ব্রেকিং নিউজ
বাংলা

আপডেট নভেম্বর ২১, ২০১৯

ঢাকা শনিবার, ২২ অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ , হেমন্তকাল, ৯ রবিউস-সানি, ১৪৪১

মতামত, লিড নিউজ ‘স্যালুট যোদ্ধা আপনাকে’

‘স্যালুট যোদ্ধা আপনাকে’

নিরাপদ নিউজ : চিত্রনায়ক ইলিয়াস কাঞ্চন। ১৯৯৩ সালে এক সড়ক দুর্ঘটনায় স্ত্রী জাহানারা কাঞ্চনকে হারিয়েছেন। এরপরই শুরু করেছিলেন নিরাপদ সড়ক আন্দোলন। তবে এমন মানুষটিকে অপমান করে বানানো পোষ্টার ঘুরছে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ফেসবুকে। ব্যবহারকারীরা এমন পোস্টারের তীব্র প্রতিবাদ ও সমালোচনা করছেন। ধর্মঘট চলাকালীন বুধবার বিকেল থেকে ফেসবুকে একটি পোস্টারের ছবি ঘুরছে। ছবিতে দেখা যায়, ইলিয়াস কাঞ্চনকে অপমান করে ড্রাইভার ও মালিকদের ঘাতক বলা হয়। পোষ্টারের নিচে গাজীপুর জেলার কথা লেখা থাকলেও তবে পোষ্টারটি কবে এবং কোথায় লাগানো হয়েছিল সে ব্যাপারে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। সড়ক পরিবহন আইন সংশোধনের দাবিতে পরিবহন শ্রমিকরা বাংলার মহানায়ক সড়ক যোদ্ধা ইলিয়াস কাঞ্চনের ছবি পুড়িয়ে বিক্ষোভ করায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন নিরাপদ সড়ক চাই’র নেতৃবৃন্দসহ চিত্রনায়ক ইলিয়াস কাঞ্চনের ভক্তগণ ও সাধারন জনসাধারন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে এখন শুধু প্রতিবাদ জানিয়ে সকলের স্টাটাস। ফেসবুক থেকে নেয়া কিছু স্টাটাস নিরাপদ নিউজে তুলে ধরা হলো:

নিরাপদ সড়ক চাই’র যুগ্ম-মহাসচিব লিটন এরশাদ তার ফেইসবুক প্রোফাইলে একটি স্টাটাসে লিখেছেন-

বাহ্ বেশতো… কাকে অসম্মান করছেন? রাস্তায় জড়ো হয়ে অযৌক্তিক দাবিতে কয়েকখানা ছবি পুড়িয়ে গলা ফাটিয়ে চিৎকার করে দিনশেষে কি পেলেন? যাদের প্ররোচণায় নিজেকে সমাজে নিন্দিত করছেন, ঘরে ভাতের চাল আছে কিনা ঐ ইন্ধনদাতারা কখনও খোঁজ নিয়েছেন কি? বলতে পারেন… আপনারা যাকে মাটিতে নামিয়ে আনতে চাইছেন তিনি হিমালয়ের মত ব্যক্তিত্ব নিয়ে আকাশচূড়ায় অবস্থান করছেন সবার ভালবাসায়… কারণ তিনি অন্যায়ের কাছে কখনই মাথা নত করেন নি… আর ভয় দেখাবেন? সৃষ্টিকর্তার প্রতি অগাদ আস্থা ও বিশ্বাসে সত্যের পথে চলছেন… একমাত্র সৃষ্টিকর্তার কাছেই তিনি দায়বদ্ধ… অতএব এসব ঠুনকো ভয় তিনি কখনও করেন নি… ২৬ বছরে জল কম ঘোলা হয়নি! কিন্তু তিনি সড়কের মড়ক বন্ধে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে বদ্ধ পরিকর… তিনি একজন যোদ্ধা… যোদ্ধারা জানেন লড়াই করে বিজয় ফিরিয়ে আনতে… লড়ছেন তিনি, লড়বেন তিনি, লড়েই যাবেন তিনি… স্যালুট যোদ্ধা আপনাকে।

রূপন্তী নামে একজন লিখেছেন, ইলিয়াস কাঞ্চন একজন এমন মানুষ যাকে টেকনাফ থেকে তেতুলিয়ার সব মানুষ সৎ ও ভাল নিষ্ঠাবান হিসেবেই চেনেন ও মানেন(শুধু যারা এখন উনার বিরুদ্ধে মিথ্যে নোংরামি করছে,করেছে আগে এরা ছাড়া)। আর এতে বিচলিত হবার কিছুই নেই।কারণ,ভাল মানুষের ভাল কাজে কিছু অমানুষ পিছু লেগে থাকবেই সেগুলি পেরিয়ে কিভাবে সফলতার শিখরে পৌঁছাতে হয় তা ইলিয়াস কাঞ্চনেরা জানেন।আর এসব কিছু বর্বর কীট ও বকলম মুর্খদের কাছে এর চেয়ে কি ই বা হোপ করা যায়।এসব পায়ে পিসে এগিয়ে যান সুপারস্টার সুপার হিউম্যান ইলিয়াস কাঞ্চন।আল্লাহ আপনার ভাল কাজের সহায় হবেন ইনশাআল্লাহ।ভালবাসা নিরন্তর।

মুজাহিদ খান নামে একজন লিখেছেন,  ছোটবেলা ইলিয়াস কাঞ্চনের সিনেমার একনিষ্ঠ দর্শক ছিলাম শুধু অভিনয় নয় মূলত তার জীবন কাহিনী এবং নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের পথিকৃৎ হিসেবে। ইলিয়াস কাঞ্চনের স্ত্রী জাহানারা কাঞ্চন নিহত হয়েছিলেন ১৯৯৩ সালে এক সড়ক দুর্ঘটনায়।
তার মৃত্যুকে ঘিরে সেদিন সারাদেশে আলোড়ন উঠেছিলো যেমন তেমনি সেই ঘটনায় পাল্টে গেছে স্বামী ইলিয়াস কাঞ্চনের জীবন।এরপর থেকে গত প্রায় আড়াই দশক ধরে তিনি চালাচ্ছেন নিরাপদ সড়কের সংগ্রাম।

বিবিসি বাংলাকে দেয়া এক সাক্ষাতকারে বলেছিলেন “যাদের ভালোবাসায় আমি ইলিয়াস কাঞ্চন তাদের বাঁচাতে যদি আমি জিরো হয়ে যাই তাতে আমার কিছু যায় আসেনা”।এমন ভাবনা থেকেই শুরু করলেন নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলন যা চালিয়ে যাচ্ছেন।তার মতে, “পরিবহন সেক্টরে যারা আছে তাদের মধ্যে তখন বদ্ধমূল ধারণা ছিলো যে সড়ক দুর্ঘটনা নিয়ে মানুষের কিছু করার নেই”।এমন প্রতিকূল অবস্থার মধ্যে শুরু করলেন সড়ক দুর্ঘটনা কমিয়ে আনতে তার সংগ্রাম।

সেই সংগ্রাম দীর্ঘদিন পর আলোর মুখ দেখে সব প্রতিকূলতার অবসান ঘটিয়ে সরকার সড়ক পরিবহন আইন বাস্তবায়নে প্রশাসনিক নির্দেশনা জারি করেন। কিন্তু এখানেই বিপত্তি পরিবহন মালিক সমিতি এই আইন মানবে না বলে দাবি তুলেছেন এবং ইলিয়াস কাঞ্চনের বিরুদ্ধে অশালীন শ্লোগান পোস্টিং করেছে যা খুবই দুঃখজনক।দীর্ঘদিন ধরে মানুষের পক্ষে কথা বলা লোকটির বিরুদ্ধে এরকম অশালীন শ্লোগান এবং পোস্টিং হতাশার। বাংলাদেশের সাধারণ জনগণের নিরাপত্তার হুমকি। এখন দেখার বিষয় সরকার জনগণের নাকি পরিবহন মালিক শ্রমিকদের!

সুমন চৌধুরী নামে একজন লিখেছেন, একজন মানুষ যখন ভাল কাজ করবে তখন কিছু দুষ্টু লোক জঘন্যতম কাজ করবে এটাই দুনিয়ার নিয়ম আর এই ছবিই তার প্রমান। একবার ভাবুন ইলিয়াস কাঞ্চন কি কারো ক্ষতি করেছে? ভাবুন তার পর বলুন কাজটি কতটা ঘৃণিত, আর যারা এমন কাজ করেছে তারা যদি বিন্ধুমাত্র চিন্তা করত তাহলে তারা বুঝতো এটা ইলিয়াস কাঞ্চনের সাথে নয় ওরা এই কাজটি নিজের সাথেই করেছেন। বাংলায় একটি প্রবাদ রয়েছে “উর্ধ মুখে থু থু ফেললে সেটা নিজের উপরেই এসে পড়ে” আজ এমন একটা ঘটনার জন্মনিল যেটা এই প্রবাদেরই মতন। আমাদের দেশ দেশে গত কিছু দিন আগে চাল হয়েছে “সড়ক নিরাপত্তা আইন” আর সেটা মানতে নারাজ আমাদের দেশের কিছু লোক। যেখানে আমাদের দেশে প্রতিদিনই সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যুবরণ করছে অগনিত মানুষ। যার কোন সঠিক হিসেব নেই। আর সেই দুর্ঘটনা প্রতিরোধ করতে দির্ঘ ২৬ বছর ধরে কাজ করে যাচ্ছেন জনপ্রিয় চিত্রনায়ক জনাব ইলিয়াস কাঞ্চন ও উনার সংগঠন “নিরাপদ সড়ক চাই” আমার প্রশ্ন হচ্ছে এই সংগঠন প্রতিষ্টা করে তিনি কি কারো ক্ষতি করছেন? নিজে ভাবুন উত্তরটা নিজেই পেয়ে যাবেন। নিরাপদ সড়ক চাই আমাকে / আমাদের শিখিয়েছে কিভাবে রাস্তায় চলাচল করলে নিরাপদের রাস্তায় চলা যাবে। হোক সে গাড়ি চালক হোক সে পথচারী, কিন্তু কেই কিছুই মানছেন না, তাই তৈরি করা হল “নিরাপদ সড়ক আইন” আমি একজন বাংলাদেশের নগন্য নাগরিক এই আইন মানি। আমি দেশের মঙ্গল চাই। আপনি উন্নত বিশ্বের দেশগুলোর দিকে তাকান সেখানেও এমন আইন রয়েছে। রাস্তায় অনিয়ম করে গাড়ি চালালে রয়েছে জরিমানা ও শাস্তির বিধান তেমনি পথচারীদের অনিয়ম করে রাস্তায় চলাচলের জন্যে ও রয়েছে জরিমানা ও শাস্তির বিধান। সরকার তো আমাদের বলেন নি তোমরা সড়কে উলটা পালটা গাড়ি চালাও কিংবা চলাফেরা কর আর আমাদের জরিমানা দাও। আরে করতে চাইলে আসুন প্রতিজ্ঞা করি সরকার কে একটি টাকাও জরিমানা দেব না আমরা নিয়ম মেনে চলব। তাহলেই বুঝব আমি বাহাদুর। “সড়ক নিরাপত্তা আইন” প্রতিষ্টিত করতে যারা সাহায্য করেছেন তাদের সকল কে ধন্যবাদ জানাচ্ছি ধন্যবাদ জানাচ্ছি বর্তমান সরকারের মাননীয় প্রধানমন্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা কে ধন্যবাদ জানাচ্ছি সংশ্লিষ্ট সকল কে। আর যারা এমন ঘৃণিত কাজ করেছে তাদের আইনের আওতায় এনে শাস্তি দাবি করছি। আর আমাদের প্রিয় জনাব ইলিয়াস কাঞ্চন স্যার আপনি একা নন আমরা আপনার সাথেই ছিলাম আছি ইনশাল্লাহ থাকব।

ফারজানা নামে একজন লিখেছেন, দু:খ, রাগ, ক্ষোভ বা অভিমান কিছুই মনের ভেতর কাজ করছেনা। সব স্বাভাবিক ঘটনা এটাই মেনে নিয়েছি। দিন শেষে এখন শুধু গর্বে বুকটা ভরে যাচ্ছে! ছবির মধ্যে জুতার মালা পরাল কিছু মানুষ রূপি অমানুষ তাতে কি বা যায় আসে। মূল বিষয় হলো এই জুতার মালা পরিয়ে তারা কি পেলো বা না পেলো কিন্তু আমরা আম জনতা আবারও বুঝতে পারলাম ইলিয়াস কাঞ্চন কতটা আকাশচুম্বি জনপ্রিয়। দিনব্যাপী সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকের টাইম লাইনে শুধু একটাই পোস্ট সবার প্রিয় মানুষটাকে অপমান করায় সবার প্রতিবাদ। আবারও আজ প্রমাণ হলো ইলিয়াস কাঞ্চন হিমালয়ের মত ব্যক্তিত্ব নিয়ে আকাশচূড়ায় অবস্থান করছেন সবার ভালবাসায়….। স্যালুট যোদ্ধা আপনাকে,আপনি আছেন ১৮কোটি জনতার অন্তরে…।

উল্লেখ্য বাংলাদেশের নতুন সড়ক পরিবহন আইনের ‘সংস্কার’-এর দাবিতে দেশের বেশ কয়েকটি জেলায় হঠাৎ করে ধর্মঘট ও কর্মবিরতি শুরু করেছে পরিবহন শ্রমিকেরা। এই ধর্মঘট ও কর্মবিরতি এমন এক দিনে শুরু হলো, যেদিন থেকে সরকার আনুষ্ঠানকিভাবে সড়ক পরিবহন আইন ২০১৮ প্রয়োগ করতে শুরু করেছে। তবে, সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে যে যত চাপই আসুক, এই আইন অকার্যকর করা যাবে না। নভেম্বর মাসের প্রথমদিন থেকে আইনটি কার্যকর করা হয়। তবে পিছিয়ে দেয়া হয় এর প্রয়োগ। আইনটি প্রয়োগে সকাল থেকে রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় বেশ কয়েকটি ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ বা বিআরটিএ।

যদি সম্ভব হয়, আমাদের ক্ষমা করে দেবেন প্রিয় ইলিয়াস কাঞ্চন

পাঠকের মন্তব্য: (পাঠকের কোন মন্তব্যের জন্য কর্তৃপক্ষ কোন ক্রমে দায়ী নয়)