আপডেট ৮ মিনিট ১৫ সেকেন্ড

ঢাকা শুক্রবার, ২৮ অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ , হেমন্তকাল, ১৪ রবিউস-সানি, ১৪৪১

ভ্রমন সিলেট আমাকে শান্তি দেয়। এবং বারে-বারে হাত ছানি দেয়

সিলেট আমাকে শান্তি দেয়। এবং বারে-বারে হাত ছানি দেয়

হযরত শাহজালাল (রাঃ) এর মাজার শরীফ

হযরত শাহজালাল (রাঃ) এর মাজার শরীফ

                                                                সিলেট থেকে ফিরে নাসিম রুমি
নিরাপদ নিউজ : সিলেট আমাকে শান্তি দেয়। সিলেট আমাকে টেনশন মুক্ত রাখে। সিলেট আমাকে যন্ত্রনামুক্ত রাখে। কেন আমার জন্ম সিলেটে হলো না? এবং সিলেট আমাকে বারে-বারে হাত ছানি দেয়। সিলেট অবস্থান করে হযরত শাহ জালাল (রা:) ও হযরত শাহ পরান (রা:)-এর মাজার জিয়ারত করার পর আমার মন, সত্যিই পবিত্র হয় হয়ে যায়। সময় শরীর সজিব হয়ে যায়। তাইতে হযরত শাহাজলাল (রা:) ও হযরত শাহ পরান (রা:) মাজারে অসংখ্য বার এসেছি।

সিলেটের অপূর্ব সুন্দর নয়নভিরাম জাফলং এ সাংবাদিক, লেখক ও পর্যটক নাসিম রুমি

সিলেটের অপূর্ব সুন্দর নয়নভিরাম জাফলং এ সাংবাদিক, লেখক ও পর্যটক নাসিম রুমি

পাশাপাশি সিলেট এবং তার আশে পাশের পর্যটন স্থানগুলি ভ্রমন করেছি। তবে গত ১৯,২০,২১ মার্চ শ্রীমঙ্গলে সফর করে ২২-২৩ ও ২৪ মার্চ সিলেট ভ্রমন করি। সিলেটে আমি হযরত শাহজালাল (রা:) দরগার অতি নিকটে সাফা মারওয়া হোটেলে অবস্থান করেছিলাম। সত্যিই হোটেল পরিচ্ছন্ন। হরতাল ও অবরোধের কারনে দরগার প্রায় সব হোটেল ফাঁকা। তাই ১৮০০ টাকা কক্ষের ভাড়া মাত্র ১০০০ টাকা বিনিময়ে থাকার ব্যবস্থা হয়ে যায়।

সিলেটের শিশুপার্কে সাংবাদিক নাসিম রুমি

সিলেটের শিশুপার্কে সাংবাদিক নাসিম রুমি

পরপর তিন দিন দরগা মসজিদে জামাতের সঙ্গে ফজরের নামাজ আদায় শেষে হযরত শাহ জালাল (রা) মাজার জিয়ারত করে আমি ক্ষণিকের জন্য নয় সমস্ত দিন সুখ অভিনয় করছি। মহান সৃষ্টি কর্তা ছাড়া আমি আর কাহার কাছে কোন জিনিস চাই না। এবং মাথা নতও করিনা। সিলেটে যখনি যাই, তাই হযরত শাহ জালাল (রা) ও হযরত শাহ পরানের মাধ্যমে সৃষ্টিকর্তার কাছে আমরা মনের বাসনাগুলি তুলে ধরি।

জাফলং এর সৌন্দর্যে বাম থেকে সিলেট শাখার সাধারণ সম্পাদক বাবুল লস্কর, সহ-সভাপতি ইকবাল হোসেন, নিরাপদ নিউজের সিনিয়র ও নিসচার কেন্দ্রীয় কমিটির অর্থ সম্পাদক নাসিম রুমি ও আহাদ আলী লিটন

জাফলং এর সৌন্দর্যে বাম থেকে সিলেট শাখার সাধারণ সম্পাদক বাবুল লস্কর, সহ-সভাপতি ইকবাল হোসেন, নিরাপদ নিউজের সিনিয়র ও নিসচার কেন্দ্রীয় কমিটির অর্থ সম্পাদক নাসিম রুমি ও আহাদ আলী লিটন

এবার হয়তো একটু অধিক সৃষ্টিকর্তার কাছে চেয়েছি। কারণ আমার চাওয়ার শুধু একজনের কাছেই। তিনি হলো মহান সৃষ্টিকর্তা। আমার ধারণা সৃষ্টিকর্তা মনে হয় আমার কিছু কর্মের সন্তুষ্ট। তা না হলে অনেক আগেই আমার অস্তিত্ব বিলীন হয়ে যেত। সিলেট গেলে আমি তো চা-বাগান, জাফলং ও মাধবকুন্ড জলপ্রপাতে যাবই। প্রকৃতির কন্যা সিলেটের সিংহভাগ পর্যটন স্থান আমার ভাল লাগালেও শহরের প্রাণ কেন্দ্রে ও শিশু পার্কটি আমাকে একেবারেই হতাশ করেছে।

জাফলং এ অবৈধভাবে মাটি কেটে পাথর উত্তোলন করছেন পাশে লেখক নাসিম রুমি

জাফলং এ অবৈধভাবে মাটি কেটে পাথর উত্তোলন করছেন পাশে লেখক নাসিম রুমি

গত ২৩ মার্চে সকাল আটটার সময় জাফলং এর উদ্দেশে সিলেট দরগা গেট থেকে রওয়ানা হলাম। আমার সফর সঙ্গী ছিলেন সিলেট জেলার শাখার সভাপতি আহাদ আলী লিটন, সাধারণ সম্পাদক বাবর লস্কর ও সহ-সভাপতি এবং জাতীয় পাটির আহবায়ক কমিটির যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন। প্রকৃতির কন্যা হিসেবে সারাদেশে এক নামে পরিচিত সিলেটের জাফলং।

জাফলং এ পানের বাগানে নাসিম রুমি

জাফলং এ পানের বাগানে নাসিম রুমি

খাসিয়া জৈন্তা পাহারের পাদদেশে অবস্থিত জাফলং প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের অপরূপ লীলাভূমি। পিয়াইন নদীর তীরে স্তরে স্তরে বিছানো পাথরের স্তুপ জাফলংকে করেছে আকর্ষনীয়। সীমান্তের ওপারে ইনডিয়ান পাহাড় টিলা, ডাউকি পাহাড় থেকে অবিরাম ধারায় প্রবাহমান জলপ্রপাত, ঝুলন্ত ডাউকি ব্রীজ, পিয়াইন নদীর স্বচ্ছ হিমেল পানি, উঁচু পাহাড়ে গহিন অরন্য ও শূনশান নীরবতার কারনে এলাকাটি পর্যটকদের দারুণভাবে মোহাবিষ্ট করে।

সিলেটের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার

সিলেটের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার

এসব দৃশ্যপট দেখতে প্রতিদিনই দেশী ও বিদেশী পর্যটকরা ছুটে আসেন এখনো। প্রকৃতি কন্যা ছাড়াও জাফলং বিউটি স্পট, পিকনিক স্পট, সৌন্দর্যের রানী এসব নামেও পর্যটকদের কাছে ব্যাপক পরিচিতি। ভ্রমন পিয়াসীদের কাছে জাফলং এর আকর্ষন যেন আলাদা।

সিলেট চা-বাগানে  লেখক নাসিম রুমি

সিলেট চা-বাগানে লেখক নাসিম রুমি

সিলেট এসে জাফলং না গেলে ভ্রমনই অপূর্ণ থেকে যায়। সিলেট নগরী থেকে ৬২ কিলোমিটার উত্তর পূর্ব দিকে গোয়াইন ঘাট উপজেলায় জাফলং এর রূপ লাবণ্য যেন ভিন্ন মাত্রায় ফুটে উঠে। প্রসঙ্গক্রমে উল্লেখ্য অবরোধ এবং হরতালের কারনে সৌন্দর্যের লীলাভূমি জাফলং এখন পর্যটক শূন্য।

জাফলং এ ভারতের বোর্ডারের সন্নিকটে একটি রেস্টুরেন্টে নাসিম রুমি ও ইকবাল হোসেন

জাফলং এ ভারতের বোর্ডারের সন্নিকটে একটি রেস্টুরেন্টে নাসিম রুমি ও ইকবাল হোসেন

মাধবকুন্ডের ঝর্ণায় সাংবাদিক, লেখক ও পর্যটক নাসিম রুমি

মাধবকুন্ডের ঝর্ণায় সাংবাদিক, লেখক ও পর্যটক নাসিম রুমি

নাসিম রুমি
সাংবাদিক, লেখক ও পর্যটক
০১৬৮৪৯৪১৪৭৭/০১৭১১২২৭৪২৭

পাঠকের মন্তব্য: (পাঠকের কোন মন্তব্যের জন্য কর্তৃপক্ষ কোন ক্রমে দায়ী নয়)