আপডেট জানুয়ারী ২০, ২০২০

ঢাকা বুধবার, ৭ ফাল্গুন, ১৪২৬ , বসন্তকাল, ২৩ জমাদিউস-সানি, ১৪৪১

আইন-আদালত, লিড নিউজ সিপিবির সমাবেশে বোমা হামলা: ১০ জঙ্গির মৃত্যুদণ্ড,দুইজনকে খালাসের আদেশ

সিপিবির সমাবেশে বোমা হামলা: ১০ জঙ্গির মৃত্যুদণ্ড,দুইজনকে খালাসের আদেশ

নিরাপদ নিউজ: রাজধানীর পল্টনে ১৯ বছর আগে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সমাবেশে বোমা হামলায় ৫জন নিহত হওয়ার ঘটনায় দায়ের করা হত্যা মামলায় ১০ জঙ্গির মৃত্যুদণ্ড ও দুইজনকে খালাসের আদেশ দিয়েছেন আদালত।

সোমবার ঢাকার অতিরিক্ত তৃতীয় মহানগর দায়রা জজ রবিউল আলম এ রায় ঘোষণা করেন।

এর আগে গত ১ ডিসেম্বর ঢাকার অতিরিক্ত তৃতীয় মহানগর দায়রা জজ রবিউল আলম আসামি ও রাষ্ট্রপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে রায় ঘোষণার জন্য ২০ জানুয়ারি দিন ধার্য করেন। এ মামলায় ৪৬ জন বিভিন্ন সময় সাক্ষ্য দিয়েছেন।

মামলার আসামি হলেন, হরকাতুল জিহাদ (হুজি) নেতা মুফতি আব্দুল হান্নান, মুফতি মঈন উদ্দিন শেখ, আরিফ হাসান সুমন, সাব্বির আহমেদ, শওকত ওসমান ওরফে শেখ ফরিদ, মো. মশিউর রহমান, জাহাঙ্গীর আলম বদর, মহিবুল মুত্তাকিন, আমিনুল মুরসালিন, মুফতি আব্দুল হাই, মুফতি শফিকুর রহমান, রফিকুল ইসলাম মিরাজ ও নুর ইসলাম।

আসামিদের মধ্যে মুফতি মঈন উদ্দিন, আরিফ হাসান সুমন, সাব্বির আহমেদ, শওকত ওসমান ওরফে শেখ ফরিদ গ্রেফতার হয়ে কারাগারে রয়েছেন। আটজন পলাতক। মুফতি হান্নানের ফাঁসি কার্যকর হওয়ায় এই মামলার অভিযোগ থেকে তাকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

২০০১ সালের ২০ জানুয়ারি পল্টনে সিপিবি সমাবেশে বোমা হামলার ঘটনায় নিহত হন পাঁচ জন। আহত হয়েছিলেন অন্তত ২০ জন। ঐ হামলায় ঘটনাস্থলেই নিহত হন সিপিবি নেতা হিমাংশু মণ্ডল, আবদুল মজিদ, আবুল হাশেম ও মুক্তার হোসেন। আহত হওয়ার ১৩ দিন পর চিকিত্সাধীন অবস্থায় মারা যান ছাত্র ইউনিয়ন নেতা বিপ্রদাস। এ ঘটনায় সিপিবির তত্কালীন সভাপতি মনজুরুল আহসান খান বাদি হয়ে মামলা করেন। বিএনপি সরকারের আমলে ২০০৩ সালের ডিসেম্বর মাসে আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সৈয়দ মোমিন হোসেন।

এতে বলা হয়, তদন্তে আসামিদের বিরুদ্ধে নির্ভরযোগ্য তথ্য-প্রমাণ পাওয়া যায়নি। এ কারণে অব্যাহতি দেওয়া হলো। সাত জন তদন্ত কর্মকর্তার হাত ঘুরে ২০১৩ সালের ২৭ নভেম্বর পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) পরিদর্শক মৃণাল কান্তি সাহা ১৩ আসামির বিরুদ্ধে হত্যা ও বিস্ফোরক আইনে দুটি অভিযোগপত্র দেন। ২০১৪ সালের ৪ সেপ্টেম্বর অভিযোগ গঠনের পর শুরু হয় সাক্ষ্যগ্রহণ। আদালত রাষ্ট্রপক্ষের ১০৬ জন সাক্ষীর মধ্যে ৩৮ জনের সাক্ষ্য নেয়। সাক্ষ্যগ্রহণ ও যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে ২ ডিসেম্বর আদালত রায়ের জন্য ঐ দিন ধার্য করে দেয়।

পাঠকের মন্তব্য: (পাঠকের কোন মন্তব্যের জন্য কর্তৃপক্ষ কোন ক্রমে দায়ী নয়)