ব্রেকিং নিউজ
বাংলা

আপডেট ৩৯ মিনিট ৪৩ সেকেন্ড

ঢাকা শুক্রবার, ২৭ চৈত্র, ১৪২৬ , বসন্তকাল, ১৬ শাবান, ১৪৪১

বিজ্ঞান-প্রযুক্তি, রংপুর সড়ক দুর্ঘটনা রোধে ক্ষুদে বিজ্ঞানি মাহিনের অত্যাধুনিক ‘ডিভাইস’ তৈরী

সড়ক দুর্ঘটনা রোধে ক্ষুদে বিজ্ঞানি মাহিনের অত্যাধুনিক ‘ডিভাইস’ তৈরী

তোফায়েল হোসেন জাকির, নিরাপদ নিউজ: বাংলাদেশে সড়ক দুর্ঘটনার এক মহামারিতে রূপ ধারণ করেছে। আর এই প্রাণহানী ও সড়ক দুর্ঘটনা রোধে প্রযুক্তির মাধ্যমে একটি অত্যাধুনিক ‘ডিভাইস’ তৈরী করেছেন পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট এর ছাত্র ক্ষুদে বিজ্ঞানি মাহিন মিয়া।

এই মাহিন মিয়া গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলার পাতিল্যাকুড়া গ্রামের আব্দুর জোব্বার মিয়ার ছেলে এবং কুড়িগ্রাম পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট এর ইলেক্ট্রিক্যাল বিভাগের পঞ্চম ব্যাচের ছাত্র।

এই ডিভাইস সম্পর্কে জানা যায়, ‘ড্রাইভার স্মার্ট এলার্ট সিস্টেম টু প্রিভেন্ট রোড অ্যাক্সিডেন্ট’ নামের ডিভাইসটি সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি করা হয়েছে। এটি সড়ক নিরাপদ এবং নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র। গাড়ী চালক যখন বিরতিহীনভাবে গাড়ী চালায় তখন চরম ক্লান্তি হয়ে পড়ে। ফলে চালক ঘুমে আসক্ত হয়। যার দরুণ গাড়ী চালানোর মনোযোগ হারায়ে ফেলে।

এমনকি গাড়ী নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে এবং মারাত্নক দুর্ঘটনার সম্মুখীন হয়। এছাড়া যদি কোন চালক মাদক দ্রব্য সেবন করে গাড়ী চালায় অথবা চালানো অবস্থায় মাদকসেবন করে, সেক্ষেত্রে চালকের চেতনা বিলোপ হয়। যার কারনে গাড়ীটি মারাত্নক দুর্ঘটনার সম্মুখীন হয়ে অনেক মানুষ অকালে প্রাণ হারায়। এ ধরণের মারাত্নক সমস্যা সমাধান করাই হলো এই ডিভাইসটির কাজ।

এছাড়া গাড়ী চালক যদি ঘুমন্ত অবস্থায় বা নেশাগ্রস্ত অবস্থায় গাড়ী চালায় তাহলে এই ডিভাইসটি চালককে ১৮০ ডিগ্রী কোণে সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে গাড়ীটি সতর্ক শব্দ সংকেত দিবে এবং গাড়ীর মালিক/কর্তৃপক্ষকে এসএমএস এর মাধমে বার্তা পাঠাবে। এমতাবস্থায় চালক যদি ডিভাইসটি বন্ধ রেখে গাড়ী চালু করার চেষ্টা করে তাহলে ডিভাইসটি চালু না করা পর্যন্ত গাড়ী স্ট্যার্ড নেবে না।

ডিভাইসটির সুবিধা ও উপকারিতা হচ্ছে- এটি সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে। ফলে সড়ক হবে নিরাপদ। যাত্রা হবে নিরাপদ। এর ব্যবহৃত যন্ত্রের উপকরণ হিসেবে রাস্পবেরী পাই, আরডিউনো, জিপিআরএস, অ্যাকোহোল, সেন্সর বাজার, ক্যামেরা, ফটো সেন্সর, ডিসপ্লে, ম্যাগনেটিক রীলে, পাওয়ার সাপ্লাইয়ার্স প্রভৃতি।

এসব তথ্য নিশ্চিত করে ক্ষুদে বিজ্ঞানি মাহিন মিয়া বলেন, এই ডিভাইস ব্যবহারে গাড়ী চলাচলে রুট পরিবর্তন করলে মালিক কর্তৃপক্ষকে জানাবে। গাড়ী চুরি হলে খুঁজে বের করে দেওয়া সম্ভব। গাড়ী ডাকাতির কবলে পড়লে অটোমেটিক পুলিশের ৯৯৯ নম্বরে কল যাবে। এছাড়া যাত্রীরা স্কিনে লাইভ লোকেশন এবং বর্তমান অবস্থা জানতে পারবে। যা দেশের সকলের কল্যাণে ব্যবহার হবে।

এটির গাড়ীপ্রতি প্রাথমিক মূল্য ৮০ হাজার টাকা। তবে ৫০টি গাড়ীর জন্য হলে ৫ লাখ ৮০ হাজার টাকা। পরীক্ষামূলক এ ডিভাইসটি তৈরী করা হলেও, আর্থিক সামর্থ না থাকায় বানিজ্যিকভাবে বাজারজাত করতে পারছেন না।

মাহিন মিয়া আরও বলেন, এই ডিভাইসটি বানিজ্যিকভাবে উৎপাদনে ও ব্যবহার করলে যেমন সড়ক দূর্ঘটনা রোধ সম্ভব হবে, তেমনি উৎপাদনকারিও আর্থিকভাবে লাভবান হবে। এই পরিকল্পনাটি সফল করতে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও প্রশাসনের পৃষ্ঠপোষকতা জরুরী বলে মনে করেন তিনি।

এ বিষয়ে সাদুল্লাপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. নবীনেওয়াজ বলেন, ডিভাইস তৈরীর বিষয়টি শুনেছি।

পাঠকের মন্তব্য: (পাঠকের কোন মন্তব্যের জন্য কর্তৃপক্ষ কোন ক্রমে দায়ী নয়)