বয়সে কীভাবে এত প্রগাঢ় আস্থার জায়গা তৈরি করলো শিশুটি, ভাবলে অবাক হতে হয়।

তার প্রতি কতোটা নির্ভরতা থাকলে সরৌশির বাবা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লিখেন, ‘আমি বিশ্বাস করি আমার সরৌশী সম্পূর্ণ সুস্থ হবে। বড় হয়ে মানবিক বোধসম্পন্ন মানুষ হবে। আমি নিম্ন মধ্যবিত্ত। স্বল্প আয় দিয়েই টেনেটুনে হলেও হাসিমুখে বাঁচার চেষ্টা করি। আমার দেশ ও মানুষকে ভালোবাসি।’ ভাগ্য নিশ্চয় সহায় হবে সরৌশীর। এত এত মানুষের শুভকামনা, ভালবাসায় সরৌশী ফিরে আসবেই।

পাঠকের মন্তব্য: (পাঠকের কোন মন্তব্যের জন্য কর্তৃপক্ষ কোন ক্রমে দায়ী নয়)