ব্রেকিং নিউজ
বাংলা

আপডেট ১১ মিনিট ৩০ সেকেন্ড

ঢাকা রবিবার, ১৫ চৈত্র, ১৪২৬ , বসন্তকাল, ৪ শাবান, ১৪৪১

নিসচা সংবাদ, লিড নিউজ স্টকহোম ঘোষণায় ২০৩০ সালের মধ্যে বিশ্বে সড়ক দুর্ঘটনা কমিয়ে আনতে গুরুত্বারোপ

স্টকহোম ঘোষণায় ২০৩০ সালের মধ্যে বিশ্বে সড়ক দুর্ঘটনা কমিয়ে আনতে গুরুত্বারোপ

নিরাপদ নিউজ: সুইডেনের রাজধানী স্টকহোমে অনুষ্ঠিত হলো ৩য় গ্লোবাল ইন্টার মিনিস্ট্রিয়াল মিটিং। গত ১৯ তারিখ বুধবার শুরু হওয়া মিটিংয়ের ২য় দিন ছিলো আজ ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২০। ১৪০ টি দেশের ১,৭০০জন প্রতিনিধি একত্রিত হয়ে মিটিং-এ অংশগ্রহণ করেন এবং তারা তাদের দেশের দুর্ঘটনা সম্পর্কে অনুভূতি প্রকাশ করেন। সকলের মতামতের প্রেক্ষিতে বিশ্বের দুর্ঘটনাগুলোয় শিশু ও কিশোর-কিশোরীদের অকাল মৃত্যু অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে উঠে আসে। সুইডেন সরকার এবং জাতিসংঘের আমন্ত্রণে এবার বাংলাদেশ থেকে নিসচা চেয়ারম্যান ইলিয়াস কাঞ্চন ৩য় গ্লোবাল ইন্টার মিনিস্ট্রিয়াল মিটিং-এ অংশ অংশগ্রহণ করেন।

মিটিং শেষে ইলিয়াস কাঞ্চন তার ফেইসবুক পেইজে লাইভ ভিডিওতে আসেন। এবং মিটিংয়ে অনুষ্ঠিত নানা বিষয়ের কথা তুলে ধরেন। ৩য় গ্লোবাল ইন্টার মিনিস্ট্রিয়াল মিটিংয়ে সড়ক দুর্ঘটনার উপরে বিভিন্ন বিষয়ের উপর আলোচনা হয়। ২০৩০ সালের মধ্যে সারা বিশ্বে সড়ক দুর্ঘটনা কীভাবে কমিয়ে আনা যায় তার উপর গাইডলাইন ঘোষণা দেওয়া হয়। ইলিয়াস কাঞ্চন বলেন,২০১১ থেকে ২০২০ পর্যন্ত একটি ডিটেড ডিগ্লেসন করা হয়েছিলা যেখানে সব দেশ তাদের দুর্ঘটনার হার ৫০% এ কমিয়ে আনার অঙ্গীকার করেন। সেখানে বাংলাদেশ ৫০% কমিয়ে আনতে না পারলেও একটি ডাটা থেকে দেখা গেছে বাংলাদেশ ৩০% দুর্ঘটনা কমিয়েছে। অন্যান্নদেশ গুলোও ৫০% কমিয়ে না আনলেও তারা ৭০%-৮০% দুর্ঘটনা কমিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছে। আজ যে দেশে মিটিংটি অনুষ্ঠিত হচ্ছে সেখানে দুর্ঘটনা বর্তমানে জিরো টলারেন্সে নিয়ে আসা হয়েছে। আজ অনেক দেশ থেকে আসা প্রতিনিধিরা মিটিংয়ে অঙ্গীকার করেছেন তারা তাদের দেশের দুর্ঘটনার হারও জিরো টলারেন্সে নিয়ে আসবে। ইলিয়াস কাঞ্চন বলেন, এর আগে দুবার এই মিটিংটি অনুষ্ঠিত হয় এবার এটি আজ ৩য় মিটিং অনুষ্ঠিত হচ্ছে। আজ সুইডেনে অনুষ্ঠিত মিটিংয়ে সকলের আলোচনায় যে বিষয়টি উঠে এসেছে এবং সকলে আজ অনুধাবন করছেন সড়ক দুর্ঘটনা অন্যান্য দুর্ঘটনার থেকে বেশি ক্ষতিকারক। বিশ্বে অন্যান্ন দুর্ঘটনায় যা না ক্ষয় ক্ষতি হয়ে থাকে তার ভেতর সড়ক দুর্ঘটনায় ক্ষতির পরিমাণ অনেক বেশি। দুর্ঘটনায় যুবক বয়স থেকে ৪৫বছর বয়সের মানুষ বেশি নিহত হয়ে থাকে যারা কিনা কর্মক্ষম মানুষ। যে বয়সের মানুষগুলো দেশ সমাজকে তাদের কর্মের অবদান দিয়ে দেশ ও জাতিকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারে সে বয়সের মানুষগুলো এই দুর্ঘটনায় বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। এই ক্ষতিগুলো রোধ করতে গেলে অনেক বেশি সচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে। এবারের মিটিংয়ে এবিষয়ে অনেক গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। আলোচনায় আরো উঠে আসে, শুধু মুখের কথায় মানুষকে সচেতন করা সম্ভব নয় তাই কঠোর আইন প্রয়োগ এর ওপরে গুরুত্ব দিতে হবে। দেশের দুর্ঘটনারোধে সরকারিভাবে আরো কঠোর কার্যক্রম হাতে নিতে হবে। দুর্ঘটনার মূল যে বিষয় সচেতনতার অভাব, অদক্ষ ও অশিক্ষিত চালক, ফিটনেসবিহীন গাড়ি, চালকদের প্রশিক্ষণের অভাব, যাত্রী ও পথচারীদের অসচেতনতা, দুর্নীতি, চলন্ত অবস্থায় চালকের মোবাইল ফোন ব্যবহার, অপরিকল্পিত ও ভঙ্গুর সড়ক, ওভারক্রসিং, অতিরিক্ত গতি, ওভারব্রিজের স্বল্পতা, ট্রাফিক আইন অমান্য করা, ট্রাফিক পুলিশের গাফিলতি, অনিয়ম, লাইসেন্সবিহীন গাড়ি ও চালক এবং বেপরোয়া গাড়ি চালানো। সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধে এসকল বিষয়ে সকলকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে। প্রতিটি দেশের দুর্ঘটনারোধে সে দেশের সব সেক্টরের মানুষকে এগিয়ে আসতে হবে।

ইলিয়াস কাঞ্চন আক্ষেপের সাথে এটিও বলেন,এই মিটিং-এ সরকারের একটি প্রতিনিধি দল অংশগ্রহণ করার কথা থাকলেও আমাদের দেশ থেকে কোন সরকারি প্রতিনিধি আসেননি। নরওয়ে, ইটালি, আমেরিকা সমস্ত দেশ থেকে সরকারি প্রতিনিধি দল আসলেও আমাদের দেশের কোন সরকারি প্রতিনিধি আসেননি এটি অত্যন্ত দু:খজনক। আজ এখানে মিটিংয়ে বিশ্বের বিভিন্ন ডোনাররা এসেছেন, ওয়ার্ল্ড ব্যাংক, ইউরোপিয়ান ব্যাংক তারা বলেছেন ফান্ড কোন মেটার নয়। এসব ডোনারদের সাথে অনেক দেশ চুক্তি করছে। তারা তাদের দেশের দুর্ঘটনা কমানোর জন্য ফান্ড পাচ্ছে। এই ফান্ডিং ডোনাররা আফ্রিকার মতো দেশেও ডোনেট করেছে। অথচ আজ আমাদের দেশের দুর্ঘটনা কমানোর জন্য ডোনারদের সাথে যোগাযোগ করার মতো কেউ নেই। আমরা অন্যান্য দেশের মতো তাদের হেল্ফ নিতে পারলামনা। এই ফান্ডিং ডোনারদের কাছ থেকে অর্থ নিয়ে অনেক দেশ কাজ করছে এবং আজ তারা প্রসংশিত হচ্ছেন। দেশের সড়ক সংস্কার, দুর্ঘটনায় আহতদের চিকিৎসা, দেশের গাড়ি আমদানি বিভিন্ন সেক্টরে ফান্ড প্রয়োজন। কিন্তু আজ এখানে এই ফান্ড নেবার মতো সরকারি প্রতিনিধির কোন মানুষ নেই।

পরিশেষে ইলিয়াস কাঞ্চন, সকলকে ধন্যবাদ জানান। বর্তমানে দেশে পরিবহন শ্রমিকের পক্ষ থেকে ইলিয়াস কাঞ্চনের নামে মিথ্যে বিভ্রান্তিমুলক প্রচারণা এবং মামলার হুমকি দিয়ে যাচ্ছেন এর পরিপ্রেক্ষিতে দেশবাশী নানাভাবে প্রতিবাদ জানিয়ে আসছেন। আমার পক্ষে কথা বলে পাশে থাকার আশ্বাস দিয়ে যাচ্ছেন। এসব সমসাময়িক বিষয়ে আমি সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।

(ভিডিও)

পাঠকের মন্তব্য: (পাঠকের কোন মন্তব্যের জন্য কর্তৃপক্ষ কোন ক্রমে দায়ী নয়)