ব্রেকিং নিউজ
বাংলা

আপডেট মার্চ ১১, ২০২০

ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১৯ চৈত্র, ১৪২৬ , বসন্তকাল, ৭ শাবান, ১৪৪১

নিসচা সংবাদ, লিড নিউজ সড়ক মানুষের জীবনে গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়, সেই সড়ক মৃত্যুফাঁদ হয়ে উঠেছে: ইলিয়াস কাঞ্চন

সড়ক মানুষের জীবনে গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়, সেই সড়ক মৃত্যুফাঁদ হয়ে উঠেছে: ইলিয়াস কাঞ্চন

নিরাপদ নিউজ : সড়ক যেন মৃত্যুফাঁদ হয়ে উঠেছে। বিভিন্ন গন্তব্যের উদ্দেশে মানুষ পথে বের হলেও স্বাভাবিকভাবে সেখানে পৌঁছার কোনো নিশ্চয়তা পাচ্ছে না। বেপরোয়া যানবাহন ও ক্রুটিযুক্ত সড়কের কারণে দুর্ঘটনায় প্রতিদিনই ঝরছে তাজা প্রাণ। বাড়ি থেকে বের হলেও সুস্থভাবে ফেরা নিয়ে মারাত্মক সংশয়-উদ্বেগ কাজ করছে জনমনে। দীর্ঘদিন ধরেই সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে বিভিন্ন দাবি ও সমালোচনা হলেও থামছে না সড়কে প্রাণহানির ঘটনা। গত কয়েক দিনে সড়কের ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। এ ব্যাপারে উদ্বিগ্ন নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের চেয়ারম্যান ইলিয়াস কাঞ্চন।

‘নিরাপদ সড়ক চাই’ (নিসচা)-এর প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ইলিয়াস কাঞ্চন বলেন, সড়ক নিরাপদ করার দায়িত্ব মূলত সরকারের। পাশাপাশি পরিবহন সংশ্লিষ্টদের দায়িত্বশীলতা এবং যাত্রীদের সচেতনতাও পারে সড়ক দুর্ঘটনা কমিয়ে আনতে। কিন্তু সবখানেই একটা বড়ো ধরনের উদাসীনতা বিরাজ করছে। তবে সড়কের এই বিভীষিকাময় পরিস্থিতির উত্তরণও সম্ভব। এ জন্য প্রয়োজন রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও সরকারের আন্তরিকতা। সড়ক ব্যবস্থাপনা যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে দুর্ঘটনা স্বাভাবিকভাবেই কমে আসবে। সড়ক আইন ঠিকমতো প্রয়োগ করতে হবে। বিজ্ঞানসম্মতভাবে সড়ক তৈরি করতে হবে। দক্ষ চালকদের দিয়ে যানবাহন পরিচালনা করাতে হবে। যানবাহনের ফিটনেস নিয়মিত চেক করতে হবে। এছাড়া চালকদের বাড়তি ডিউটি বা চাপ না দেওয়াসহ আরো যেসব বিষয় আছে সেগুলো ঠিকমতো বাস্তবায়ন করা হলে সড়ক দুর্ঘটনা বহুলাংশে কমে যাবে।

ইলিয়াস কাঞ্চন বলেন, সড়ক মানুষের জীবনে গুরুত্বপূর্ণ একটি অধ্যায়। কেননা প্রত্যেককেই বাড়ির বাইরে বের হলেই সড়ক-মহাসড়ক ব্যবহার করতে হয়। কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় হলো—এই সড়কের নিরাপত্তা বা নিরাপদ সড়ক নিয়ে কারোরই তেমন আন্তরিক ভাবনা নেই। আমরা দীর্ঘদিন ধরে এসব নিয়ে কথা বলে আসলেও কোনো কাজ হচ্ছে না। আমরা সামাজিক অবস্থান থেকে কী বা করতে পারি? বুকের দহন থেকে এসব নিয়ে ভাবি, কথা বলি। অনেক সময় নিজের ক্ষতি করেই নিরাপদ সড়কের জন্য কাজ করছি।

তিনি বলেন, রাজধানীর ক্যান্টনমেন্ট এলাকার একটি প্রতিষ্ঠানের দুই শিক্ষার্থীর বাসচাপায় মৃত্যুর পর ছাত্র আন্দোলনের মুখে ২০১৮ সালে সড়ক নিরাপত্তা আইন পাশ হয়। কিন্তু ২০১৯ সালের শেষ দিকে এসে আইনটি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হলেও পরিবহন মালিক ও শ্রমিকদের বিরোধিতার কারণে সেটি আর যথাযথভাবে কার্যকর হয়নি। এরই মধ্যে ন্যাশনাল রোড সেফটি কাউন্সিল দুর্ঘটনা হ্রাসে ও শৃঙ্খলা আনতে ১১১টি সুপারিশ প্রদান করেছে। গত ২৮ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রীর কাছে এই সুপারিশ হস্তান্তর করা হয় যা বাস্তবায়ন জরুরি হয়ে দাঁড়িয়েছে।

তিনি বলেন, হঠাত্ সড়কে দুর্ঘটনার ব্যাপকতায় যেসব কারণ উঠে আসছে তা হলো—সড়ক-মহাসড়কে ইদানিং মোটরবাইকসহ তিন চাকার যানবাহন চলাচল বৃদ্ধি, ব্যস্ত সড়কে স্থানীয়ভাবে তৈরি ইঞ্জিনচালিত ক্ষুদ্রযানে যাত্রী ও পণ্য পরিবহন, চালকদের মধ্যে প্রতিযোগিতা ও বেপরোয়াভাবে গাড়ি চালানোর প্রবণতা, ত্রুটিপূর্ণ গাড়ি চলাচল, অদক্ষ চালক দিয়ে গাড়ি চালানো, বিধি লঙ্ঘন করে ওভারলোডিং ও ওভারটেকিং, বিরতি ছাড়াই দীর্ঘ সময় ধরে গাড়ি চালানো, পথচারীদের মধ্যে সচেতনতার অভাব, জনবহুল এলাকাসহ দূরপাল্লার সড়কে ট্রাফিক আইন ভঙ্গ এবং বিভিন্ন স্থানে সড়কের বেহাল দশা।

পাঠকের মন্তব্য: (পাঠকের কোন মন্তব্যের জন্য কর্তৃপক্ষ কোন ক্রমে দায়ী নয়)