ব্রেকিং নিউজ
বাংলা

আপডেট ডিসেম্বর ৭, ২০১৪

ঢাকা শনিবার, ৫ মাঘ, ১৪২৬ , শীতকাল, ২২ জমাদিউল-আউয়াল, ১৪৪১

ফিচার ২০১৪ সালে সমুদ্রপথে ৫৩ হাজার মানুষের পলায়ন! যাত্রাপথে সলিলসমাধি ৫৪০ জনের

২০১৪ সালে সমুদ্রপথে ৫৩ হাজার মানুষের পলায়ন! যাত্রাপথে সলিলসমাধি ৫৪০ জনের

d51
নিরাপদ নিউজঃ ২০১৪ সালে সমুদ্রপথে আদম পাচার ও চোরাচালানের জন্য ব্যবহৃত বোটে করে প্রায় ৫৩ হাজার মানুষ বাংলাদেশ ও মিয়ানমার ছেড়ে থাইল্যান্ড ও মালয়েশিয়ায় পাড়ি জমিয়েছেন। তাদের অধিকাংশই স্থান ও বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গা মুসলমান। বোটগুলোর অধিকাংশই জরাজীর্ণ। যাত্রাপথে সলিলসমাধি হয়েছে ৫৪০ জনের। বাকিদের ভাগ্যে কি ঘটেছে, তা জানে না কেউ। উদ্বেগজনক এ পরিসংখ্যান দিয়েছে জাতিসংঘ শরণার্থী সংস্থা (ইউএনএইচসিআর)। রোহিঙ্গা মুসলমানরা মিয়ানমারের সা¤প্রদায়িক সহিংসতা এড়াতে ও বাংলাদেশে অনিশ্চিত ভবিষ্যতের কথা ভেবে থাইল্যান্ড ও মালয়েশিয়ায় পালাচ্ছেন। বাংলাদেশীরাও আরও উন্নত ভবিষ্যতের প্রত্যাশায় একই পথ ধরছেন। ইন্দোনেশিয়া ও অস্ট্রেলিয়াতেও পাড়ি জমাচ্ছে অনেকেই। এ খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি।
এর মধ্যে প্রায় ৫০ হাজার মানুষ বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্ত এলাকা থেকে পালিয়েছেন। বাকি ৩ হাজার মানুষ মিয়ানমারের সিটওয়ে এলাকা ছেড়ে যান। এর মধ্যে শুধু গত ২ মাসেই ২১,০০০ মানুষ সমুদ্রপথে দেশ দুটিতে পাড়ি জমান। ২০১৩ সালের অক্টোবর ও নভেম্বর মাসের তুলনায় এ হার শতকরা ৩৭ শতাংশ বেশি। এদিকে যে বোটগুলোতে তারা সমুদ্র পাড়ি দেন, সেগুলোর অবস্থাও জরাজীর্ণ। একই সঙ্গে দীর্ঘ যাত্রাপথে প্রয়োজনীয় পানি ও খাবারের তীব্র সংকটতো রয়েছেই। উপকূল থেকে অতিরিক্ত আরোহী বোটে ওঠানোর জন্য কোন কোন ক্ষেত্রে আদম পাচারকারীরা দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করে। তাতে কয়েক সপ্তাহও পার হয়ে যায়। সে কারণে প্রচ- দুর্ভোগ পোহাতে হয় বোটে থাকা আরোহীদের। অনেকেই প্রচ- অসুস্থ হয়ে পড়ে। ইউএনএইচসিআর বলছে, ২০১৪ সালে বঙ্গোপসাগর ও আন্দামান সমুদ্রপথে পাড়ি দিতে গিয়ে বোটডুবির কবলে পড়ে ৫৪০ আরোহী প্রাণ হারিয়েছেন।
২০১২ সালের জানুয়ারি মাস থেকে এ পর্যন্ত বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্ত এলাকা থেকে ১ লাখ ২০ হাজার মানুষ সমুদ্রপথে মালয়েশিয়া ও থাইল্যান্ডে পালিয়েছেন। আদম পাচারকারীরা প্রত্যেকের জন্য মাথাপিছু ১,৬০০ ডলার বা বাংলাদেশী মুদ্রায় ১ লাখ ২৪ হাজার টাকা নিয়ে থাকে। এদিকে থাইল্যান্ড ও মালয়েশিয়ায় পৌঁছানোর পর শ’ শ’ মানুষকে গ্রেপ্তার করেছে দেশ দুটির কর্তৃপক্ষ। গ্রেপ্তারকৃতদের কেউ কেউ শরণার্থীর মর্যাদা দাবি করছে এবং কাউকে নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হচ্ছে।

পাঠকের মন্তব্য: (পাঠকের কোন মন্তব্যের জন্য কর্তৃপক্ষ কোন ক্রমে দায়ী নয়)